কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি: চাকরি কি আসলেই সোনার হরিণ? স্কুল-কলেজ-ভার্সিটি পেরোনো ছেলে মেয়েগুলো বেকার বসে থাকছে কেন? যোগ্যতার ঘাটতি? নাকি সুযোগের অভাব? চাকরি হতে কি আসলেই রেফারেন্স খুব প্রয়োজন? তাহলে কেউ কেউ একের পর এক চাকরি ছাড়ছে – ধরছে, ওর কি আছে যা আর দশ জনের নেই? Life is not fair, is it?

প্রায়শই কথাটা শুনি – Life is not fair। ঐ ছেলেটা একের পর এক চাকরি পাচ্ছে। আর আমরা একটা চাকরিই কত চেষ্টা করে পাই না। ঈশ্বর পক্ষপাতিত্ব করছেন? এসব কথা আপনি বলতেই পারেন, কিন্তু তাতে কি আপনার চাকরি হয়ে যাবে? বরং ভেবে দেখেছেন কি? আপনার বন্ধুটির কি যোগ্যতা আছে যা আপনার নেই? দু’জন তো একই রকম রেজাল্ট নিয়ে একই ভার্সিটি থেকে বের হলেন। কেউ কেউ তো অবশ্যই বলে উঠবেন, ওর মামা’র জোর আছে। আমার সিভি কেউ সুপারিশ করে না – তাই চাকরি হয় না। হ্যা, আমি আপনাকেই বলবো, দিন বদলে গেছে। নিজ যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছেন, পাচ্ছেন এমন অনেকেই আছে আমার পরিচিতের তালিকায়। আর এই সংখ্যাটাই বরং আমার চেনা পরিচিতের মধ্যে বেশি। তাহলে, ওরা কারা যাদের মামা-চাচা’র রেফারেন্স এ চাকরি হয় বলে শোনা যায়? আসলেই কি ওভাবে চাকরি হয়? দু’একটা তো হতেই পারে, সব জায়গাতেই ব্যতিক্রম আছে। কিন্তু তাই বলে ঢালাওভাবে এসব ভেবে নিজে হতাশ হয়ে বসে থাকলে কোন লাভ হবে? নাকি মেজরিটি যেভাবে চাকরি পাচ্ছে সেই পথেই চেষ্টা করে যাওয়া ভালো?

এবার তাহলে আসি মূল জায়গায়। আমরা অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়টাতে যে কোর্সগুলোর সান্নিধ্যে আসি, যে বিষয়গুলো রপ্ত করতে চেষ্টা করি আমাদের জব-মার্কেটে তার বেশিরভাগেরই কোন অ্যাপ্লিকেশন নেই বললেই চলে। ইন ফ্যাক্ট, জবের রিক্রুটমেন্ট টেস্ট ও ভাইভায় আপনার গ্র্যাজুয়েশনের সাবজেক্ট এর তেমন প্রভাব থাকে না বললেই চলে। যেমন- অনেকেই আছেন যারা বোটানি (উদ্ভিদবিদ্যা) তে অনার্স মাস্টার্স শেষ করে ঢুকতে চাচ্ছেন সরকারি কোন ব্যাংকে। কিন্তু ব্যাংকের লিখিত পরীক্ষায় থাকবে – ম্যাথ, ইংরেজি, আইটি, বাংলা, সাধারণ জ্ঞান ও কোন কোন ক্ষেত্রে কিছু মানসিক দক্ষতা যাচাইয়ের প্রশ্ন। ভাইভা বোর্ডেও সেই বোটানি থেকে পাশ করা কোন স্যারের থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তাহলে, বোটানি থেকে পাশ করা ওই ভাই কি করবেন? এবার আসুন খোদ ফাইন্যান্স বা ইকোনমিক্স থেকে পাশ করা একজনের কথায়। উনার ৫ বছরের পড়াশোনার কোন অ্যাডভান্টেজ উনি লিখিত পরীক্ষায় সরাসরি পাবেন না। তবে ভাইভায় হয়তো কিছু টার্মিনোলজি কমন পড়তে পারে। আজকাল আবার ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করা ভাই-বোনদের মধ্যে ব্যাংক জবের ক্রেজ বাড়ছে। তাদের ক্ষেত্রে কি ভার্সিটির পড়ার সাথে জবের রিটেন টেস্ট এর মিল আছে? না, একেবারেই নেই। কিন্তু, এই বোটানির ভাই, ফিন্যান্স বা ইকোনমিক্স এর  ভাই আর ইঞ্জিনিয়ার ভাই –তিনজনেই সরকারী ব্যাংকে চাকরি করতে চান। কিন্তু পাশ করার পর থেকে প্রায় বছরখানেক হয়ে যাচ্ছে, প্রায় ডজন খানেক চাকরির পরীক্ষা দিয়েছেন, কারোই চাকরি হচ্ছে না। কি ভুল হচ্ছে উনাদের?

