বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ | ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

ক্রিকেটার সানোয়ার এর বিরুদ্দে মেয়ে নিয়ে হোটেলে রাএী যাপনের অভিযোগ!

প্রকাশের সময়: ২:১১ অপরাহ্ণ - সোমবার | নভেম্বর ২৮, ২০১৬

  42293_s1কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডিঃ  এখন পর্যন্ত ২৮ ম্যাচ মাঠে গড়িয়েছে, কিন্তু ফিক্সিং এর অভিযোগও পাওয়া যায়নি। শেষ মুহূর্তে এসে রংপুর রাইডার্সের ক্রিকেটার জুপিটার ঘোষ অভিযোগ করেছেন তাকে ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। আর তাতে রাজি না হওয়াতে তাকে দল থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। জুপিটারের অভিযোগ তাকে দলের ম্যানেজার ও জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার সানোয়ার হোসেন ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন রংপুর রাইডার্সের চেয়ারম্যান ড. কাজী ইরতেজা হাসান ও ম্যানেজার সানোয়ার হোসেন। উল্টো জুপিটার ঘোষের বিপক্ষে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ করেন ম্যানেজার।

 তিনি বলেন, ‘জুপিটার যা বলেছেন তা একেবারেই মিথ্যা। তাকে আমরা দল থেকে বিপিএল শুরুর আগেই বহিষ্কার করেছিলাম দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে। এই বিষয়ে বিসিবিও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলও অবগত আছে। জুপিটার দলের পার্টি থেকে রুমে ফিরেছিল রাত দুইটার পর। অথচ সব ক্রিকেটারকে ১২টার মধ্যে রুমে ফেরার কথা জানানো হয়েছিল। এছাড়াও পার্টিতে সে মদ খেয়ে বাজে আচরণ করছে। এমনকি তাকে আমরা রুম থেকে মেয়ে নিয়েও বের হতে দেখেছি। সে কারণে আমরা তাকে ৪ঠা নভেম্বর বহিষ্কার করি। তাকে শোকজ লেটারও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সে এতদিন পর বলছে যে তাকে ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলাম সেটি প্রতিশোধ নিতেই বলছে

বিপিএলে এসব ঘটনার শেষ দৃশ্যটা অনেক পরেই সামনে আসে। তবে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ যেহেতু আছে ঘটনার তদন্ত করে দেখবে গভর্নিং কাউন্সিল। তার আগ পর্যন্ত জুপিটার এবং রংপুরের ম্যানেজার সানোয়ার হোসেনের মাঠে আসায় নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক। সাবেক ক্রিকেটার সানোয়ার দ্বিতীয় বিপিএলে ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়ানো ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের ম্যানেজার ছিলেন।

মুঠোফোনে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কাল জুপিটার বিস্তারিত বলতে রাজি হননি, ‘আমাকে দলের একজন অনৈতিক কিছু করার একটা প্রস্তাব দিয়েছিল। আমি কাল (আজ) বিষয়টা বিসিবির দুর্নীতি দমন বিভাগকে (আকসু) জানাব। তাদের সঙ্গে কথা না বলে এ নিয়ে কিছু বলতে পারব না।’

তবে জুপিটারের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ম্যাচের আগে রংপুরের এক কর্মকর্তা নাকি জুপিটারকে বলেছিলেন, ম্যানেজারের কথা অনুযায়ী ফিক্সিংয়ে সাহায্য করলেই শুধু তাঁকে একাদশে রাখা হবে। সে প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ৫ নভেম্বর সকালে নাশতার সময় তাঁকে বহিষ্কারাদেশের চিঠি দেওয়া হয়।

কিন্তু এত দিন পর কেন আকসুর কাছে যাচ্ছেন জুপিটার? কেন আরও আগেই গেলেন না বা ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদেরও কেন জানাননি ‘অনৈতিক’ প্রস্তাবের কথা? এসবের ব্যাখ্যায় তিনি জানালেন, ‘আমার কাছে তখন কোনো তথ্যপ্রমাণ ছিল না। সেগুলোর জন্য অপেক্ষা করেছি। এখন তথ্যপ্রমাণ নিয়ে আকসুর সঙ্গে কথা বলব।’ ফ্র্যাঞ্চাইজির অন্য কর্মকর্তাদের বিষয়টি না জানানোর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন, ‘আমাকে যিনি প্রস্তাবটা দিয়েছেন, তিনিও তো ফ্র্যাঞ্চাইজিরই কর্মকর্তা! আমি কীভাবে নিশ্চিত হব অন্যরাও তাঁর সঙ্গে জড়িত নন?’

রংপুর রাইডার্সের আনা শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন জুপিটার। একদিন রাতে দেরি করে রুমে ফেরা ও রুমে অতিথি আনার কথা স্বীকার করলেও সেসবকে শৃঙ্খলাভঙ্গ বলে মানতে রাজি নন খুলনার হয়ে সাতটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা এই ক্রিকেটার। জুপিটারের দাবি, তাঁর রুমে অতিথি গেলেও সেটা ৫-১০ মিনিটের জন্য এবং ওই সময় আরও একজন ক্রিকেটারও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। হোটেলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি, ‘বিপিএলের চট্টগ্রাম পর্বের আগের ফুটেজগুলো দেখলেই সবাই পরিষ্কার হয়ে যাবেন, দলের কোন কোন খেলোয়াড়-কর্মকর্তার রুমে অতিথি গেছে। এ রকম অতিথি অনেকের রুমেই যায়।’ এ ছাড়া রংপুর রাইডার্স খেলোয়াড়দের রুমে বাইরের লোক রাখা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন এই ক্রিকেটার। ফ্র্যাঞ্চাইজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান অবশ্য জুপিটারের সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন।

২৭ বছর বয়সী ক্রিকেটার জুপিটার ঘোষের জন্ম খুলনা বাগেরহাটে। ৭টি প্রথম শ্রেণি ও ১৫টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলা ক্রিকেটার ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে আলোতে আনতে পারেনি। ২০১১ সালে প্রথম শ্রেণির ম্যাচে তার অভিষেক হয়। ৪ দিনের ম্যাচের ১২ ইনিংসে ১টি ফিফটিতে তার সংগ্রহ ১৯.১৮ গড়ে তার সংগ্রহ ২১১ রান। লিস্ট ‘এ’ ১৪ ইনিংস খেলে করেন ২৫১ রান।

উপরে