বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

যে ৭টি ভুল ধারণা তৈরি হয় হলিউডি সিনেমা দেখে

প্রকাশের সময়: ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ - বৃহস্পতিবার | জানুয়ারি ২৬, ২০১৭

  কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডিঃ হলিউডি সিনেমায় নারী-পুরুষের সম্পর্ক বিষয়ে যেসব চিত্র তুলে ধরা হয় তার বেশিরভাগেরই বাস্তব জীবনের সঙ্গে কোনো মিল নেই। এবং প্রায়ই হলিউডি সিনেমায় নারী-পুরুষের সম্পর্কের সত্যিকার প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয় না।
হলিউডি সিনেমার মাধ্যমে মানুষের মনে সম্পর্ক বিষয়ে গেড়ে বসা ৭টি ভুল ধারণা এখানে ভেঙ্গে দেওয়া হলো:

১. ভালোবাসা খুঁজে পাওয়ার জন্য আপনাকে আপনার চেহারা বদলাতে হবে (গ্রিজ, সি ইজ অল দ্যাট)
চেহারা বদলে ফেলার মাধ্যমে আপনার জন্য ভালোবাসা খুঁজে পাওয়া সহজ নাও হতে পারে। আপনি যদি নিজের প্রতি আত্মসম্মানবোধ বাড়াতে বা নিজেকে আরো মূল্যবান ভাবতে তা করে থাকেন তাহলে তা করুন। আর নয়তো নয়। কেননা এর মাধ্যমে আপনি মূলত নিজের ব্যাপারে নিজের অনুভূতির জন্য সম্পূর্ণতই অন্য কারো ওপর দায় চাপাচ্ছেন।
এটা হয়তো লোভনীয় হতে পারে কিন্তু অস্বাস্থ্যকর। কোনো সম্পর্কে প্রবেশ করার আগে আপনার নিজেকে নিজে যথেষ্ট পছন্দ করতে হবে। এবং আপনাকে ভাবতে হবে যে কারো ভালোবাসা এবং স্নেহ পাওয়ার জন্য আপনি যথেষ্ট যোগ্য লোক। আপনার যদি নিজের সঙ্গেই নিজের ভালো সম্পর্ক না থাকে তাহলে তা আপনি অন্যের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে পারবেন না।

২. নারী-পুরুষের সম্পর্ক সবসময়ই নিখুঁত হয় (টাইটানিক)
হলিউডের বিখ্যাত সিনেমা টাইটানিকের মাধ্যমে মানুষের মনে নারী-পুরুষের সম্পর্ক বিষয়ে একটি কল্পকাহিনী গেড়ে বসেছে যে একে নিখুঁত হতে হবে। কিন্তু বাস্তব হলো নারী-পুরুষের সম্পর্ক যদি সবসময়ই নিখুঁত হত তাহলে কখনোই বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটতো না। সুতরাং নিখুঁত সম্পর্ক বলে কিছু নেই। বরং বড়জোর যথেষ্ট ভালো সম্পর্ক বলে কিছু একটা থাকতে পারে।
শুধু টাইটানিকই নয় আরো অনেক সিনেমায়ই নারী-পুরুষের সম্পর্ককে নিখুঁত হিসেবে চিত্রায়ন করা হয়। কিন্তু এ ধরনের ধারণা খুবই বিপজ্জনক। কেননা বাস্তবে আপনি বা আপনার জীবন সঙ্গী বা সঙ্গিনী সবসময়ই অসাধারণ নাও হতে পারেন। আপনাদের সম্পর্কটি হয়তো অনেক সময় নিখুঁত মনে হতেই পারে। কিন্তু সবসময়ই যে একরকম থাকবে তেমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
৩. তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়ার ফলে সম্পর্ক ভেঙ্গে যায়, আর সুখি দম্পতিরা ঝগড়া করেন না (নটিং হিল)
সুখি দম্পতিরা তর্ক-বিতর্ক করেন কারণ তারা পরস্পরের সঙ্গে এর মাধ্যমেই যোগাযোগ ও বোঝাপড়া স্থাপন করেন। তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া বিবাদ তাদের জন্য এক ধরনের যোগযোগ। আপনারা ঝগড়া করছেন কিনা তা গুরুত্বপূর্ণ নয় বরং আপনারা কীভাবে ঝগড়া করছেন সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
কখনো কখনো ভিন্নমত পোষণ করার জন্য একমত হওয়া, আপোষ রফার উপায় খুঁজে বের করা এবং একমত না হওয়া সত্ত্বেও অপরের অবস্থান বুঝতে পারা সবই ইতিবাচক লক্ষণ। তবে যদি এমন হয় যে আপনারা একই ইস্যুতে অনবরত ঝগড়া করে যাচ্ছেন এবং এর কোনো সমাধানও হচ্ছেনা তাহলে আপনাদের উচিৎ সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া।
৪. সম্পর্ক মজবুত করতে কোনো কাজ করা লাগে না (ডিজনির তৈরি প্রতিটি সিনেমা)
ভালোবাসা শব্দটি একটি ক্রিয়াবাচক শব্দ। এটি একটি কর্মমূলক শব্দ। অথচ একথাটিই আমরা ভুলে যাই। ভালোবাসা এমন কোনো বীজ নয় যা মাটিতে পুঁতে দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই গজিয়ে উঠবে। আপনাকে এর জন্য পরিশ্রম করতে হবে। ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে একত্রে বসবাস করতে গেলে দুজনের ভিন্নতাগুলোর মধ্যেই ঐক্য স্থাপন করতে হয়, সন্তান লালন-পালনের দায়-দায়িত্ব নিতে হয়, কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করে চলতে হয়। আর তা খুব সহজ নয়। তার মানে এই নয় যে আপনি সম্পর্কে জড়াবেন না। কিন্তু সিনেমায় শুধু প্রেম আর প্রেমই দেখানো হয়। যেনবা যুগলদের বাস্তব জীবনে কোনো টানাপোড়েন নেই।
৫. ভালোবাসা আনন্দদায়ক শুধু যখন আপনি ২০/৩০ এর কোঠায় থাকে (অল অফ দেম অ্যাপার্ট ফ্রম সামথিং’স গোটা গিভ)
কোপনতা এবং পাগল প্রেম চিরস্থায়ী হয় না। তবে অনেক সময় এর জায়গায় আরো গভীর এবং আরো সচেতন ভালোবাসা গড়ে ওঠে। যে সম্পর্ক বছরের পর ধরে টিকে থাকে এবং নানা চড়াই-উতরাই পার করে আসে তা খুবই উপভোগ্য হতে পারে। কেননা এর মধ্য দিয়ে আপনারা পরস্পরকে আরো ভালোভাবে জানতে বা বুঝতে পারেন। এবং অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে আসেন। আর এটাও গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি যে কোনো বয়সেই একটু চেষ্টা করলে ভালোবাসা খুঁজে পেতে পারেন। আর সবকিছুকেই আনন্দদায়ক এবং উপভোগ্য করে তোলাটাও পুরোপুরি সম্ভব। শুধু তরুণ বয়সেই নয় বরং যে কোনো সময়ই ভালোবাসা ঘটতে পারে।