এতক্ষণ যেটা বোঝাতে চেষ্টা করলাম- আপনি ভার্সিটিতে যে বিষয়ে যত ভালো রেজাল্ট করেই পাশ করুন না কেন, জব রিক্রুটমেন্ট টেস্ট সম্পূর্ণ ভিন্ন কন্ডিশন। সবার জন্য মোটামুটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড। কিন্তু সেখানে কেবল কিছু লোকই সুবিধা আদায় করে নিয়ে চাকরি পাবে – কারা তারা? খেয়াল করে দেখবেন, তারা আর দশজনের মতোই ভার্সিটি যে কোন বিষয় থেকে পাশ করার পরেই কোন প্রিপারেশন ছাড়া একের পর এক ভাগ্য পরীক্ষার মতো জবের পরীক্ষা দিতে যায় নি। বরং, দুই থেকে ছয় মাস গভীরভাবে পড়াশোনা করে নিজেকে প্রস্তুত করে নিয়েছেন। এক্ষেত্রে, জবের পরীক্ষার কমন বিষয়গুলোতে ধাতস্থ হতে খুব বেশি সময় বা পরিশ্রম প্রয়োজন – এমনটা নয়। তার চেয়ে বেশি দরকার সঠিক গাইডেন্সে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বারবার প্র্যাক্টিসের মাধ্যমে নিজেকে একটা পারফেকশনের লেভেলে নিয়ে যাওয়া। এতে নিজের আত্মবিশ্বাস যেমন বাড়বে, তেমনি আপনার সাফল্যও হবে অবধারিত। কেননা,  পৃথিবী চলে “survival for the fittest”  নীতিতে। যোগ্য লোককে হারিকেন দিয়ে খুঁজছে সবাই। যে পারে, সে বসে থাকে না।

প্রশ্ন আসতেই পারে, একজন ভার্সিটি ফেরত ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েট তাহলে গাইডেন্স কোথায় পাবেন? কি কি পড়তে হবে কিভাবে বুঝবেন? কোচিং করলে ভালো হবে? আমি মনে করি, প্রত্যেকেরই উচিত ভার্সিটি লাইফে সিনিয়র ভাই-ব্রাদারদের সাথে নেটওয়ার্কিং মেইনটেইন করা। গ্র্যাজুয়েশনের পরে আপনি যে সেক্টরে চাকরি করতে চান, সেখানে অলরেডি চাকরিরত আপনার সিনিয়র কারো সাথে সখ্য গড়ে তুলুন। ছুটির দিনগুলোতে, উনার কাছ থেকে আপনার জিজ্ঞাস্যগুলো জেনে নিন। এখন তো মোবাইল- ফেসবুকের যুগে যোগাযোগ করা কোন ব্যাপারই না। ফেসবুকের অনেক গ্রুপেও অনেক গাইডেন্স পাবেন। তবে, একজনের কথায় না চলে অনেকের পরামর্শ শুনে নিজের মতো কর্মপরিকল্পনা সেট করুন। নিজের প্রিপারেশনের জন্য দৈনিক ৪-৬ ঘণ্টা সময় রাখুন। প্রয়োজনে ৩-৪ জনের গ্রুপ করে পড়ুন, সবারই উপকার হবে।

অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোন নির্দিষ্ট সেক্টর ফিক্সড না করে আজ বিসিএস, কাল সরকারি ব্যাংক, পরশু বেসরকারি ব্যাংক আর পরের সপ্তাহে অন্য এক কোম্পানিতে পরীক্ষা দিচ্ছেন। তারা কি ভুল করছেন? বা তাদের করণীয় কি হতে পারে? সেই ব্যাপারে আমি পরবর্তী লেখায় আলোকপাত করবো আশা রাখি। আর সেক্টর ভিত্তিক প্রিপারেশনের একটা গাইডেন্স মডেল দাঁড় করানোরও চেষ্টা থাকবে পরবর্তী লেখাগুলোতে।

সবার সাফল্য কামনায়। আপনি-আমি সফল হলেই এগিয়ে যাবে দেশ।।