শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

আগের সমস্যা রেখেই ফের প্রধান শিক্ষক সম্মেলন

প্রকাশের সময়: ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ - সোমবার | মার্চ ৬, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকমডটবিডি: আগামী ১৪ মার্চ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে ‘সরকারি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সম্মেলন’। মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে। তবে আগের সম্মেলনে উত্থাপিত সমস্যার সমাধান না পেয়ে ফের সম্মেলন আয়োজনে শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ।

সরকারি মাধ্যমিক স্কুলে শিক্ষক সংকট নিরসনে ২ হাজার ১২৫ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয় গত বছর মে মাসের সম্মেলনে। সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ ঘোষণা দেন। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের সহকারী শিক্ষকদের পদমর্যাদা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে নিয়োগবিধি সংশোধন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সংশোধিত নিয়োগ বিধির অধীনে শিগগির সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের সহকারী শিক্ষকের সব শূন্য পদ পূরণ করা হবে। যার আদৌ কোনো বাস্তবায়ন নেই। বরং প্রতিনিয়ত শিক্ষকদের অবসর গ্রহণ করায় বাড়ছে শূন্য পদ।

এ ছাড়া, ওই সম্মেলনে শিক্ষকদের উন্মুক্ত আলোচনায় উঠে আসে সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের বিবিধ সমস্যা। এর মধ্যে রয়েছে উপজেলা পর্যায়ে দুই শতাধিক স্কুলে শিক্ষক সংকট। নেই তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির জনবল। জেলা পর্যায়ের স্কুলগুলোয় ভর্তির সময় প্রচণ্ড চাপ থাকে। অথচ সেই অনুপাতে নেই অবকাঠামো। উপজেলা পর্যায়ের বেশিরভাগ স্কুলেই সীমানাপ্রাচীর নেই। ফলে নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। প্রধান শিক্ষকদের বাসভবন ব্যবহারের অনুপযোগী। বেশ কিছু স্কুলের জমির একাংশ বেদখল হয়ে গেছে। কোথাও নেই বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানাগার। কম্পিউটার ল্যাবরেটরি অপ্রতুল ইত্যাদি।

কয়েকটি জেলার সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে সম্মেলনের বিষয় নিয়ে আলাপে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অভিযোগ করে বলেন, বছর ঘুরে এলেও হয়নি এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমস্যার সমাধান। রুটিনওয়ার্কে ফের আয়োজন চলছে মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিত করার নামে ‘সরকারি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সম্মেলন’।

শিক্ষকদের তথ্যমতে, ২০১২ সাল থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ। অথচ বিভিন্ন সময়ে পাঠ্যক্রম পরিবর্তন হয়েছে। সেই অনুযায়ী পাঠ্যতালিকায় যোগ হয়েছে নতুন-নতুন বিষয়। অবসর গ্রহণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে শূন্যপদের সংখ্যা। দুই শিফটের স্কুলে শিক্ষকদের পদের সংখ্যা ৫০টি এবং এক শিফটের স্কুলে পদ ২৫টি। তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি), শারীরিক শিক্ষা, কর্মমুখী শিক্ষা, চারু ও কারুকলা নতুন বিষয় যুক্ত হয়েছে। সব জায়গায় এসব বিষয়ে শিক্ষক নেই। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তির মতো মৌলিক বিষয় পড়ানো হচ্ছে অন্য বিষয়ের শিক্ষক দ্বারা। ফলে জগাখিচুড়ি অবস্থা মাধ্যমিক স্তরের লেখাপড়ায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪৯টি সহকারী শিক্ষক পদের মধ্যে ১১টি পদ শূন্য। ১৬ বছর ধরে শূন্য তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ৪টি পদ। ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে পাঠদানের জন্য নেই পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ। পুরনো সব ভবন অকেজো হয়ে গেছে। মাত্র একটি ভবন ব্যবহার উপযোগী। শিক্ষক ও শ্রেণি সংকটের কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এসব সমস্যা সম্মেলনে তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক মো. সিদ্দিকুর রহমান।

উপকূলীয় এই স্কুলের মতোই সারা দেশে ৩৩৫টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে দুই শতাধিক স্কুলে রয়েছে শিক্ষক সংকট। সহকারী শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষক, সব মিলিয়ে প্রায় তিন হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য। এর মধ্যে জেলা উপজেলা পর্যায়ের স্কুলে শিক্ষক সংকট বেশি।

মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর মো. এলিয়াছ হোসেন আমাদের সময়কে জানান, ১৯৯১ সালের নিয়োগবিধিতে চলছে সরকারি মাধ্যমিক স্কুল। ২০১২ সালের সহকারী শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণি পদমর্যাদা দেওয়ার পর নতুন নিয়োগ দেওয়া যায়নি। নিয়োগবিধি সংশোধনের কাজ হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুত অনুমোদন হয়ে যাবে এবং শিক্ষক নিয়োগ শুরু করা যাবে।

সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, মাউশির মহাপরিচালকসহ আঞ্চলিক পরিচালকরা।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে