শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ | ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

মাগুরা জেলা মানবাধিকার সংস্থার প্রচেষ্টায় বন্ধ হলো বাল্য বিবাহ

প্রকাশের সময়: ২:৫৮ অপরাহ্ণ - শনিবার | জানুয়ারি ৭, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি মাগুরা জেলা প্রতিনিধিঃ

মিতু খাতুন নামে ৬ষ্ট শ্রেণীর ছাত্রীর বিবাহ মাগুরা জেলা মানবাধিকার সংস্থার প্রচেষ্টায় বন্ধ করে দিল মাগুরা শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সোনিয়া হাসান। গতকাল বৃহস্পতিবার মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার রাধানগর বিশ্বাস পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

বিভিন্ন সূত্রে খবর পেয়ে মাগুরা জেলা মানবাধিকার সংস্থার কর্মীরা বেশ কয়েকদিন যাবৎ মিতুর বাড়ি নজরদারিতে রেখেছিল। গতকাল সকাল থেকে এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ আজমুল হক এর সাথে সংস্থাটির আলাপচারিতার পর দুপুরে মাগুরা জেলা মানবাধিকার সংস্থার সম্পাদক বাহারুল ইসলাম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম মোতাসিম বিল্লাহ রিফাত, জেলা মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা তাসমিন আলী, সোনিয়া সুলতানা, হাসি রানী, আনারুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন কর্মী মাইক্রোবাসযোগে ঘটনাস্থলে পৌছায়। তারা বাড়ির সামনের ফটক দিয়ে ঢুকে দেখতে পায়- বাড়ির পিছনের পথ দিয়ে মেয়েটিকে নিয়ে শ্রীপুর ইউএনও’র গাড়ি বেরিয়ে গেলো। ঘটনাস্থলে দু’জন পুলিশ অফিসার এসআই মোসলেম ও এএসআই নাজিমকে পাওয়া গেলেও তারা মানবাধিকার কর্মীদের কোন তথ্য দিতে পারে নাই।

মেয়ের পিতা-মাতা, মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিকদের বিলম্বে ইউএনও অফিসে পৌছানোর কারণে বিকাল ৩টা ৪০মিনিটে অফিস কক্ষে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। আদালতে মেয়ের জন্ম নিবন্ধনে ২০০১ এর পরিবর্তে ১৯৯৮ সাল করে টেম্পারিং ফটোকপি ও বিবাহ ঘোষণার নোটারী এফিডেভিট ১৫০টাকার দলিল হাজির করা হয়।

আদালত পরিচালনাকালে মাগুরা শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া হাসান জানান, এখন নোটারীর মাধ্যমে বিবাহের কোন বৈধতা নেই। তখন মানবাধিকার কর্মীরা মৌখিক ভাবে নোটারীর সাথে জড়িত এ্যাডভোকেটগনের লাইসেন্স বাতিলের জন্য জোর সুপারিশ করলে আদালত এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন বরাবরে আবেদন করবে বলে আশ্বস্থ করেন।  মানবাধিকার কর্মীরা শ্রীপুর মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সম্পর্কে অভিযোগ তোলেন- আমরা যদি মাগুরা জেলা সদর থেকে এসে শ্রীপুরকে সংবাদ জানাই, তাহলে শ্রীপুর মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শ্রীপুর সম্পর্কে কতটুকু খবর রাখেন?

আদালত তাৎক্ষনিক বিচারে মেয়ের পিতা মোঃ নজরুল ইসলামকে বাল্য বিবাহ আইন ১৯২৯ এর ৬ ধারা মোতাবেক ১,০০০/= ও সার্টিফিকেট আইন ২০০৪ এর ২১ ধারা মোতাবেক ৩,০০০/= মোট ৪,০০০/= সর্বনিম্ন জরিমানা করেন। তবে যে বা যারা এই কাগজ টেম্পারিং এর সাথে জড়িত প্রমাণসহ তাদের ধরা সম্ভব না হওয়ায় তাদের শাস্তি ব্যতিরেকে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের সমাপ্তী ঘোষণা করেন।

উপরে