বুধবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ | ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

শিশুকে বেঁধে সুঁচ দিয়ে খুঁচিয়ে নির্যাতন

প্রকাশের সময়: ৭:২১ অপরাহ্ণ - শনিবার | মার্চ ৪, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

মোবাইল চুরির অভিযোগ এনে শিশুকে বেঁধে বস্তা সেলাই করা সুঁচ দিয়ে খুঁচিয়ে নির্যাতনের পর আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শনিবার সকালে পাবনার চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের চিরইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নির্যাতনের শিকার শিশুর নাম রাইদুল হোসেন (১২)। সে ওই এলাকার মো. কামরুল হোসেনের ছেলে।

আহত  রাইদুলকে উদ্ধার করে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় শিশুটির মা নাসিমা খাতুন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করলে চিরইল এলাকার মো. আজিত হোসেনের ছেলে সাজেদুর রহমানকে (২৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শিশুটির মা জানান, পার্শ্ববর্তী মৃত পানাই সরদারের ছেলে আজিতের বাড়িতে শুক্রবার দিনগত রাতে ঘরের সিঁধ কেটে কে বা কাহারা মোবাইল চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর আজিত, তার ছেলে সাজেদুর ও অন্য সহযোগীরা সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আমার বাড়িতে এসে মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে ছেলেকে তার বাড়িতে ধরে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, তারা আমার ছেলেকে দড়ি দিয়ে বেঁধে পেটাতে থাকে। পরে তারা রাইদুলের শরীরে বস্তা সেলাই করা সুঁচ দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁচাতে থাকে। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও পেটায়। এসময় তারা আমার কাছ থেকে জোরপূর্বক মোবাইলের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেড় হাজার টাকা নেয়।

নাসিমা খাতুন বলেন, ‘আমার ছেলে একটু দুষ্টু প্রকৃতির। কিন্তু কোনো প্রমাণ ছাড়াই ছেলেকে ও আমাকে নির্যাতন করার বিচার চাই।’

তবে এ ঘটনা অস্বীকার করে আজিত হোসেন বলেন, পূর্বে রাইদুল এলাকায় একাধিক চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলো। এর আগে এলাকায় তার বিচারও হয়েছে।

মোবাইল উদ্ধার ও মারপিট করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, মোবাইল উদ্ধার হয়নি। তবে তাকে চড় থাপ্প্ড় দিয়েছে এলাকাবাসী।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সরদার আজিজুল হক যুগান্তরকে জানান, আমার কাছে শিশুটির মা এসেছিল। আমি শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেছি এবং পরবর্তীতে এই বিষয়ে ব্যবস্থা করা হবে বলে বলেছি।

চাটমোহর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

উপরে