রবিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৮ | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

বঙ্গবন্ধুকে ‘স্বভাবসুলভ স্বৈরাচার’ বলা লেখককে বাংলা একাডেমি পুরস্কার!

প্রকাশের সময়: ৯:৫৪ অপরাহ্ণ - মঙ্গলবার | জানুয়ারি ৩১, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:

অনলাইন ডেস্ক: অনুবাদে বিশেষ অবদান রেখে এ বছরের বাংলা একাডেমি পুরস্কার জেতা অধ্যাপক নিয়াজ জামান তার এক লেখায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বর্ণনা করেছিলেন ‘স্বভাবসুলভ স্বৈরাচার’ হিসেবে। স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু সরকারের কড়া সমালোচক হিসেবে ভূমিকা রাখা সাপ্তাহিক হলিডে পত্রিকায় ১৯৯৪ সালের ২ ডিসেম্বর প্রকাশিত সে লেখায় নিয়াজ জামান লিখেছিলেন-‘When the Sheikh came to power, he emerged as a natural dictator who could not accept a free discussion on any of his bedroom decisions’. অর্থাৎ ‘ক্ষমতায় আসার পর ‘শেখ’ একজন স্বভাবসুলভ স্বৈরাচারীর রূপ নিলেন। তিনি তার শয়নকক্ষে নেয়া কোনো সিদ্ধান্ত সম্পর্কেই কোনো খোলামেলা আলোচনা গ্রহণ করতে পারতেন না’।

বঙ্গবন্ধুকে ‘স্বভাবসুলভ স্বৈরাচার’ বলা লেখার পেপার কাটিং

বঙ্গবন্ধুকে ‘স্বভাবসুলভ স্বৈরাচার’ বলা লেখার পেপার কাটিং

‘Rainbows: Auto Biography and Politics in S.M. Ali’s Rainbow over Padma’ শীর্ষক লেখায় নিয়াজ জামান ‘স্বভাবসুলভ স্বৈরশাসক’ শেখ মুজিবের সমালোচনা করে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার আলোচনা করেন।

পাঞ্জাবি বংশোদ্ভুত নিয়াজ জামান মাগুরার নির্বাচনে বিতর্কিত মেজর জেনারেল মাজেদুল হকের আত্মীয়। রাজধানীর কয়েকটি আর্কাইভে ৯০ দশকে হলিডে পত্রিকার একাধিক সংখ্যা পড়ে দেখা গেছে, নিয়াজ জামানের অধিকাংশ নিবন্ধ পাকিস্তান রাষ্ট্রের অখণ্ডতা রক্ষায় পাকিস্তানি মুসলমান আর বাঙালি মুসলমানদের ব্যর্থতাকে উপজীব্য করে লেখা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এক প্রবীণ শিক্ষক নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেছেন, হলিডে পত্রিকায় প্রকাশিত নিয়াজ জামান তার এক লেখায় বঙ্গবন্ধুকে ‘serpent’ বা দানবীয় সাপ বলে অভিহিত করেছিলেন। দীর্ঘদিন পত্রিকার কপিটি তার কাছে ছিল, কিন্তু ইদানীং আর খুঁজে পাচ্ছেন না। তবে সরকারের উচ্চমহল থেকে পুরনো হলিডে পড়ে দেখেলেই এ লেখা পাওয়া যাবে।

এই অধ্যাপক বলেন, ‘সাপ্তাহিক হলিডে পত্রিকায় যিনি নিয়মিত লিখতেন, যিনি বঙ্গবন্ধুকে কোনোদিন সম্মান করে কথা বলেননি, তিনি কীভাবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাংলা একাডেমি পুরস্কার জেতেন আমরা ভেবে পাই না। তবে কি চেতনার, বিশ্বাসের কোনো মূল্যায়ন নেই?’

কয়েকদিন আগে অনুবাদে একাডেমি পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে নিয়াজ জামানের নাম ঘোষিত হলে ফেসবুকসহ নানা সামাজিক সাইটে বিষয়টি নিয়ে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়, যদিও মূলধারার সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি সংবাদ হয়ে আসেনি।

নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশি লেখক, গল্পকার, কুলোদা রায় সম্প্রতি তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘তিনি (নিয়াজ জামান) চীন-পাকিস্তানি এজেন্ট এনায়েতুলাহ খানের সাপ্তাহিক হলিডে পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন। স্বাধীনতার পর যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধু ব্যস্ত তখন সাপ্তাহিত হলিডে পত্রিকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তীব্র আক্রমণ করত। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সামরিক অভ্যুত্থানের পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে এনায়েতুল্লাহ খান ও তার পত্রিকাটির ব্যাপক ভূমিকা ছিল। নিয়াজ জামান বঙ্গবন্ধুর খুনি মেজর ডালিমকে প্রশংসা করেও কলাম লেখেন। লক্ষ্যণীয় যে, নিয়াজ জামান জামায়াতি বিএনপি, চীনাপন্থী-পাকিস্তানপন্থীদের মতো কখনোই বঙ্গবন্ধুকে ‘বঙ্গবন্ধু’ বলেননি। তাঁকে বলছেন, স্বভাবসুলভ একনায়ক। অর্থাৎ জন্মগতভাবেই ছিলেন একনায়ক। গণতান্ত্রিক রীতিনীতি তার চরিত্রে কখনোই ছিল না। তিনি কোনো মুক্ত আলোচনাকেই গ্রহণ করতেন না। তাঁর ঘনিষ্ঠ লোকদেরও তিনি পাত্তা দিতেন না। তিনি একাই সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন।

বঙ্গবন্ধুকে যিনি স্বভাবসুলভ একনায়ক মনে করেন, মনে করেন, এই ‘সহজাত একনায়ক শেখ’ ক্ষমতায় আসার পর পরই রাষ্ট্রে ভয়ঙ্কর একনায়ক হিসেবে প্রকাশিত হন’– এর সরল অর্থ নিয়াজ জামান বঙ্গবন্ধুকে আইয়ূব খান, ইয়াহিয়া খান, গোলাম আজমের মতোই মনে প্রাণে ঘৃণা করেন।

এবার যাঁরা বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেলেন

এবার যাঁরা বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেলেন

এদিকে বঙ্গবন্ধুকে ‘স্বৈরাচার’ অভিহিত করে নিবন্ধ রচয়িতা নিয়াজ জামানের বিষয়ে জিজ্ঞেস করার জন্য বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামানকে কয়েকবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ঢাকাটাইমস যোগাযোগ করেছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সাথে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি জেনে বিস্ময় প্রকাশ করেন। নিয়াজ জামানের একটি লেখার অংশবিশেষ ছবি তোলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

উপরে