সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

গুলিস্তানে উচ্ছেদ ছয়শ দোকান, অক্ষত যুবলীগ কার্যালয়

প্রকাশের সময়: ৬:৩১ অপরাহ্ণ - সোমবার | জানুয়ারি ১৬, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকমডটবিডি: রাজধানীর গুলশানে কর্মদিবসে হকারদেরকে বসতে দেয়া হবে না-এমন ঘোষণা দিয়ে তা বাস্তবায়নে এবার বেশ আন্তরিক সিটি করপোরেশন। অবৈধ দোকান উচ্ছেদে গত দুই দিন ধরে গুলিস্তান থেকে মতিঝিল পর্যন্ত অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। মানুষের চলার পথ নির্বিঘ্ন করতে গত দুই দিনে উচ্ছেদ হয়েছে এক হাজারেরও বেশি দোকান। কিন্তু উচ্ছেদ করা গেল না গুলিস্তানে যুবলীগের একটি অবৈধ কার্যালয়।

গুলিস্তান মোড় থেকে নবাবপুর রোডে ডানপাশের ফুটপাত ধরে চলতে গেলেই দেখা মিলবে ২০নং ওয়ার্ড যুবলীগের এক নম্বর ইউনিটের কার্যালয়টি। চলার পথে ওই কার্যালয়টি কবে নির্মাণ করা হয়েছে সেটি বলতে পারছেন না কেউ। তবে সেখানে নিত্যদিন ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা আড্ডা দেন।

উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এই কার্যালয়টি উচ্ছেদের নির্দেশ দেন সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খান মোহাম্মদ নাজমুস সোয়েব। তবে তিনি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেননি। অন্য স্থাপনা উচ্ছেদ হলেও এটি কেন এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে-গণমাধ্যমকর্মীদের এমন প্রশ্নের মুখে ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘আমাদের অভিযান শেষ হয়নি, লেটস সি’। এরপর তিনি কার্যালয়টি উচ্ছেদের আদেশ দেন।

কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ান ২০নং ওয়ার্ডের ১নং যুবলীগ ইউনিটের সভাপতি নুর ইসলাম। তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে বুলডোজারের সামনে গিয়ে দাঁড়ান। বলেন, ‘এটা যুবলীগের কার্যালয়, এটা ভাঙা যাবে না। আমাদের এই কার্যালয় অবৈধ নয়।’ তাদের বাধার মুখে পিছু হটতে বাধ্য হন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুস সোয়েব।

এ সময় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও ডিএসসিসির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তারা যুবলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশনেই যায়নি। আবার যুবলীগ কর্মীদের বাধার মুখে তারা পিছু হটেন ম্যাজিস্ট্রেট, সিটি করপোরেশনের বুলডোজার আর পুলিশ।

পরপর দ্বিতীয় দিন এই উচ্ছেদ অভিযানের নেতৃত্ব দেন ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুস সোয়েব ও মামুন সর্দার। নাজমুস সোয়েব সাংবাদিকদের বলেন, ‘মেয়রের নির্দেশে গুলিস্তান-মতিঝিল এলাকার ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদের কাজ শুরু হয়েছে। আমরা অভিযানের দ্বিতীয় দিন আজ গুলিস্তান থেকে উচ্ছেদ শুরু করেছি। যতক্ষণ পর্যন্ত ফুটপাত হকারমুক্ত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

যুবলীগের অবৈধ কার্যালয়টি কেন ভাঙা হলো না- এমন প্রশ্নের জবাবে ম্যাস্টিস্ট্রেট খান মোহাম্মদ নাজমুস সোয়েব ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমি তো ওই কার্যালয় ভাঙার আদেশ দিয়েছি। ওখানে তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য অনেক ছিল, তারা কিছুই বলছে না। সব দায়দায়িত্ব কি আমার একার? আমি কী করতে পারি, আপনিই বলেন?’

পল্টন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আজকে ঢাকা সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শতভাগ সহযোগিতা করেছে। কোন স্থাপনা ভাঙবে, কোনটা ভাঙবে না সেটা ম্যাজিস্ট্রেটের বিষয়।’

দুপুরে নগরভবনে মেয়র সাঈদ খোকনের সংবাদ সম্মেলনে যুবলীগের কার্যালয় না ভাঙার বিষয়টি তোলা হয়। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের নামধারী কিছু নেতাকর্মী আছে। তারা যদি কোনো ধরনের অবৈধ স্থাপনা করে, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। কে কোন দলের সদস্য তা বিবেচনা করা হবে না। জনগণের জন্য যা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে তা সিটি করপোরেশন উচ্ছেদ করবে।’

উচ্ছেদ অভিযানের প্রথম দিনও পাঁচ শতাধিক অবৈধ দোকান উচ্ছেদ হলেও পল্টন মোড় এলাকায় একটি দোকানকে কিছুই করেনি পুলিশ।

প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার অভিযানের শেষ দিকে উচ্ছেদকারী দল যখন পল্টন চলে এসেছে তখন উপপরিদর্শক ফারুক অন্যদেরকে উদ্দেশ্য করে একটি বক্তব্য ছুঁড়েন। তিনি বললেন, ‘ওনাদেরকে বলেন এই দোকানটার দিকে লক্ষ্য রাখতে। এটা আমাদের শাহিনের দোকান।’ পরে সেখানকার এক পুলিশ সদস্য বলেন, ‘ঠিক আছে স্যার। আমরা দেখব।’

গুঁড়িয়ে দেয়া হলো অন্য সবকিছুই

গত রবিবার সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযান চলেছে মতিঝিল থেকে পল্টন মোড় পর্যন্ত। দ্বিতীয় দিন সোমবার অভিযান চলে গুলিস্তানের বিভিন্ন সড়কে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ, সিটি করপোরেশনের বুলডোজার দেখে ফুটপাত থেকে হকাররা তাদের মালামাল নিয়ে সটকে পড়ে। তবে তাদের রেখে যাওয়া চৌকি, বক্স বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী গুলিস্তান, মতিঝিল ও তার আশপাশের সড়কগুলোর ফুটপাত দখলমুক্ত করতে পাঁচটি হলিডে মার্কেট চালু ও হকার তালিকা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। মার্কেটগুলো চালু করতে ১১ জানুয়ারি নগরভবনে হকার নেতাদের সঙ্গে বৈঠকও করেন মেয়র খোকন। বৈঠক শেষে গত ১৫ জানুয়ারি রবিবার থেকে অফিস চলাকালে রাজধানীর গুলিস্তান, মতিঝিল ও রমনা এলাকায় কোনো হকার বসতে দেয়া হবে না বলে ঘোষণা দেন তিনি।

তবে হকারদের আরেকটি সংগঠন এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করার কথা বলে তা প্রতিহতের ঘোষণা দেয়। সেই সঙ্গে আগের মতো ফুটপাতে পণ্য নিয়ে বসা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলে তারা। বাধা পেলে নগরভবনের সামনে অবস্থান করার ডাক দেয় তারা। তবে এর কিছুই পারেনি তারা। সিটি করপোরেশনের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাপ্তাহিক ছুটির দিন যেকোনো সময় এবং কর্মদিবসে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার পর ফুটপাতে পণ্য নিয়ে বসতে পারবেন হকাররা।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে