রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

৩ দিন পরেও ভোলা বাজার সমিতির মুছা হত্যার ঘাতক ধরা পরেনি

প্রকাশের সময়: ৭:০২ অপরাহ্ণ - বুধবার | মার্চ ২৯, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:
পুষ্পেন্দু মজুমদার-ভোলা প্রতিনিধি: ভোলায় জেলা শহরের পৌর কাঁচা বাজার (তরকারি) সমিতির কোষাধ্যক্ষ মোঃ মুছা মিয়া ( ৫৫ ) কে  গলার ছুরিকাঘাত করে হত্যাকান্ডের ৩ দিন পরেও   বুধবার বিকাল পর্যন্ত ঘাতকদের চিহ্নত করা যায় নি।  হত্যাকান্ডে পেশাদার খুনি , এমন নিখিুত হত্যাকান্ড জঙ্গি বিসয় কিনা তা নিয়েও স্থানীয়দের আলোচনার শেষ নেই। এমন কি ঘাতকরা কি পরিমান টাকা হাতিয়ে নিয়েছে গতকাল পর্যন্ত তাও সঠিকভাবে জানাতে পারছে না  সমিতির কর্তকর্তারা। তবে ওই হত্যাকান্ডের পর বাজার এলাকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। রাত না হতেই শর্তক চলাচল করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। রোববার রাত পোনে ১১টা থেকে  সোয়া ১১টার মধ্যে এ হত্যাকান্ড ঘটে। ভোলা থানারে ওসি মীর খায়রুল কবির জঙ্গি সম্পৃক্ততার বিষয় ওড়িয়ে দিয়ে জানান, এটা নিখিত হত্যাকান্ড এটা ঠিক আছে। তবে ঘাতকদের সঙ্গে মুছার ধস্তাধস্তির আলামত রয়েছে। ঘাতকদের চিনে ফেলার কারনেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে মনে করছে। জেলা পুলিশ গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ ( ডিবি ওসি) মোঃ ফারুক আহম্মদ জানান, তারা ৩টি দফতর এ  হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে কাজ করছেন। খুব শিগগিরই ঘাতকরা ধরা পড়বে। তিনিও জঙ্গি হামলার বিষয় ওড়িয়ে দেন। মামলার আইও এসআই মোঃ জসিম উদ্দিন জানান তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। জব্ধ করা ৯ ইঞ্চি লম্বা ছুরি, হাতের ছাপসহ বেশ কিছু আলামত বিশেজ্ঞরা পরীক্ষা করে দেখছে। এদিকে সমিতির যে ঘরে এ হত্যাকান্ড হয়েছে ওই কক্ষ সিলগালা করে রাখা হয়েছে। ফলে কি পরিমান টাকা ঘাতকরা লুট করেছে তা জানাতে পারছেন না সমিতির কর্মকর্তারা। তবে পুলিশ জানান, কাঁচা বাজারের পদ্মা মার্কেটের দোতলায় সমিতির অফিস হলেও হত্যাকান্ডের সময় নিচতলায় কয়েকটি দোকান খোলা ছিল। ক্রেতাদেরও উপস্থিতি ছিল। অথচ এরা ধস্তাধস্তির কোন শব্ধ শুনতে পান নি। বিষয়টি পুলিশের কাছেও রহস্যাবৃত বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। হত্যাকান্ডের স্পট থেকে ৩৫ ফুট নিচে চা দোকানী মোঃ কালাম জানান, রাতে ওই দোকানে বসেই  চা পান খেয়ে মুছা সমিতির ঘরে যায়। প্রতিদিন এটাই ছিল তার অভ্যাস। ওই দিনও রাত সাড়ে ১০ টায় খুচরা দোকানীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে ওই দোকানে গিয়ে  কিছু সময় আড্ডা দেন। এদিকে ওই বাজারের চা দোকানদার কালাম ও তরকারী বিক্রেতা কালীমুল্লাহ গভীর রাত পর্যন্ত দোকান খোলা রেখে বেচাকেনা করেন। এমন জনারন্যস্থানে  এ ধরনের হত্যাকান্ড ভোলায় প্রথম বলেও জানান স্থানীয় ব্যবসায়ী সাবেক মুদি সমিতির সম্পাদক গোপাল সাহা। তিনি জানান এটা কোন আলামত । তারা এসব বিষয় নিয়ে চিন্তিত। জেলা বিএনপি সম্পাদক হারুন অর রশিদ ট্রুমেন ও তার ভাইদের মালিকানাধিন পদ্মা মার্কেটের দোতলায়  রয়েছে কাচা বাজার সমিতির অফিস। ওই সমিতির মাধ্যমে খুচরা ব্যবসায়িদের লাখ লাখ টাকা লোন দেয়া হয় । প্রতিদিন ওই টাকা কিস্তি আকারে সংগ্রহ করেন মুছা। গত ২৫ বছর ধরে এ কাজে জড়িত তিনি। বিশ্বস্ত হওয়ায় গত কয়েক বছর সমিতির নির্বাচনে মুছা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার বাড়ি বাপ্তা ইউনিয়নের মুছাকান্দি গ্রামে। ৪ সন্তানের জনক মুছা এক মাছ চাষ ও তরকারি ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। শান্ত স্বভাবের মুছার সঙ্গে বাজারের সবার রয়েছে সৌহাদ্য সম্পর্ক। তাকে কেউ হত্যা করতে পারে এটা অনেকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না। তবে পুলিশ জানান, টাকার লেন দেন থেকে এ হত্যাকান্ড হতে পারে এমনটাও পুলিশ তলিয়ে দেখছে। এ ছাড়া চৈত্র মাসে সমিতির থেকে দেয়া ঋনের টাকা তোলার জন্য চৈত্র মাসের শুরু থেকে টাকা আদায় করতে চাপ দিয়ে যাচ্ছিলেন সমিতির নেতারা। আর টাকা সংগ্রহ করেন মুছা। সপ্তাহিক ছুটি ও স্বাধীনতা দিবসের কারনে ব্যাংক বন্ধ থাকায় সমিতির সুন্দুকে ( লোহার আলমিরা) অনেক টাকা জমি যায়। ওই টাকা লুট করতেই দুর্বৃত্তরা হামলা করে। এমনটা মনে করেনে সমিতির সম্পাদক ছগির মিয়া। অপরদিকে ওই বাজারের পাল মার্কেটের পরিচালক বিপ্লব পাল কানাই  বাজার এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানান।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে