শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

ফেসবুকে মিথ্যা স্ট্যাটাস , প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের রাজাকার বানানোর অভিনব ষড়যন্ত্র

প্রকাশের সময়: ১২:৫৩ অপরাহ্ণ - সোমবার | জানুয়ারি ২৩, ২০১৭

 কারেন্টনিউজ ডটকমডটবিডি:
মশিউর নেরু : প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই বাছাইয়ে বিএনপি- জামায়াতীচক্র নতুন করে অভিনব পন্থায় ফের গভীর ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তাদের ষড়যন্ত্রের অভিনব পন্থাটি হল প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা অর্থাৎ যারা আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেন তাদের নানাভাবে রাজাকার বানিয়ে বেনামে বিভিন্ন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়া হচেছ। এ সংক্রান্ত মিথ্যা খবর কিছু কিছু অন লাইনেও প্রকাশ করা হচেছ। একই সঙ্গে রাজাকারদের সমাজের ভালো মানুষ বানিয়ে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার সর্টিফিকেট বানিয়ে নতুন যাচাই বাছাইয়ে তাদের নাম অন্তর্ভুক্তির অপচেষ্টা শুরু করেছে। একটি দায়িত্বশীল সূত্রে এ খবর জানা গেছে।


প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা যাতে বাদ না পড়ে এবং ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে বাদ দেয়ার জন্য সরকার নতুন করে সারাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল যাচাই বাছাই সংক্রান্ত একটি কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি গত কয়েকদিন ধরে সারাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে। কমিটিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা রয়েছেন।
সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের বিতর্কিত করতে এবং বিভিন্ন এলাকায় ভুয়াদের অর্থাৎ যারা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করেননি তাদের মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা করছে। এতে একদিকে যেমন মুক্তিযোদ্ধা সেজে ভেতর থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের বিতর্কিত করা হবে অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধা হয়ে মাসিক ভাতাসহ নানা সুযোগ সুবিধা ভোগ করবে। এ ধরণের গভীর ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি এবং তাদের দীর্ঘকালের রাজনৈতিক মিত্রশক্তি স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতে ইসলামী।
এদিকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী অ ক ম মোজাম্মেল হক সতর্ক করে বলেছেন, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বানানোর জন্য যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেবেন ওই সব মুক্তিযোদ্ধদের ভাতা এক থেকে তিন বছর বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া আইন ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে। মন্ত্রী গত শনিবার এক অনুষ্ঠানে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতি শনিবার এ কার্যক্রম চলবে। এতে কোনো অসত্য তথ্য দেওয়া হলে তার জন্য শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
বর্তমানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারি দল আওয়ামী লীগ। স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এ সরকারের প্রধানমন্ত্রী। তিনি ক্ষমতাসীন হয়ে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান দেখিয়েছেন। প্রায় দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধাকে মাসিক ভাতা দেয়া হয়। সম্প্রতি মাসিক ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে মাসে ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে। ’৭১ সালের যারা রণাঙ্গনে অস্ত্র হাতে নিয়ে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন শুধু তারাই নয়, যারা মুক্তিযোদ্ধাদের নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন এবং যে সমস্ত নারী ৭১ সালে পাকিস্তান হানদার বাহিনীর হাতে ধর্ষিত হয়েছেন সে সব বিরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বর্তমান সরকার স্বীকৃতি দিয়েছে। একজন মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুবরণ করলে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের চাকরি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে বিশেষ কোটার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অসুখে চিকিৎসা, বাড়িঘর নির্মাণসহ সকল ধরণের সুযোগ সুবিধা দেয়া হয় সরকার থেকে। এমন সুযোগ সুবিধা আগে কোনো সরকার করেনি।
বরং বিগত সময় বিএনপি জামায়াতী জোট ক্ষমতায় থাকাকালে মুক্তিযোদ্ধাদের অবহেলিত অবস্থায় রাখা হয়েছে। কোনো সুযোগ সুবিধাতো দূরের কথা চাকরিজীবী মুক্তিযোদ্ধাদের বেছে বেছে চাকরি থেকে ছাটাই করা হয়। এ কারণে আওয়ামী বিরোধী গোষ্ঠী বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী অভিনব কৌশল হিসেবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিতে একাধিক ফেসবুকে মিথ্যা স্ট্যাটাস দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এ প্রসঙ্গে দেশের কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, এখনই এই অপশক্তির অপতৎপরতা দূর করতে না পারলে মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই বাছাইয়ের কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে