রবিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৮ | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

নূর হোসেন আমাকে শারীরিক মানসিক যন্ত্রণা দিয়েছে: নীলা

প্রকাশের সময়: ৮:০৯ অপরাহ্ণ - বৃহস্পতিবার | জানুয়ারি ১৯, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকমডটবিডি: নূর হোসেনকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হলেই চলে আসে তার বান্ধবী সাবেক মহিলা কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৌস নীলার নামটি। ৭ খুনের ঘটনার পর দেশের মিডিয়ায় বেশ আলোড়ন তুলেছিল সুন্দরী এই রমণীকে নিয়ে নূর হোসেনের নানা প্রেম কাহিনী। যদিও নীলা বরাবরই দাবি করে এসেছেন, তার ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও নূর হোসেন তাকে বিয়ে করেছিলেন এবং এক পর্যায়ে নূরকে ভালোও বেসেছিলেন নীলা।

মিডিয়ায় নীলাকে নিয়ে নানা কাহিনী আর রসাÍক ঘটনা প্রকাশের পর মিডিয়া থেকে বিমুখ হয়েছিলেন নীলা। মিডিয়া কর্মীদের ওপর অনেক ক্ষোভ নিয়েই তাদের এড়িয়ে চলতেন তিনি। ৭ খুনের রায়ের পর আবারও নীলা প্রসঙ্গ এসেছে।

রায়ের ব্যাপারে নীলার অভিব্যক্তি জানতে অনেক মিডিয়াই তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করে। কারও কাছে বলেছেন, নিজের অভিমত আবার অনেককে দেখাও দেননি তিনি। যুগান্তরকে জানিয়েছেন, নৃশংস এই হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে যারাই জড়িত তাদের সবারই যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়। অকপটে বললেন নীলা সেই পুরনো স্মৃতির কথা, যা তাকে তিক্ত অভিজ্ঞতাই বেশি দিয়েছে। নূর (নূর হোসেন) আমাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে অনেক যন্ত্রণাই দিয়েছে। তবে সবাই যাকে ভয় পেত, সেই নূর হোসেনই আমাকে ভয় পেত। যতবারই তার অফিসে গিয়েছি টেবিলের ওপর থেকে লাইসেন্স করা পিস্তলটি সে ড্রয়ারে তালাবদ্ধ করে রাখত। আমার সামনে তা রাখত না। কারণ আমার ওপর করা অন্যায়ের কারণে সে মনে মনে ভীত ছিল। তবে আমিও তাকে ছাড়িনি। বাধ্য হয়ে আমিও তাকে অনেক অপমান করেছি।

নীলা বললেন, সেভেন মার্ডারের সঙ্গে যারাই যুক্ত ছিল তাদের সবারই যেন সর্বোচ্চ সাজা হয়। তা কামনা করেছি। কারণ সেভেন মার্ডারে শুধু সাতটি জীবনই নষ্ট হয়নি, নষ্ট হয়েছে সাতটি পরিবার। প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিজের পরিচয় থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল তাকে অপহরণ করতে চেয়েছিল কিছু দুর্বৃত্ত। তাদের প্রশাসনের লোক বলেই চিনতে পেরেছেন।

রাজনৈতিক নেতাদের বিষয়টি অবহিত করেছিলেন নীলা। আরও বললেন, নূর হোসেন আমার সঙ্গে কারও সখ্যই পছন্দ করত না। সিটি কর্পোরেশনের কোনো পুরুষ কাউন্সিলর আমার সঙ্গে হেসে কথা বললেও তার কাছে খবর চলে যেত।

মিডিয়ার ওপর তার ক্ষোভ ও কষ্ট আছে জানিয়ে নীলা বললেন, নূর ও আমাকে নিয়ে অনেক পত্রিকা অনেক কল্পকাহিনী লিখেছে। আমি একজন নারী, মায়ের, বোনের, স্ত্রীর জাতি। আমাকে ‘রক্ষিতা’ বলে আখ্যা দেয়ার আগে সেসব মিডিয়াকর্মীদের ভেবে দেখা উচিত ছিল তাদের ঘরেও নারী আছে।

উপরে