শনিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ | ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

আজ ভৈরব মুক্ত দিবস

প্রকাশের সময়: ১২:১৪ অপরাহ্ণ - সোমবার | ডিসেম্বর ১৯, ২০১৬

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:
ভৈরব: স্বাধীনতা রক্ত সূর্য্য উদয় ও বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বর হলেও ভৈরব শহর শত্রুমুক্ত হয় ১৯ ডিসেম্বর। এ সময় পাকসেনারা তাদের হাই কমান্ডের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ভৈরবে আত্মসমর্পণ করে। এর আগে ভৈরবে অবস্থানরত পাকিস্তানীরা বিশ্বাস করতে পারছিল না তারা পরাজিত হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর রেডিওতে ঘোষণার পরও তারা ৩ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর ১৯ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করে তাদের অস্ত্র মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেয়।

‘জয় বাংলা মাত বলো, দু’দিনকো চান্দিরা, ফের আন্ধিরা, ইষ্ট পাকিস্তানমে হামলোক ফের আয়েগা”- একাত্তরের ১৯ ডিসেম্বর ভৈরব মুক্ত হওয়ার প্রাক্কালে পাকিস্তানী আর্মির বিগ্রেডিয়ার মোঃ আনোয়ার উচ্ছ্বসিত মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে কথাগুলো বলতে বলতে শেষ বারের মতো ভৈরবের মাটি ত্যাগ করে রামনগর ব্রিজ পেরিয়ে নরিসংদীর উদ্দেশ্যে হেঁটে সদলে রওনা হন। চারদিকে ভৈরবের দামাল তাজাপ্রাণ মুক্তিযোদ্ধারা ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করে তোলে। মহান মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯ ডিসেম্বর ভৈরবের সাধারণ মানুষ শহরে প্রবেশ করে। ভৈরবের পাকবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের বেশ কয়েকবার সম্মুখ যুদ্ধে ৩০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা নিহত হন। এসব যুদ্ধে প্রায় ৫০ জন শত্র“সেনাও মারা যান। সে সময় ভৈরব থেকে প্রায় এক হাজার তরুণ মুক্তিযোদ্ধা দেশমাতৃকার লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলেন।

পাকসেনাদের হাই কমান্ড ১৮ ডিসেম্বর রাতেই বিকল্প ব্যবস্থায় ভৈরবে সংবাদ পাঠানোর পর হানাদাররা ১৯ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করে। ফলে ভৈরব শহর শত্রুমুক্ত হয়। আনন্দে আত্মহারা হয় শহর ও গ্রামবাসী। তাদের পরিবারের সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধের সময় শহীদ হয়েছিল তারা আনন্দিত হলেও তাদের মুখে ছিল বিষন্নতার ছাপ। তবুও তারা আনন্দে মেতে উঠেছিল। ১৯ ডিসেম্বর সকালেই মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা ভৈরব শহরে প্রবেশ করে।

রাজীবুল হাসান
ভৈরব প্রতিনিধি

উপরে