বুধবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৮ | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

প্রেমের টানে ব্রাজিলের নারী সেওমা হবিগঞ্জে

প্রকাশের সময়: ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ - রবিবার | জানুয়ারি ২৯, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:

হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জের এক কলেজছাত্রের প্রেমের টানে সুদূর ব্রাজিল থেকে বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন তিন সন্তানের জননী মধ্যবয়স্কা এক নারী। ৪৭ বছর বয়সী সেওমা বিজেরা পেশায় একজন শিক্ষিকা। তার প্রেমিক আব্দুর রকিব (২৬) মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র।তিনি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার হালিতলা গ্রামের আসকান উদ্দিনের বড় ছেলে। ইতোমধ্যে রকিব ও সেওমা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

ফেসবুকের কল্যাণে বাংলাদেশি তরুণের প্রেমে মুগ্ধ বিদেশিনীর ছুটে আসা এবং ঘর বাঁধা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আশপাশের গ্রামবাসী যেমন এই বিদেশিনী বধূকে দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন,তেমনি সংবাদকর্মীরাও নবদম্পতির কাছে তাদের প্রেমকাহিনী জানতে ছুটে গেছেন রকিবের বাড়িতে।

রকিব ও সেওমা তাদের পরিচয় থেকে পরিণয় বিষয়ে কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। রকিব বলেন, প্রায় ৯ মাস আগে তিনি ফেইসবুকে সেওমার আইডিতে লাইক দেন। সেওমাও তাকে লাইক দেন। এভাবেই শুরু। চলতে থাকে টেক্স বিনিময়।এরপর প্রায় প্রতিদিনই তাদের কথা হতো।

রকিব জানান, ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিকে সেওমা ব্রাজিলে বাংলাদেশের দূতাবাসে গিয়ে ভিসা সংগ্রহ করেন। অবশেষে গত ৩১ ডিসেম্বর সেওমা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পা রাখেন। এদিন বিমান বন্দরে তাকে স্বাগত জানান প্রেমিক আব্দুর রকিব। এরপর তারা চলে আসেন নবীগঞ্জে।

রকিব জানান, পরিবারের আপত্তি না থাকায় গত ৩ জানুয়ারি হবিগঞ্জের রোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে গিয়ে বিয়ের আইনগত বিষয়গুলো সম্পন্ন করেন। পরে ইসলাম ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী দু’লাখ টাকার কাবিন রেজিস্ট্রির মাধ্যমে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

রকিব আরও জানান, ‘সেওমা ব্রাজিলে পেশায় একজন শিক্ষক। বর্তমানে সে আইন বিষয়ে লেখাপড়া করছে।’

সেওমা সাংবাদিকদের জানান, তার আরেকটি বিয়ে হয়েছিল। আগের স্বামীর সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। ওই সংসারে তিনটি সন্তান রয়েছে। এক ছেলে ও দুই মেয়ে। ছেলের নাম ইদুওয়ারদু এবং মেয়ে দেবুরা ও ব্রনা। ২৬ বছর বয়সী রকিবের কাছে প্রশ্ন ছিল, ৪৭ বছরের ব্রাজিলিয়ান নারীকে প্রেম করে বিয়ে করেছেন, কোনও উদ্দেশ্য আছে কিনা। উত্তরে রকিব জানান,প্রকৃত ভালোবাসায় বয়স কোনও ব্যাপার না।

জানুয়ারির শেষে সেওমা নবীগঞ্জ থেকে তার নিজের দেশ ব্রাজিলে ফিরে  যাবেন। সেখানে গিয়ে স্বামীকে ব্রাজিলে নিয়ে যাওয়ার কাগজপত্র তৈরি পাঠাবেন বলে জানালেন রকিব।

এ বিষয়ে নবীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আলহাজ ছাবির আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রেমের টানে সুদূর ব্রাজিল থেকে বাংলাদেশের ছোট্ট একটি গ্রামে এক বিদেশি নারীর এভাবে ছুটে আসা সত্যিই বিরল ঘটনা। এলাকার অনেকেই তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।’

উপরে