মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৮ | ২৯শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

মেয়েটি না পারছে সহ্য করতে না পারছে কিছু বলতে!

প্রকাশের সময়: ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ - মঙ্গলবার | নভেম্বর ২৯, ২০১৬

4olcmwm  কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডিঃ মানসিক রোগ আমি যদি বলি প্রত্যক মানুষই কোন না কোন ভাবেই মানসিক রোগী, আমি জানি আপনি এটা মানবেন না, না মেনে নেবারই কথা, আমি প্রমাণ করে দিব অধিকাংশ মানুষই কোন না কোন ভাবে মানসিক রোগী, মাত্র দুই মিনিটে নিমিষেই কলামটি পড়ে নিন।

আর মানসিক রোগ (Mentally disorder), এই মানসিক রোগের প্রকারভেদ আছে তার মধ্যে অন্যতম হলো obsession, সহজ বাংলায় যাকে বলে শুচিবায়ু, আরো ভালো করে বলতে হলে বলা চলে খুতখুতে স্বভাবের, চলুন কিছু উদারনের সাহায্য এই মানুষগুলি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক—-

সাইফুল গোসল করছে কিন্তু কোনভাবেই সে তার গোসল শেষ করতে পারছে না, বার বার মনে হচ্ছে দেহের কোনো না কোনো অংশে ময়লা লেগে আছে, আসিফ ঘরে তালা লাগিয়ে বাইরে যাচ্ছে কিন্তু আবার ফিরে আসছে মনে হচ্ছে ঘরে তালা লাগানো হয়নি, আবার অনেক সময় মনে হচ্ছে রুমে ভুল করে কিছু ফেলে রেখে এলাম নাকি, রুমা নিজের কাপড়-চোপড় পরিষ্কার করছে কিন্তু কোনভাবেই শেষ করতে পারছে না বার বার মনে হচ্ছে কাপড়ে তার ময়লা আছে।

রুমার মত ফারহানার ও একই অবস্থা, ফারহানা ঘর ঝাড়ু দিচ্ছে কিন্তু একই জায়গা বার বার পরিস্কার করছে মনে হচ্ছে পরিষ্কার হয়নি, নাইম এর অবস্থা আরো ভয়াবহ, রাস্তা দিয়ে হাটছে আবার পেছনে ফিরে আসছে, মাঝে মাঝে এদিক ওদিকে তাকাচ্ছে, একটি মেয়ে তার এই অবস্থা দেখে হাসছে তখন নিজেকে তার খুব অসহায় মনে হচ্ছে।

বেলাল পরীক্ষার খাতায় কোনভাবেই উত্তর লিখে শেষ করতে পারছে না, একটি প্রশ্নের উত্তর শেষ করে যখনি আর একটা লিখতে যাচ্ছে তখনি মনে হচ্ছে আগের প্রশ্নের উত্তরে কিছু না কিছু ভুল আছে।

নিতুর অবস্থা আরো ভয়াবহ, কখনো তার মনে হচ্ছে সে নিজের অজান্তেই পাপাচারে লিপ্ত, কখনো ভাবছে তার আদি সৃষ্টি ত্বত নিয়ে, কখনো নিতুর মনে হচ্ছে ধর্ম কি এগুলি কি আসলে সত্য, আবার সে ভালো কিছু দেখলে নিজেই ভেবে নিচ্ছে এই জিনিসটি বার বার না দেখলে নিজের জীবনের পরিপূর্ণতা সম্ভব না।

নিতু ভেবেই নিয়েছে সে কোনো সময় পাপ কাজ করছে আর এই পাপের কথা সে লিখে রেখেছে আর এইজন্যই বার বার পুরনো খাতা কিংবা বই খুজছে, এই পেপার কথা কেও যদি জেনে যাই সেইজন্য তার খাতা কংবা বই কাওকে ধরতে ও দিচ্ছে না, তার অন্য কোনো বন্ধুরা কাছাকাছি বসে কিছু বললে সে ভাবছে তাকে নিয়ে বোধহয় আলোচনা করছে এবং তার এই সব ঘটনা তারা সবাই জানে। নিতুর বয়ফ্রেন্ড কোনো কারণে ফোন না ধরলে কিংবা ফোন অফ থাকলে তার বারংবার মনে হচ্ছে সম্পর্ক বুজি শেষ হলো, সে হয়তো জানে তার বয়ফ্রেন্ড ফোন রিসিভ করবে না, কিংবা যদি এটাও জানে পরে রিসিভ করবে তবুও সে কল দিয়েই যাচ্ছে।

মেয়েটি না পারছে সহ্য করতে! না পারছে কিছু বলতে! এক নিদারুন মানসিক যন্ত্রনায় ভুগছে এবার যেন নেওয়া যাক এই রোগের উত্পত্তি ও প্রতিকারঃ

এই রোগের উত্পত্তির দুটো কারণ আছে বলে আমি মনে করি একটি হলো বংশগত আর একটি হলো পারিপার্শিক অবস্থার প্রভাব।

প্রতিকারঃ এই রোগের নিদিষ্ট কিছু চিকিত্সা আছে তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ওষুধ প্রয়োগে মাত্র ২৫% কাজ হয় আর বাকি ৭৫% কাজ হয় নিজের মনোবলের উপর, ডাক্তার আপনাকে দিতে পারে ক্লোফ্রানিল, আনাফ্রানিল, ক্লোফিক্জল,প্রদীপ, দিসোপান, পেস।

এই সমশ্রেণীর ওষুধ গুলো ডাক্তার আপনাকে দিতে পারে,আর মানসিক পরামর্শের ক্ষেত্রে আপনাকে চিন্তার উদ্দিপন বন্ধ করার জন্য একই চিন্তা বা কাজ আরো বেশি করে করতে বলবে, সর্বশেষ দেখা যাবে আপনি নিজেই ক্লান্ত হয়ে কাজগুলো কিংবা চিন্তা করা বাদ দিয়েছেন আপনাকে পরামর্শ দিবে যে এই কাজগুলো করা নিছক বোকামি ছাড়া আর কিছুই না,নিজের মনোবল শক্ত করার জন্য যথেষ্ট পরামর্শ দিবে, মনোযোগ সহকারে শুনলে আপনারই কাজে লাগবে যদি সঠিক ট্রিটমেন্ট না পাই এই রুগীরা তাহলে পারিবারিক এবং সমাজ জীবনে অনেক অসহায় হয়ে পড়ে স্বামী স্ত্রী কে ছেড়ে চলে যাই কিংবা স্ত্রী স্বামী কে ছেড়ে চলে যাই।

সুতরাং, সাবধান থাকুন, আজই ভাবুন আপনি স্বাভাবিক সুস্থ আপনার কোনো প্রবলেম নেই, এই চিন্তা কিংবা কাজগুলো নিতান্তই বোকামি ছাড়া কিছুই না……

 

উপরে