৬. যৌনতা সবসময়ই অভূতপূর্ব এবং তীব্র আবেগপূর্ণ হবে (ফ্রেন্ডস উইথ বেনিফিট)
যৌনতা সবসময়ই বা বেশিরভাগ সময়ই অভূতর্পূর্ব হতে পারে। কিন্তু এই সম্ভাবনাই বেশি তা সম্পর্কের উত্থান-পতনের সঙ্গে তাল মিলিয়েই পরিবর্তিতও হবে। যৌনতাও একধরনের যোগাযোগ মাধ্যম। সম্পর্ক যদি ভালো হয় তাহলে তা যৌন জীবনেও প্রতিফলিত হবে। কিন্তু সন্তান, চাকরি এবং চাপ ও অসুস্থতাও আপনার যৌন জীবনে প্রভাব ফেলবে। কেননা যৌন জীবনকে বাকী আর সবকিছু থেকে আলাদা করা সম্ভব নয়। যৌনতাও সামগ্রিক সম্পর্কেরই একটি অংশ। কোনো দম্পতি যদি তাদের যৌন জীবন নিয়ে সমস্যায় ভোগার কথা বলেন তাহলে তাদেরকে প্রথমেই তাদের সম্পর্কের বাস্তব অবস্থা কী তা পর্যালোচনা করে দেখতে হবে। এই কারণেই কোনো দম্পতি যদি তাদের যৌন জীবন নিয়ে অসুখি হন তাহলে তাদেরকে তাদের সম্পর্কের সামগ্রিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
৭. একজন (দ্য নোটবুক)
ভালোবাসার মানুষ শুধু বিশেষ একজনই হবেন এই ধারণা আপনাকে একাকিত্বের অনুভূতিতে আক্রান্ত করতে পারে। কারণ এই ধারণার ফলে আপনি সবসময়ই এই অনুভূতিতে আক্রান্ত হবেন যে, দুনিয়াতে আপনার শুধু একজনই আত্মার সঙ্গী বা সঙ্গীনি আছেন। যার সঙ্গে আপনার এখনো দেখা হয়নি। এটি এমন এক ইদুর-বেড়াল খেলা যা আপনার জন্য শুধু অপ্রয়োজনীয় হতাশাই বয়ে আনবে। আবার এই ধারণা আপনাকে একজনকে খুঁজে পাওয়ার পরও পীড়া দিতে থাকবে। কারণ, আপনার মনে যে নিখুঁত একজনের কল্পনা বিরাজ করছে তার সঙ্গে বাস্তবের এই একজনের মিল নেই। কেননা বাস্তবে কেউই আসলে নিখুঁত হননা। আসলে রহস্যটি হলো আপনি কখনোই আপনার কল্পনার সেই একজনকে খুঁজে পাবেন না। বরং আপনাকে নিজেই তাকে তৈরি করে নিতে হবে। এমন অনেকেই আছেন যারা আপনার সেই কাঙ্খিত একজন হতে পারেন। কিন্তু আপনি শুধু সেই একজনকে খুঁজে পাবেন কারো সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে একত্রে বসবাস করা, অভিজ্ঞতা লাভ এবং সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমেই।

সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে