রবিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৮ | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

দৌলতপুরে মাদ্রাসার সভাপতির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশের সময়: ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ - বৃহস্পতিবার | ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:

শামীমা জামাল রিংকী, কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চুয়ামল্লিকপাড়া রেজওয়ানুল উলুম আলিম মাদ্রাসার সভাপতির বিরুদ্ধে অধ্যক্ষকে জোরপুর্বক ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ম্যানেজিং কমিটির পুনরায় সভাপতি মনোনয়নের লক্ষ্যে স্বাক্ষর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, নিয়ম বহির্ভুতভাবে প্রতিষ্ঠানের প্যাড নকল করে ৩ জনের নাম সম্বলিত প্যাডে জোর করে স্বাক্ষর করে নেয়। এছাড়াও মাদ্রাসা ফান্ডের অর্থ আত্মসাৎ, শিক্ষকদের সাথে খারাপ আচরণসহ নানান অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগে জানা যায়, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বিএনপি জামায়াতপন্থী আ.ল.ম জাকারিয়া বর্তমান সেই মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী ০১/০৫/২০১৭ ইং তারিখে সেই কমিটির মেয়াদ শেষ হবে। অথচ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আবারো চক্রান্ত করে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির পুনরায় সভাপতি মনোনয়নের লক্ষ্যে স্বাক্ষর করার জন্য মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে অনুরোধ করেন। তাতে করে অধ্যক্ষ মো: নাসির উদ্দীন রাজী না হলে গত ১৮ ফেব্রুয়ারী রাতে সভাপতি আ.ল.ম জাকারিয়াসহ তার সহযোগী তোফাজ্জেল হোসেন হাবলুকে সাথে নিয়ে উপজেলার মানিকদিয়াড় গ্রামে অধ্যক্ষের বাড়ীতে গিয়ে নানান ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জোর করে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। এসব বিষয় নিয়ে অধ্যক্ষের স্বাক্ষরকৃত প্যাডটি বাতিলের দাবি জানিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যকের অবহিত করে আবেদন করেন। এরআগের বারও আ.ল.ম জাকারিয়া প্রভাব খাটিয়ে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হয়েছিলো। শুধু তাই নয়, সেসময় তিনি নিয়মবহির্ভতভাবে বিদ্যুৎসাহী সদস্য ছাড়াই কমিটি গঠন করে। তবে তিনি মাদ্রাসার সভাপতি থাকা অবস্থায় দৌলতপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন। এসব প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন তহবিল, শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্নভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ায় ছিলো তার অন্যতম কাজ। তবে সেসময় তিনি একাই দুটি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি থাকলেও তার বিরুদ্ধে কেউ কোন কথা বলেনি। মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আমাদের সকল শিক্ষকের সাথে খারাপ আচরণ করে থাকে। শুধু তাই নয়, শিক্ষকরা শীতের সময় রোদ্রের চেয়ার পেতে বসে থাকলেও পিয়ন দিয়ে সেখান থেকে চেয়ার তুলে আনতো। এছাড়া সেই সভাপতি সদ্য হজ্ব করে আসার পর একটা অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আলহাজ্ব না বলায় অনেকের সামনে অপমান করেছিলো। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাদের অনেকেই যারা রাজধানী ঢাকায় এবং কানাডা ও আমেরিকায় বসবাস করে। মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য অর্থ পাঠালেও সেই অর্থ আত্মসাৎ করেছে সভাপতি। এছাড়াও বিদ্যালয়ের নামে ১১বিঘা জমি রয়েছে। প্রতিবছর সেই জমি থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা খাজনা আদায় হলেও সেই টাকা সভাপতি পকেটস্থ করেছে। এসব নিয়ে কোন শিক্ষক কিংবা অধ্যক্ষ কোন কথা বললেই তাদেরকে হুমকি প্রদর্শন করতো। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির বিপরীতে শিক্ষকদের জন্য আলাদা একটা সম্মানীও সভাপতি নিজে পকেটে রেখে কোন শিক্ষককে তা বন্টন করেনি। এবং সরকারী তোয়াক্কা না মেনে নিয়মনীতির বাইরে থেকে শিক্ষার্থীদের ফরম পুরনের জন্য অতিরিক্ত অর্থও নিজ পকেটেস্থ করেছে। এসব বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগীসহ এলাকাবাসী।

উপরে