শনিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ | ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

আত্রাইয়ে কুমড়োর বাড়ি তৈরি করে স্বাবলম্বী অনেক পরিবার।

প্রকাশের সময়: ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ - শনিবার | ডিসেম্বর ৩১, ২০১৬

কারেন্টনিউজ ডটকমডটবিডি: নওগাঁর আত্রাই উপজেলার কুমড়ো বড়ি তৈরি ও বিক্রয় করে  এখন অনেক পরিবার স্বাবলম্বী। সরেজমিনে উপজেলার সাহেবগঞ্জ পালপাড়ায় গিয়ে দেখা যায় ৬/৭টি পরিবারকে কুমড়ো বড়ি তৈরি করতে। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায় , তাদের এ কুমড়ো বড়ি তৈরি করার আগে পারিবারিক অবস্থা তেমন স্বচ্ছল ছিল না। সংসারে সব সময় অভাব –অনাটনে হাহাকার যেন লেগেই থাকতো। এক বেলা পেট ভরে খেলে অন্য বেলায় খেতে পারবে কি না তা নিয়ে শংকায় থাকতে হতো তাদের। কিন্তু বর্তমানে কুমড়ো বড়ি তৈরি করে তারা এখন স্বাবলম্বী।
এই কুমড়ো বড়ি তৈরি করতে হয়, ডাউল ভিজিয়ে রৌদ্রে শুকিয়ে গুরো করে ছোট ছোট বড়ি করে পরে টিনের উপর কিংবা বাঁশের চাটাই বা মাচার উপর শুকানো হয়। আগের দিনে ডাউল শিল পাটায় পরিবারের মেয়েরা সারা রাত ভর গুরো করে তা সারা দিন রোদ্রে শুকানোর পর কুমড়ো বড়ি তৈরি করতো। কিন্তু বর্তমানে সরকারের উন্নয়নের ভাবনায় দেশ ডিজিটালের সাথে সাথে কুমড়ো বড়ি তৈরি করার যন্ত্রও যেন ডিজিটাল হয়েছে।  এখন আর রাত ভর শিল-পাটায় ডাউল গুরো করতে হয়না। ডাউল গুরো করার মেশিনের সাহায্যে ঘন্টার মধ্যই অনেক ডাউল গুরো করে বড়ি তৈরি করা যায় এমনটাই জানালেন উপজেলার সাহেবগঞ্জ পালপাড়ার এক কুমরো বড়ি তৈরি কারিগর ।
কুমড়ো বড়ি তৈরির কারিগর নারায়ন চন্দ্র বৈরাগীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, কুমড়ো বড়ি তৈরি করতে প্রথমে তাদের প্রচুর পরিশ্রম করতে হতো। কিন্তু এখন ততটা পরিশ্রম করতে হয় না। কেননা এখন মেশিনের মাধ্যমে ডাল ফিনিস করা হয়, শুধু হাতের মাধ্যমে বড়ি তৈরি  করতে হয়।
কুমড়ো বড়ি  তৈরির আরেক কারিগর শ্রী গোপাল চন্দ্র বৈরাগী জানান, বড়ি তৈরিতে আমাদের পাশা পাশি পরিবারের নারীরাও কাজ করে  থাকে। আমি এক দিনে আমার চাতালে ১০০ তেকে ১২০ কেজি কুমড়ো বড়ি তৈরি করতে পারি। তারা হাট বাজারে কুমড়ো বড়ি খুচরা বিক্রয় করে ১৬০-২০০ টাকা কেজি এবং ঢাকা থেকে পাইকার এসে পাইকারী নেন ১২০/১৩০ টাকা কেজি দরে। বড়ি সারা বছর তৈরি করা গেলেও এটা শীতের সময়টাতে বেশী তৈরি করা হয়। কারণ এটি শেিতর সময় রান্না কওে খেতে বেশি সুস্বাদু রাগে।
কুমড়ো বড়ি তৈরি করে যেমন সমাজে বেকারত্ব দূর হচ্ছে। অভাব-অনটন দূর  হচ্ছে। সংসারের অনেকটা স্বচ্ছলতা আসছে। তেমনি অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হওয়া যাচ্ছে। অপর দিকে কুমড়ো বড়ি দিনে দিনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই কুমড়ো বড়ি।

উপরে