বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ | ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

রাজশাহী সিটি করপোরেশন মেয়রের তালাবদ্ধ কক্ষ খোলা হয়েছে

প্রকাশের সময়: ২:৪৯ অপরাহ্ণ - রবিবার | এপ্রিল ২, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি: রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়রের তালাবদ্ধ কক্ষ খোলা হয়েছে। আজ রোববার বেলা দেড়টার দিকে কক্ষের দরজা খোলা হয়।

উচ্চ আদালতের রায় নিয়ে আজ সকাল ১০টার দিকে মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল তাঁর দায়িত্ব নিতে নগর ভবনে আসেন। কিন্তু তালা ঝোলানো থাকায় মেয়র তাঁর কক্ষে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হন। এ নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নগর ভবন।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের ভাষ্য, শতাধিক নেতা-কর্মী সঙ্গে নিয়ে নগর ভবনে আসেন বুলবুল। নিজের কক্ষে তালা ঝোলানো দেখেন তিনি। পরে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে গিয়ে বসেন। তাঁর সঙ্গে আলাপ করেন। এ সময় বিএনপির নেতা-কর্মীরা নগর ভবনে অবস্থান নেন।

দুপুর ১২টার দিকে নগরের বোয়ালিয়া থানার পুলিশ নগর ভবনে আসে। তারা মেয়রের দপ্তরের সামনে থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সরিয়ে করে দিতে গেলে হট্টগোল বাধে। নেতা-কর্মীদের চিৎকার-চেঁচামেচিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নগর ভবন। এ সময় মেয়রের পিএর কক্ষের কাচ ও টেবিল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

মেয়রের পিএ শহিদুল ইসলামের ভাষ্য, বুলবুলের সঙ্গে আসা লোকজনই তাঁর কক্ষে ভাঙচুর চালিয়েছেন।

বিএনপির নেতা-কর্মীদের ভাষ্য, মেয়রবিরোধী লোকজন ভাঙচুর চালিয়ে তাঁদের ওপর দায় চাপাচ্ছে।

দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা একজন তালার মিস্ত্রিকে ডেকে আনেন।

তালা ভাঙার চেষ্টা করলে মেয়রের পিএ শহিদুল ইসলাম ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এ কে এম রাশিদুল হাসান বলেন, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব না এলে তালা খোলা যাবে না।

পুলিশও তালা ভাঙতে বাধা দেয়।

বেলা সোয়া ১১টার দিকে মেয়র বুলবুল প্রথম আলোকে বলেন, উচ্চ আদালতের রায় পাওয়ার পর আজ দায়িত্ব নিতে নগর ভবনে এসেছেন। কিন্তু তাঁর কক্ষে তালা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। উচ্চ আদালতের রায়ের পরও নগর ভবনে তাঁকে বসতে না দেওয়া গণতন্ত্র হত্যার শামিল।

এক প্রশ্নে বুলবুল বলেন, ‘জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে আমি মেয়র হয়েছি। আমি আমার কাজ দপ্তরে বসে করতে পারি, বাড়িতে বসেও করতে পারি।’

সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম শরীফ উদ্দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, উচ্চ আদালতের রায়ের পর মেয়রের দায়িত্ব নিতে বুলবুল আজ নগর ভবনে এসেছেন। কিন্তু তাঁর দপ্তরে কে বা কারা তালা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। খুব দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।

কারা তালা ঝুলিয়েছে জানতে চাইলে শরীফ উদ্দিন বলেন, কে বা কারা তালা ঝুলিয়েছেন, তা তদন্ত করে বের করা হবে।

বেলা দেড়টার দিকে বিশেষ কায়দায় মেয়রের কক্ষের দরজা খুলে ফেলা হয়। সেই সময় পর্যন্ত বুলবুল নগর ভবনেই অবস্থান করছিলেন।

উপরে