বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

টিকেট কিনতে গিয়ে বাবা নিখোঁজ, দুই বছর অপেক্ষায় মারুফা!

প্রকাশের সময়: ৯:৩৮ অপরাহ্ণ - বৃহস্পতিবার | মার্চ ২৩, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকমডটবিডি: সেদিনও ছিল ২৩ মার্চ। আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগে বাবার সঙ্গে মারুফা দাঁড়িয়ে ছিল মোহাম্মদপুরে। বাবা বলেছিলেন দাঁড়িয়ে থাকতে। বাবা যান রাস্তার ওপাশে; বলেন যে, বাসের টিকেট কিনবেন। ওদের সেদিনই বাগেরহাট ফেরার কথা। ঢাকায় বাবা-মেয়ে এসেছিল বেড়াতে।

মোহাম্মদপুরে আল্লাহ করীম মার্কেটের সামনে বাবার অপেক্ষা করছিল মারুফা। সময় যায়। বাবা আর আসে না। ২০১৫ সালের কথা। দুই বছরেও মারুফা বাবাকে পায়নি। তখন মারুফার বয়স ছিল ৮, আর এখন ১০।

বাবা ফিরে না আসায় দুই বছর আগে আল্লাহ করীম মার্কেটের সামনে মারুফা কাঁদছিল। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসে। নাম-ধাম জিজ্ঞাসা করে। মারুফা জানায়, তাদের বাড়ি বাগেরহাটে, বাবার নাম দেলোয়ার হোসেন।

তারপরও মারুফা বাড়ি ফিরতে পারেনি। বাড়ি বাগেরহাট হলেও, ঠিকানা যে জানা নেই তার! আর দেলোয়ার হোসেনেরও কোনো খোঁজ নেই! স্থানীয়রা মারুফাকে মোহাম্মদপুর থানায় নিয়ে যায়। থানা থেকে মারুফাকে কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। আদালত মারুফাকে কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠায়। সেই থেকে মারুফা কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রেই আছে। খোঁজ মেলেনি বাবা দেলোয়ারের।

দুই বছর আগে ঠিক আজকের দিনেই বাবাকে হারায় মারুফা। তখন ঝরছিল চোখের পানি। আজ ২৩ মার্চ বৃহস্পতিবার ঢাকার কিশোর আদালতের সামনে কথা হয় মারুফার সঙ্গে। মারুফা জানায়, দুই বছর আগে ২৩ মার্চ কী ঘটেছিল। অতীতের আর কিছুই বলতে পারে না মারুফা। কেবলই জানায়, বাবা বলেছিল দাঁড়াতে। তিনি যাবেন বাসের টিকেট আনতে।

সাদা সালোয়ার আর মাথা ঢাকা ওড়নায়। ওড়নাটা সাদা, পাড়টা লাল। কাপড়টা বেশ পরিচ্ছন্ন। হয়তো কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে দেওয়া। ছোট্ট শ্যামল চেহারাটা বড় বিষণ্ণ। এ সময় কিশোরীরা উচ্ছল ও প্রাণবন্ত থাকে। কিন্তু মারুফার মন ঢাকা বিষণ্ণতায়। কিছুই বলতে পারে না, কেবল একটা কথা ছাড়া। ‘বাবাকে এনে দিন।’

বাবা এলে নিজ বাড়ি বাগেরহাটে যাবে মারুফা। দুই বছর তো একটা দীর্ঘ সময়!

কিশোর আদালতের বিচারক রুহুল আমিন আজ বৃহস্পতিবার মারুফাকে আয়েশা মেমোরিয়াল ট্রাস্টে পাঠানোর আদেশ দেন।

এ বিষয়ে কিশোর আদালতের আইনজীবী ফারুখ আহম্মেদ বলেন, কিশোরী মারুফাকে আজ আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক মারুফার ছবি তুলে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে বলেছেন। মারুফা যেন তার বাবা-মাকে খুঁজে পায়, সে ব্যাপারে সব পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে