বুধবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৮ | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

জমে উঠেছে ডিআরইউ নির্বাচন

প্রকাশের সময়: ২:৫৮ অপরাহ্ণ - রবিবার | নভেম্বর ২৭, ২০১৬

 dru-electionকারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি ঃ আগামী ৩০ নভেম্বর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ২০১৭ সালের এক বছর মেয়াদি কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন। ঢাকায় বিভিন্ন দৈনিক, টিভি, অনলাইন ও রেডিওতে কর্মরত প্রায় দেড় হাজার সদস্য তথা পেশাদার সাংবাদিকদের এ সংগঠনের নেতা নির্বাচিত হওয়ার জন্য ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা।

কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রার্থীরা দৌড়াচ্ছেন রাজধানীর গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোতে। শাহবাগ, কারওয়ানবাজার, তেজগাঁওসহ সাংবাদিকদের আড্ডাস্থলগুলোতে চলছে নির্বাচনী প্রচারণা। সাংবাদিকদের নতুন আড্ডাস্থল হিসেবে সরগরম হয়ে উঠেছে ইত্তেফাক মোড়ও। ইতিমধ্যে এটির নাম পরিবর্তন হয়ে এর উদ্যোক্তরা নামকরণ করেছেন ‘ইতিহাস গলি’। সন্ধ্যার পর থেকেই এসব আড্ডাস্থলে সাংবাদিকদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। প্রার্থীদের আনাগোনাও বাড়ে এসব জায়গায়। সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রার্থীরা বিভিন্ন মিডিয়া হাউসে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘোরার পর নির্ধারিত সময়ে প্রচারণাপত্র নিয়ে হাজির হচ্ছেন একুশের গলি ও ইতিহাস গলি। আর প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টা-সাড়ে ৩টা পর্যন্ত প্রার্থীদের প্রচারণার কেন্দ্র বিন্দুস্থল হয়ে ওঠে সেগুনবাগিচাস্থ ডিআরইউ প্রাঙ্গণ। ডিআরইউ ক্যান্টিন ও বাগান হয়ে পড়েছে নির্বাচনী প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দু।

চায়ের কাপে চুমুকে চুমুকে প্রার্থীদের নিয়ে ভোটারদের নানা আলোচনা-সমালোচনা। বিভিন্ন পদে প্রার্থীদের যোগ্যতার নানা দিক নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে ডিআরইউ প্রাঙ্গণ। নির্বাচনমুখর এই আলোচনার মধ্যেই প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন। ভোট চাইছেন-দোয়া চাইছেন। সব মিলিয়ে জমে উঠেছে ডিআরইউ নির্বাচন।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ২০১৭ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ কার্যনির্বাহী পরিষদের মোট ২১টি পদে ৪০ জন প্রার্থী এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তিনটি পদের একক প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ের পথে রয়েছেন। এই ৩ পদের একক প্রার্থীরা হলেন‒অর্থ সম্পাদক পদে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের মানিক মুনতাসির, ক্রীড়া সম্পাদক পদে দৈনিক কালবেলার মুজিবর রহমান ও কল্যাণ সম্পাদক পদে আমাদের অর্থনীতির আজাদ হোসেন সুমন।

ডিআরইউ-এর এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে তিনজন ও সাধারণ সম্পাদক পদে দুজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিন সভাপতি প্রার্থী হলেন‒সাবেক সভাপতি ও দৈনিক ভোরের ডাকের বিশেষ প্রতিনিধি মোস্তাক হোসেন, সাবেক সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাবের বিশেষ প্রতিনিধি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা এবং ডিআরইউ সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি ও দৈনিক করতোয়ার ঢাকা অফিসের ইনচার্জ মাহমুদুর রহমান খোকন।

তাদের মধ্যে মোস্তাক হোসেন ২০১১ সালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। শক্তিশালী ও ডায়নামিক সাংবাদিক নেতা হিসেবে পরিচিত আলমগীর হোসেনকে (বাংলানিউজের সম্পাদক) পরাজিত করে সভাপতি নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় আসেন তিনি।

অন্যদিকে সাখাওয়াত হোসেন বাদশা ডিআরইউ-এর ১৯৯৮ মেয়াদে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। এরপর ২০০০ সালে সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক, ২০০২ সালে যুগ্ম সম্পাদক, ২০০৫ সালে সাধারণ সম্পাদক ও ২০১২ ও ২০১৫ সালে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

আরেক সভাপতি প্রার্থী মাহমুদুর রহমান খোকন ২০০৩-০৪ সালে ডিআরইউ-এর সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি দুই মেয়াদে সংগঠনের দফতর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০০৯-১২ ও ২০১২-১৫ মেয়াদে ডিআরইউ সমবায় সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন খোকন।

সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাসসের দুই সিনিয়র রিপোর্টার মুরসালিন নোমানী ও সৈয়দ শুকুর আলী শুভ। মুরসালীন নোমানী এর আগে ডিআরইউ-এর সাংগঠনিক সম্পাদক ও কার্যনির্বাহী সদস্য এবং সৈয়দ শুকুর আলী শুভ দফতর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সভাপতি প্রার্থী মোস্তাক হোসেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে তিন দফা নিয়ে হাজির হচ্ছেন। তিনি বলেন, ২০১১ মেয়াদে সভাপতি থাকাকালে ডিআরইউতে আমি আধুনিক ক্যান্টিন স্থাপন, ৮টি এসি ও পর্যাপ্ত ফ্যানের ব্যবস্থা, উন্নতমানের খাবার পরিবেশসহ উন্নয়মূলক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তাবায়ন করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা অনুদান গ্রহণ করে করে তা ডিআরইউ তহবিলে এককালীন ফিক্সড ডিপোজিট করতে সক্ষম হয়েছি। আগামীতে নির্বাচিত হলে ডিআরইউ-এর তহবিলে এক কোটি টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।

এর সাথে সদস্যদের আরো তিনটি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন মোস্তাক হোসেন। তার তিনি প্রতিশ্রুতি হচ্ছে‒ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির বর্তমান ভবনের জমির দলিল আদায় করা, নিজস্ব জমিতে আধুনিক সকল সুবিধাদিসহ বহুতলবিশিষ্ট ‘ডিআরইউ হাউস’ নির্মাণ এবং ডিআরইউ সদস্যদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সদস্য পরিবারের উন্নত জীবন-যাপনের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রিপোর্টারদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন করা। নির্বাচিত হলে এই তিন দফা বাস্তাবায়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন ভোটারদের কাছে।

সাখাওয়াত হোসেন বাদশাহ বলেন, ডিআরইউ প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা পদে দায়িত্ব পালন করার সুবাদে সংগঠনের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে আমার অবদান সবারই জানা আছে। ২০০৫ সালে আমি সাধারণ সম্পাদক থাকা অবস্থায় ডিআরইউ-এর দোতলায় হলরুম নির্মাণ ও নিচে সম্প্রসারিত ভবন নির্মাণের কাজ হয়েছে। ২০১২ সালে যখন সভাপতি ছিলাম তখন সাগর-রুনি হত্যার বিচার দাবিতে সম্মুখভাগে থেকে আন্দোলনকে বেগবান করেছি। এ ছাড়া সাংবাদিক বিভাষ ও দীনেশ দাসের অকাল মৃত্যুতে তাদের পরিবারকে সহায়তার চেষ্টা করেছি সংগঠনের পক্ষ থেকে। দীনেশ দাসের স্ত্রীকে বাসসে চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রেও সংগঠনের সভাপতি হিসেবে আমার সহায়তা ছিল।

সর্বশেষ ২০১৫ সালে সভাপতি থাকা অবস্থায় সংগঠনের প্রয়াত সদস্যদের সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য ২৪ হাজার টাকা করে শিক্ষা বৃত্তি চালু এবং সদস্যদের জন্য গ্রুপ ইনস্যুরেন্স ও হেলথইনস্যুরেন্সের ব্যবস্থা করেছি। গ্রুপ ইনসুরেন্সের ফলে ডিআরইউ সদস্যদের স্বাভাবিক মৃত্যু হলে ২ লাখ টাকা এবং দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে ৪ লাখ টাকা করে পাবেন। অন্যদিকে হেলথ ইনসুরেন্সের ফলে আমাদের সদস্যরা গুরুতর অসুস্থ হলে ৭৫ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, এ দুটি ইনসুরেন্সের জন্য বড় ধরনের এফডিআর গঠন প্রয়োজন। এটি করতেই মূলত আমি এবার প্রার্থী হয়েছি। আমার বিশ্বাস সদস্যরা আমাকে সবদিক বিবেচনা করে আমাকে বিজয়ী করবেন। সব সময় আমি সাংবাদিকদের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব।

মাহমুদুর রহমান খোকন বলেন, আমি যখন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক তখন সরকারি খাসজমিতে ক্যান্টিন ও মিলনায়তন করা হয়। আজ পর্যন্ত এই জায়গাটি ডিআরইউ-এর নামে হয়নি। নির্বাচিত হলে এই জায়গাটি বরাদ্দ নিয়ে ‘ডিআরইউ ভবন’ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করব। ডিআরইউকে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।

তিনি বলেন, আমার সাথে আরও দুজন সাবেক সভাপতি এবারও সভাপতি রয়েছেন। এ পদে আমি একজন নতুন প্রার্থী। সে হিসেবে সদস্যদের কাছে অনুরোধ, আমাকে একবারের জন্য নির্বাচিত করে ডিআরইউ-এর উন্নয়নে সুযোগ করে দিন। নির্বাচিত হলে পেশাগত মানোন্নয়ন, সদস্যদের কল্যাণ তহবিল বৃদ্ধির চেষ্টা করব। এ ছাড়া সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে বরাবরই সচেষ্ট আছি, আগামীতেও সোচ্চার থাকব। সাগর-রুনির হত্যাকারীদের বিচারের আন্দোলন ত্বরান্বিত করব। ডিআরইউকে স্থায়ী ভিত্তি তথা ফাউন্ডেশন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই হবে আমার লক্ষ্য।

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মুরসালীন নোমানী বলেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) কাজের মাধ্যমে বর্তমানে একটি গতিশীল ও কার্যকরী সংগঠনে পরিণত হয়েছে। আমাদের বড় সমস্যা হলো সংগঠনের জমির বিষয়টি স্থায়ীভাবে সুরাহা না হওয়া। আমাদের জমি সমস্যার সমাধান না হওয়ায় স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। এবার সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হলে এই জমিসংক্রান্ত বিষয়টি সমাধানের জন্য সিনিয়র সদস্যদের সংযুক্ত করে বিষয়টি সমাধানের পথ খুঁজে বের করবেন বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া ডিআরইউ ক্যান্টিনে দুপুরের খাবারের পাশাপাশি সদস্যদের জন্য সকালে ও বিকেলে নাস্তার ব্যবস্থা করা, প্রয়াত সদস্য সন্তানদের বৃত্তি প্রদান ও সদস্যদের জন্য গ্রুপ জীবন বীমা কার্যক্রম আরো গতিশীল করা, ডিআরইউ সদস্যদের প্রশিক্ষণের জন্য অনুদান এনে প্রশিক্ষণের কাজে অর্থ ব্যয় করা এবং সাগর-রুনির হত্যার বিচার ত্বরান্বিত করতে অপরাপর সাংবাদিক সংগঠনসমূহের সঙ্গে আলোচনা করেধারাবাহিক ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নোমানী। একইভাবে ডিআরইউকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত করার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও জানান তিনি।

ডিআরইউকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশি করে সম্পৃক্ত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে আরেক সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী সৈয়দ শুকুর আলী শুভ বলেন, নির্বাচিত হলে ডিআরইউ-এর জায়গাটা স্থায়ীকরণের ব্যাপারে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক বান্ধব। তিনি সাংবাদিকদের কল্যাণের জন্য সব সময় পাশে থাকেন। তার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও সাংবাদিকদের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। ডিআরইউ-এর এই জায়গাটা স্থায়ীকরণে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হব। তাকে অনুরোধ করব, এই জায়গাটি ডিআরইউকে স্থায়ী বরাদ্দের ব্যবস্থা করতে।

তিনি বলেন, ডিআরইউ-এর উন্নয়নে ইনোভেটিভ কিছু করব। যাতে আমাদের এ প্রিয় সংগঠনের সদস্যরা নানাভাবে সুবিধাভোগ করতে পারেন। সদস্যদের পাশে ছিলাম, আছি এবং আগামীতেও থাকব। ডিআরইউয়ের উন্নয়ন তথা সদস্যদের কল্যাণ সাধনে আমার দিক থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

ডিআরইউ নির্বাচনে সহসভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন ৪ জন। তারা হলেন আনিসুর রহমান খান (ডেইলি ইন্ডিপেন্ডেন্ট), আবু দারদা জুবায়ের (এটিএন বাংলা), শহিদুল ইসলাম (এসবিসি৭১ডটকম) এবং ওসমান গনি বাবুল (অনলাইন টেলিভিশন চ্যানেল ২৬)।

যুগ্ম সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন দীপ্ত টেলিভিশনের শাহনাজ শারমিন ও দৈনিক খোলা কাগজের তোফাজ্জেল হোসেন।

সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন ইনকিলাবের আফজাল বারী, নয়াদিগন্তের জিলানী মিল্টন ও আরটিভির ফারুক খান। দফতর সম্পাদক হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন যমুনা নিউজ ডটকমের নয়ন মুরাদ ও সময় নিউজ ডটকমের জেহাদ হোসেন চৌধুরী।

প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কাফী কামাল (মানবজমিন) ও আমিনুল হক ভুইয়া (নবচেতনা), সাংস্কৃতি সম্পাদক পদে মিজান চৌধুরী (আলোকিত সময়), এমদাদুল হক খান (সকালের খবর), নারীবিষয়ক সম্পাদক পদে সুমী খান (সূর্যবার্তা২৪ডটকম) ও দিনার সুলতানা (বিটিভি), প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক পদে শেখ মাহমুদ এ রিয়াত (খোলা কাগজ) ও আহমেদ সিরাজ এবং আপ্যায়ন সম্পাদক পদে কামাল উদ্দিন সুমন (সংগ্রাম) ও আবু জাফর (জনতা)।

অন্যদিকে, ৭টি কার্যনির্বাহী সদস্য পদে প্রার্থী হয়েছেন ১০ জন। তারা হলেন- এসএমএ কালাম (নতুনবার্তাডটকম), সাখাওয়াত হোসেন সুমন (আলোকিত বাংলাদেশ), মাইনুল হাসান সোহেল (ইনকিলাব), হাবীব রহমান (মানবকণ্ঠ), সাঈদ খান (বৈশাখী), নুরুল ইসলাম হাসিব (বিডিনিউজ২৪ডটকম), সাইফুল ইসলাম (জিটিভি, আনিসুর রহমান নুর (নিউনেশন), রিমন মাহফুজ (আমাদের অর্থনীতি) এবং আসলাম রহমান (ভোরের কাগজ)।

উল্লেখ্য যে, আগামী ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে ১৩৩৯ জন সদস্য তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ওই দিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ডিআরইউ কার্যালয়ের একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। ভোটগ্রহণ শেষে এদিনই ফলাফল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। ভোটগ্রহণের আগের দিন ২৯ নভেম্বর সংগঠনের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ২০১৬ অনুষ্ঠিত হবে।

ডিআরইউ নির্বাচনের জন্য গঠিত পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার। কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন‒নিউজ টুডে সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, বাংলাদেশ প্রতিদিনের যুগ্ম-সম্পাদক আবু তাহের এবং সাংবাদিক নেতা এম এ আজিজ।

ডিআরইউ-এর সদস্যদের বক্তব্য, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফেসবুকসহ সামাজিক গণমাধ্যমে কাদা ছোড়াছুড়ি ও অপপ্রচার চলছে। এটা কোনোভাবেই হওয়া উচিত নয়। কারণ ডিআরইউ পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠন। এ সংগঠনে মাত্র এক বছরের জন্য নেতা নির্বাচিত হন। এখানে অপপ্রচার ও কাদা ছোড়াছুড়ি করলে পেশা এবং ব্যক্তি সম্পর্ক নষ্ট হয়, যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

সূএ

(দ্য রিপোর্ট

উপরে