বুধবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ | ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

সন্ত্রাসী হামলায় পরীক্ষা দেওয়া হলোনা রায়হান‘র

প্রকাশের সময়: ৪:০৩ অপরাহ্ণ - মঙ্গলবার | ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:

চাঁদপুর প্রতিনিধি : জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলায় পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ডেকে নিয়ে রায়হান ইসলাম (১৫) নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর ওপর হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় রায়হানকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলার আমিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে রেল স্টেশনের একটি পরিত্যক্ত ভবনে এই ঘটনা ঘটে।

এসএসসি পরীক্ষার্থী রায়হান ইসলাম উপজেলার প্যারাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। সে ৩নং কালোচো ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড কালোচো গ্রামের জামাল হোসেনের ছেলে।

চিকিৎসারত অবস্থায় রায়হান ইসলাম দ্য রিপোট টুয়ান্টিফোর ডটকমকে বলেন, বাড়ি থেকে সিএনজি চালিত অটোরিক্সায় এসে পরীক্ষা কেন্দ্র সংলগ্ন হাজীগঞ্জ রেল স্টেশনে নেমে পড়ি। তারপর অপরিচিত তিন যুবক আমার নাম ধরে ডেকে নেয়। আমি বন্ধুদের কাছে পরীক্ষার প্রবেশপত্র দিয়ে তাদের ডাকে সাড়া দেই। তাদের সামনে গেলে মুহূর্তের মধ্যে মুখে চাপা দিয়ে রেল স্টেশনের পরিত্যক্ত ভবনে ঢুকিয়ে ফেলে। তারপর আমার গলায় চুরি ধরে চিৎকার না দেয়ার জন্য হুঁশিয়ারি করে।

রায়হান বলেন, ‘১৮ কিংবা ২০ বছর বয়সী তিন অপরিচিত যুবক আমাকে পরীক্ষা দিতে দিবে না বলেই এলোপাতাড়ি মারধর করে। কিছুক্ষণ পর আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।’

রায়হানের সহপাঠী শাহপরান জনি বলেন, ‘রায়হানের মুঠোফোন থেকে খবর পেয়ে জলদি এসে পুলিশসহ তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি।’

পূর্বের কোন শত্রুতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রায়হানের নিকাটাত্মীয় (নানা) মোস্তফা কামাল প্রতিবেদককে বলেন, ‘রয়হান কয়েক প্রজাতির কবুতর পালন করতো। কয়েক মাস হলো কবুতরগুলো চুরি হয়ে যায়। কিছুদিন পূর্বে ওই কবুতরগুলো বাজারে বিক্রির জন্য নেওয়ার পথে রায়হানের দৃষ্টিতে পড়ে। পরে জানতে পারে কুবতরগুলো তারই সহপাঠী নোয়াপাড়া গ্রামের জলিলের ছেলে মাছুম ও প্যারাপুর গ্রামের আবদুর রহিমের ছেলে হাদু চুরি করে। ইতোমধ্যে চুরির অপবাদ দেওয়ায় রায়হানকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হুমকিও দিয়েছে তারা। এছাড়া রায়হানের কোন শত্রুতা ছিল না।’

রায়হানের মা রাবিয়া বেগম কবুতর চুরির ঘটনার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ‘যারা আমার ছেলেকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিব।’

প্যরাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন পরীক্ষা কেন্দ্র সচিবের বরাত দিয়ে দ্য রিপোর্ট টুয়ান্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘রায়হান আজকের শারীরিক শিক্ষা পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল। পরীক্ষা কেন্দ্রের কাছে তাকে কে বা কারা আটকে রেখে মারধর করেছে। পরে আমরা তাকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করেছি। সুস্থ হলে রায়হান পরবর্তী পরীক্ষাগুলো দিতে পারবে।’

এছাড়া একই দিনে উপজেলা গর্ন্ধব্যপুর ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর হোসেনের মেয়ে বিথী আক্তার পরীক্ষা কেন্দ্রে আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়। পরে তাকে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরীক্ষার শুরু হওয়ার আধা ঘন্টা পর বিথী আক্তার শারীরিক শিক্ষা পরীক্ষায় অংশ নেয়।

উপরে