শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ | ২রা পৌষ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

মায়েদের পা ধুয়ে দিলেন হাজারো শিক্ষার্থী

প্রকাশের সময়: ৪:০৯ অপরাহ্ণ - মঙ্গলবার | জানুয়ারি ৩১, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:

অনলাইন ডেস্ক: খুব কষ্ট করে সন্তানকে পড়ালেখা করিয়েছেন। একসময় ছেলে বড় চাকরি নিয়ে বাবা-মাকে ছেড়ে শহরে পারি জমিয়েছে। বাবা-মায়ের কষ্টের দিন আর ফুরোয় না। নব্বইয়ের দশকের অনেক বাংলা ছবিতে এমন দৃশ্য ছিল চিরাচরিত। সিনেমার গল্পগুলোতে পরিবর্তন আসলেও জীবন গল্পে এমন দৃশ্য একেবারে অচেনা নয়। এখনো বৃদ্ধাশ্রম বিলীন হয়ে যায়নি। এখনো সফেদ দাড়িতে চোখের লোনা জল বয়ে যায় অনেক হতভাগা বাবার। ‘বড়লোক’ ছেলে-মেয়ের পথপানে চেয়ে থেকে চোখে ছানি পড়ে যায় অনেক মায়ের।

বিষয়টা আরো নজরে আসে ঈদ এলে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে বৃদ্ধাশ্রম নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান দেখলে। তবে ছোটবেলা থেকে শিক্ষাটা আরো ‘নৈতিক’ হলে হয়তো এ দৃশ্যটা আরো খানিকটা কমানো যেতো- এমন ভাবনা থেকেই ভিন্নরকম এক আয়োজন করেছে রংপুরের একটি স্কুল। এখানে অভিভাবক দিবসে মায়েদের পা ধুয়ে দিচ্ছে সন্তানেরা। এমন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন এক অভিভাবক নীলফামারি সরকারি কলেজের শিক্ষক মাহমুদুল হাসান সাগর। ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘আজ আমি এক স্কুলে গিয়েছিলাম অভিভাবক সমাবেশে। গিয়ে সেখানে দেখলাম নৈতিকতার সত্যিকারের ক্লাস।’

এই শিক্ষকের পোস্ট করা ছবিতে স্কুল কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগের বেশ প্রশংসা করেছেন অনেকেই। এক অভিভাবক লিখেছেন, ‘আমাদের সন্তানকে যে মহান শিক্ষাগুরুরা নৈতিক মানবিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলেন। তাঁদের শতকোটি প্রণিপাত করি।’

মাহমুদুল হাসান সাগর আমারো শিক্ষক। পূর্বপরিচয়ের সূত্রধরেই ফোন করে জানলাম, রংপুর সদরের আশরতপুরে ‘চাইল্ড হ্যাভেন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে’ অভিভাবক দিবসে হয়েছে এ আয়োজন। জানালেন, এ স্কুলে তিনি একজন উপদেষ্টা। ২০০২ সালে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গাইবান্ধার শিবরাম আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাসুদ হায়দার হিল্লোলও এখানকার উপদেষ্টা।

স্কুলটির অধ্যক্ষের দায়িত্বে আছেন উত্তরবঙ্গের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কারমাইকেল কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষক প্রফেসর নূরুল আমিন। তার সঙ্গে আছেন কবি আকুল শেখসহ বেশ কিছু মেধাবী শিক্ষক। সবাই মিলে এমন ব্যতিক্রম উদ্যোগ নিয়েছেন।

মাহমুদুল হাসানের ভাষায়, ‘আমরা চাই আমাদের সন্তানেরা ছোটবেলা থেকেই নৈতিকতার এ শিক্ষাটা শিখুক। এতে হয়তো সব কিছু বদলে যাবে না। দেশ থেকে একেবারে বৃদ্ধাশ্রম উঠে যাবে না। তবে অন্তত মনের মধ্যে এ জিনিসটা গেঁথে যাবে যে বাবা-মায়ের সম্মানটা কোথায়।’

প্রতিবছরই এ আয়োজন করা হবে বলেও জানালেন তিনি। বললেন, ‘সামনের বছর থেকে আরো বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে। এটা যে আমরাই প্রথম করেছি তা নয়, বিভিন্ন দেশে এর প্রচলন আছে। দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চাইলে এ আয়োজনটা করতে পারে।’

বিভিন্ন দেশে আয়োজনটা কেমন জানতে খোঁজ করলাম। প্রতিবছর ৮ মে কোরিয়াতে ঘটা করে পালন করা হয় অভিভাবক দিবস। এ দিন সরকারি ছুটি না হলেও তার চাইতে বেশি উৎসবমুখরভাবে পালন করে কোরিয়ানরা। এদিন শিক্ষার্থীরা শ্রদ্ধাবনত হয়ে মায়ের পা ধুয়ে দেয়। তাদের কাছে এটা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়। মাকে বছরে একটাদিন অন্তত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার সুযোগ হিসেবেই দেখে সেদেশের শিক্ষার্থীরা।

এ ধরনের আয়োজনে সবচেয়ে বড় উৎসবটা সম্ভবত চীনেই। স্থানীয়ভাবে এ উৎসবকে বলা হয় ‘কৌটৌ’ নামে, যার বাংলা অর্থ ষাষ্টাঙ্গে প্রণাম। এদিন শিক্ষার্থীরা তাদের কৃষ্টি-কালচার অনুযায়ী বাবা-মাকে মাথা ঠুঁকে প্রণাম করে।

এ ধরনের উৎসব আছে মালয়েশিয়া, জাপান, ফিনল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে।


আর্কাইভ

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে