রবিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৮ | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

৩ ডিসেম্বর কোটালীপাড়া মুক্ত দিবস

প্রকাশের সময়: ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ - শনিবার | ডিসেম্বর ৩, ২০১৬

high_court_32097_1480228787কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:

গোপালগঞ্জ: শনিবার (৩ ডিসেম্বর) গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে কোটালীপাড়া হানাদার মুক্ত হয়েছিল। এদিন কোটালীপাড়া উপজেলায় বয়ে গিয়েছিল আনন্দের বন্যা। অনেক দুঃখ আর বেদনার পরও সেদিন এলাকার মানুষের মধ্যে ছিল আনন্দ আর উল্লাস। কোটালীপাড়াবাসী পেয়ে ছিল মুক্তির স্বাদ।

এদিন সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কাকডাঙ্গা রাজাকার ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধারা হামলা চালিয়ে ক্যাম্পটি দখল করে নেয়। ক্যাম্পের রাজাকার সদস্যরা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। আর এই দিন সর্বপ্রথম গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা হানাদার মুক্ত হয়।

নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে এ বছর হেমায়েত বাহিনী কোটালীপাড়া মুক্ত দিবস পালন করবে। এ উপলক্ষে উপজেলার টুপুরিয়া গ্রামে নির্মিত হেমায়েত বাহিনী স্মৃতি যাদুঘর চত্বরে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

জানা গেছে, যুদ্ধকালীন সময়ে এ অঞ্চলে পাকবাহিনী ও তাদের দোষররা ছিল খুব শক্ত অবস্থানে। আর সে কারণে কোটালীপাড়ার সন্তান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সৈনিক হেমায়েত উদ্দিন যুদ্ধ শুরু হলে দেশে পালিয়ে আসেন। গড়ে তোলেন নিজস্ব বাহিনী। সাড়ে ৩ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন হেমায়েত বাহিনী। কোটালীপাড়ায় তিনি একটি ট্রেনিং ক্যাম্পও গড়ে তোলেন। যেখানে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরকেও যুদ্ধের ট্রেনিং দেয়া হতো।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বেশ কয়েকটি সম্মূখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয় হেমায়েত বাহিনী। উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ হয় হরিনাহাটি, মাটিভাঙ্গা, বাঁশবাড়িয়া, ঝনঝনিয়া, রামশীল, জহরের কান্দি, কোটালীপাড়া সদর প্রভৃতি স্থানে। এ ছাড়া ছোট যুদ্ধ হয়েছে বেশ কয়েকটি। আর এসব যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন হেমায়েত বাহিনী প্রধান হেমায়েত উদ্দিন বীর বিক্রম।
কোটালীপাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সামচুল হক বলেন, ৭২টি গ্রুপের সমন্বয়ে গঠিত এই হেমায়েত বাহিনী যুদ্ধ করেছিল মুক্তিযুদ্ধের রনাঙ্গণে। এই বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ হাজার। তার মধ্য থেকে হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে ১৮ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন আর আহত হন আরও ২৪ জন।

কোটালীপাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আবুল কালাম দাড়িয়া বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে হেমায়েত বাহিনীর সদস্যরা ১৩৪টি অপারেশন পরিচালনা করেন। এর মধ্যে রামশীলের যুদ্ধ অন্যতম। এই যুদ্ধটি অত্র অঞ্চলে ঐতিহাসিক রামশীলের যুদ্ধ বলে পরিচিত। হেমায়েত বাহিনীর প্রধান হেমায়েত উদ্দিন ঐতিহাসিক রামশীলের যুদ্ধে মারত্মকভাবে আহত হন। মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ অবদানের কারণে দেশ স্বাধীন হবার পর হেমায়েত উদ্দিনকে ‘বীর বিক্রম’ খেতাবে ভুষিত করা হয়।

উপরে