শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

গঙ্গা চুক্তি যার হাতে, তিস্তা চুক্তিও তার হাত দিয়ে হবে

প্রকাশের সময়: ২:৪৩ অপরাহ্ণ - শুক্রবার | মার্চ ২৪, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, গঙ্গা চুক্তি যার হাতে হয়েছে, তিস্তা চুক্তিও তার হাত দিয়েই হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার আছে, রাজ্য সরকারও আছে। সব প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। ভারতের সঙ্গে অনেক অমীমাংসিত বিষয় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাধান করেছেন। আশা করি, তিস্তা চুক্তিও হবে।

আজ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিয়ে নয়। আমরা সামরিক-বেসামরিক যেসব চুক্তি করবো তা হবে বাংলাদেশের স্বার্থের চুক্তি। দেশের জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থী কোনো চুক্তি আওয়ামী লীগ সরকার করবে না।

জঙ্গিবাদ সরকারের অতিরঞ্জিত – বিএনপি নেতাদের এমন দাবির প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, হলি আর্টিজান, শোলাকিয়া, সীতাকুন্ডু, নারায়ণগঞ্জ, বাড্ডাসহ গত কয়েক মাসে যেসব ঘটনা ঘটলো এসব কি অতিরঞ্জিত? আসলে তারাই জঙ্গিবাদকে পৃষ্ঠপোষকতা ও মদদ দিয়ে জঙ্গিদের দুঃসাহস বাড়িয়েছে। জঙ্গি বিরোধী সরকারের সফল কর্মকান্ডে বিএনপি গায়ে জ্বালা ধরছে। তাদের অন্তর্জ্বালা ধরেছে।

কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির দাবি প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলতে বিএনপিকে বিজয়ী করার নিশ্চয়তা দিতে হবে। আমরা এটা দিতে পারি না। এ নিশ্চয়তা দেবে জনগণ।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দল ক্ষমতায় থাকলে নেতা হওয়ার প্রতিযোগিতা বাড়ে। এখন চাটুকারির রাজনীতি চলছে। নেতা তোষণ-চাটুকারের প্রতিযোগিতা চলছে। চাটুকার দেখলে আমার ভয় লাগে। এই চাটুকার মোশায়েকরা বিরোধী দলের বিদ্বেষপূর্ণ রাজনীতির চেয়েও ভয়ংকর।

সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, দলের চেয়ে ব্যক্তি উন্নয়ন করতে গিয়ে দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সারাদেশে ৯০ ভাগ জেলায় আইনজীবী সমিতিতে আমরা নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছি। সেখানে ঢাকায় দুটি আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আমরা হেরে গেলাম। ঢাকা সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বৃহস্পতিবার দুপুরে যখন নির্বাচন চলছিল, তখন নেত্রী অনেক দুর্বলতার কথা আমাকে জানালেন। নেত্রী যে আশঙ্কা করেছিলেন ফলাফল তাই হয়েছে। দলীয় কোন্দল কলহ চলবে না। এটা মিটিয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে হবে।

দল ক্ষমতায় থাকলে নেতা হওয়ার প্রতিযোগিতা চলে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, দল ক্ষমতায় থাকলে নেতা হওয়ার প্রতিযোগীতা চলে। বিরোধী দলে থাকলে প্রতিযোগিতা নেই। এখন পদ দরকার। অনেক শিল্পপতি, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার তাঁতী লীগের পদ পাওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করেছেন। কেন? তারা তো তাঁতী নন? দল ক্ষমতায় আর পদ না থাকলে চলে? বউকে তো বলতে হবে- আমি পদধারি নেতা।

শহরে কৃষক লীগ দরকার নাই সাফ জানিয়ে দিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল আবারও বলেন, কৃষক লীগ হবে গ্রামকেন্দ্রিক। যেখানে কৃষকরা থাকেন। শহরে কৃষক লীগের প্রয়োজন নেই। সত্যিকারের কৃষক লীগ যেখানে সেখানে কৃষকের কল্যাণে কাজ করতে হবে। কৃষককে সংগঠিত করতে হবে। কাতার-কুয়েত শাখায় কৃষক লীগের দরকার নাই।

বঙ্গবন্ধুর ওপর আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের জন্ম দিয়ে দেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তাকে নতুন করে পরিচিত করার দরকার নাই। তিনি বলেন, বাংলাদেশে দু’জন মানুষকে আল্লাহ অশেষ ক্ষমতা দিয়ে জন্ম দিয়েছেন। একজন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি দেশকে স্বাধীন করে দিয়েছেন। আর অন্যজন জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আমাদের মুক্তির জন্য কাজ করছেন। ৭৫’র পরবর্তী রাজনীতিতে তিনি সবচেয়ে জনপ্রিয় শাসক ও নেত্রী। বাংলাদেশে যতগুলো সরকার ক্ষমতায় এসেছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সময় জননেত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচিত সরকার হয়েছেন।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে