শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

এ কেমন “মা” আশা করিনি

প্রকাশের সময়: ৬:৫১ অপরাহ্ণ - রবিবার | মার্চ ১২, ২০১৭

কারেন্ট নিউজ ডটকম ডটবিডিঃ

হামিদ সাব্বির/শাহীনঃ

জন্ম আমার ধন্য হলো মা’গো,
এমন করে আকুল হয়ে আমায় তুমি ডাক
…………………………………………….
তুমি আমার খেলার পুতুল,
আমার পাশে থাকো মাগো।
শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের কন্ঠে গাওয়া এই গানটি চির অমর হয়ে আছে। সত্যিই মা একমাত্র শিশুর খেলার সাথি, বন্ধু। যে যেভাবেই ব্যাখ্যা করুক না কেন। পৃথিবীতে মায়ের চেয়ে আপন কেউ আছে কিনা, কারোও জানা নেই। এই মায়ের ভাষার জন্য ১৯৫২ সালে রক্ত রঞ্জিত হয়েছিলো রাজপথ। মা কখনো সন্তানের অমঙ্গল চায় না। একটা পাগল মাও সন্তানের উজ্জল ভবিষ্যতের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যান। সন্তান জন্মের পর মা যে কি কষ্ট সহ্য করে লালন পালন করে, তা যুগ যুগ ধরে দৃষ্টান্ত হয়ে আছে প্রতিটি মায়ের অনুকরন দেখে। শিশু সন্তান যখন রাতের বেলায় বিছানা নষ্ট করে তখন মা নিজেই তার শুকনো জায়গা ছেড়ে দিয়ে সন্তানকে নিরাপদে রাখেন। একটি সন্তান যে মায়ের কাছে কতটুকু আপন, তার প্রমান পাওয়া যায় একমাত্র মায়ের নিঃস্বার্থ প্রতিপালনের মধ্য দিয়ে। মা তুলনাহীন। মা শব্দটি অতি ছোট হলেও এর যে ব্যাপ্তি কতখানি গভীর এবং আকাশতুল্য। তা একমাত্র যারা মা হারিয়েছে তারাই হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। মায়ের দোয়া থাকে সন্তানের জীবনের পাথেহ হয়ে। সন্তান একমাত্র মায়ের কাছেই নিরাপদ। একথা বলার অপেক্ষা রাখেনা। এতো গেলো মানব জাতির কথা। একটা মা বিড়ালের সন্তানের প্রতি ভালোবাসার উদাহরন দিলে বোঝা যাবে সন্তান মায়ের মনিকোঠায় কতখানি স্থান দখল করে আছে তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। এব্যাপারে একটি ছোট বাস্তব গল্প বলি। একটি মা বিড়ালের ছিলো একটি সন্তান। কোন এক কারনে ওই ছোট বিড়ালটি মারা যায়। বাড়ির মনিব মরা বিড়ালটিকে বাগানে ফেলে দিয়ে আসে। মা বিড়ালটি সন্তানের জন্য সারা বাড়ি ছুটোছুটি করতে থাকে। এক সময় সে বাগানে গিয়ে মরা বাচ্চাটিকে মুখে করে ঘরে নিয়ে আসে এবং যতœ সহকারে বুকের মধ্যে আগলে রাখে। এভাবে দুদিন রাখার পর মরা বিড়ালটি পঁচে গন্ধ বের হবে দেখে তাড়াতাড়ি মাটিচাপা দিয়ে রাখেন। মা বিড়ালটির এ অবস্থা দেখে ওই মাটির উপর থেকে আর সরানো যায়নি। এক্ষেত্রে বোঝা যায়, সন্তানের প্রতি মায়ের কতখানি দরদ, তার বহিঃপ্রকাশ। মাকে নিয়ে এদেশে বহু গুনী গীতিকাররা গান লিখেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, মায়ের মতো আপন কেহ নাই, মাগো তোর চরন তলে বেহেস্ত আমার, মাগো মা ওগো মা সহ আরোও অনেক। কিন্তু একটি গর্ভজাত সন্তানের প্রতি একজন মায়ের সীমারের কর্মকান্ড নিজ হাতে জ্যান্ত আগুনে পুড়িয়ে হত্যা, সমগ্র মানব জাতিকে হতবাক করে দিল। এই পাষন্ড মা সয়ং আজরাইল (আঃ) কে হার মানিয়েছেন বলে মানব সমাজ মনে করছে। কি করে নাড়ী ছেড়া ধনকে নিজ হাতে চুলার আগুনে পুড়িয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করলো। সে কি মা ছিলো নাকি মায়ের নামে কলংক ছিলো। সুদূর ভৈরবে পেটের সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যার জলন্ত প্রমান পাওয়া গেল। আমাদের প্রতিনিধির দেয়া তথ্য মতে জানা যায় যে, ২ বছর ৬ মাস বয়সের শিশু ইয়ামিনকে জলন্ত চুলায় পুড়িয়ে হত্যা করলো মা। খবর পেয়ে ভৈরব থানার পুলিশ শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মা শিরিন বেগমকে আটক করে পুলিশ। গত শনিবার সকালে উপজেলা শিমূল কান্দি ইউনিয়নের চানপুরে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত শিশুর বাবা জানায় সকালে নাস্তা তৈরি করতে যাওয়ার সময় শিরিন আমাকে দোকান থেকে লবল আনার কথা বলে, আমি তখন তার কথা মতই দোকান থেকে লবল আন্তে যাই। এর ৩০ মিনিট পরেই আমি বাড়িতে ফিরে দেখি আমার বুকের মানিক ইয়ামিনকে জলন্ত চুলার আগুনে ফেলে নিঃশ্বংস ভাবে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিবেশীরা জানায়, সকাল ৯ টার দিকে রান্না করার সময় চুলা থেকে পাতিল তুলে জলন্ত আগুনে শিশু  ইয়ামিনকে ফেলে দেয়। ফলে সে দগ্ধ হয়ে ঘটনা স্থলেই মারা যায়। ঘটনার কিছুসময়  পরেই ভৈরব থানার ওসি মোঃ আবু তাহের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে