রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

বাঙালি জাতির শেকড় নিহিত কৃষির মধ্যে : রাষ্ট্রপতি

প্রকাশের সময়: ৭:৪৮ অপরাহ্ণ - বৃহস্পতিবার | ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর : রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ। কৃষি আমাদের অর্থনীতির প্রাণ। আমাদের আবহমান বাংলার গৌরবময় ইতিহাস ঐতিহ্য মিশে আছে কৃষির সঙ্গে।

তিনি বলেন, মূলত  বাঙালি জাতির শেকড় নিহিত রয়েছে কৃষির মধ্যে। প্রাচীনকাল থেকে আমাদের অর্থনীতিতে কৃষি ও কৃষকের অবদান অসামান্য। দেশের জনগণের দৈনন্দিন খাদ্য চাহিদা ও আমিষের চাহিদা পূরণ, শিল্পোৎপাদন, কর্মসংস্থানসহ রপ্তানি বাণিজ্যে কৃষিখাতের অবদান উল্লেখযোগ্য। তাই কৃষি ও কৃষকদের উন্নয়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সালনায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, গবেষণলব্ধ নতুন জ্ঞান উন্নয়নের চাবিকাঠি। কৃষি খাতের সম্প্রসারণে আমাদের পরিবেশ ও জলবায়ু উপযোগী পদ্ধতি ও কৌশল উদ্ভাবনে মনোযোগী হতে হবে। এ ছাড়া কৃষকরা যাতে এসব প্রযুক্তি সহজে ব্যবহার করতে পারে তাও নিশ্চিত হতে হবে। মনে রাখতে হবে উদ্ভাবন ও নতুন প্রযুক্তি কৃষিবান্ধব না হলে তা বাস্তবে কোনো কাজে আসবে না। ধনী-গরীব, ছোট-বড় নির্বিশেষে সকল দেশেই কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম।

তিনি কৃষিবিদ, কৃষিবিজ্ঞানী, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা কৃষিকে ভুলবেন না, উৎসকে ভুলবেন না। বরং কৃষির উন্নয়নে টেকসই কৌশল ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে নিজেদের নিয়োজিত রাখবেন। কৃষকরা যাতে উৎপাদনে উৎসাহিত হয়, উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পায় তা নিশ্চিত করতেও সবসময় তাদের পাশে থাকবেন। এ জন্য উৎপাদক ও ভোক্তা পর্যায়ের মধ্যসত্বভোগীদের দৌরাত্ম কমাতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, আমাদের জনসংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে, কিস্তু কমছে কৃষি জমি। তাই ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা এবং  হ্রাসমান জমির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কিভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়া যায় তা ভাবতে হবে।

দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জাতীয় এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নিতে হবে। আমি জেনে আনন্দিত যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নতুন ধ্যান-ধারণা ও নর্থ আমেরিকান কারিকুলাম ভিত্তিক শিক্ষা পদ্ধতি অনুসরণের পাশাপাশি শিক্ষা ও গবেষণায় উৎকর্ষ সাধণের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন প্যাভিলিয়নে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে সমাবর্তন ভাষণ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মান্নান। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মাহবুবর রহমান এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. ইসমাইল হোসেন মিঞা।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে ক্রেস্ট প্রদান করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মাহবুবর রহমান। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রিপ্রাপ্ত এক হাজার ১১৩ জনকে সনদ প্রদান করা হয়।

রাষ্ট্রপতি ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, একবিংশ শতাব্দির এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তোমরা দেশের একটি সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে কৃষিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিলাভ করেছো, যখন বিশ্বব্যাপী জ্ঞানের সকল শাখায় বিস্ময়কর অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে। অর্জিত জ্ঞানকে হালনাগাদ করে নতুন নতুন উদ্ভাবন ও গবেষণার মাধ্যমে সময়ের দাবি মোকাবিলা করে এগিয়ে চলাই হবে তোমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আমি আশাকরি তোমরা তোমাদের অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা এবং উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে কৃষিক্ষেত্রে একটি নতুন বিপ্লব সাধনে সক্ষম হবে।

তিনি বলেন, বিশ্বায়ন ও তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে মানুষের জ্ঞান, দক্ষতা ও উদ্ভাবন ভৌগলিক সীমানা পেরিয়ে বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বের এক প্রান্তের উদ্ভাবনের সুবিধা অপর প্রান্ত ভোগ করছে। এদেশের দক্ষ কৃষি গ্র্যাজুয়েটরা এমনই উদ্ভাবনী শক্তির পরিচয় দিবে যাতে সারা বিশ্বের মানুষ ঘরে বসেই তার সুফল ভোগ করতে পারে।

রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন লালিত স্বপ্ন ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা। তিনি বুঝেছিলেন কৃষির উন্নয়ন ছাড়া এদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই কৃষি শিক্ষায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার জন্য তিনি ১৯৭৩ সালে কৃষি গ্র্যাজুয়েটদের সরকারি চাকরিতে প্রথম শ্রেণির মর্যাদা দিয়েছিলেন। এর সুফল দেশবাসী পেয়েছেন।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে