বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

মাদক কারবারী এখন প্রথম শ্রেণীর কোটি পতি

প্রকাশের সময়: ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ - বৃহস্পতিবার | মে ১১, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:
ইয়ানুর রহমান-যশোর: নুন আনতে পান্তা ফুরানো সেই চা বিক্রেতা আয়নাল-জয়নাল মাদকের আশির্বাদে শার্শার প্রথম শ্রেণীর কোটিপতিদের মাঝে অবস্থান করে নিয়েছে। গড়ে তুলছে স্থাপনার পর স্থাপনা। মাত্র ১যুগের ব্যবধানে জিরো থেকে হিরো বনে গেছে তারা।

সুত্রের দাবী, রাজনীতিতে আশ্রয়ের জন্য ইতিমধ্যে বিতর্কিত নেতাদের মাঝে শক্ত অবস্থান তৈরী করতে কাজ শুরু করেছে। দুর্বল মানুষের মন জয় করতে ইতিমধ্যে অর্থ ছড়াতে শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত কয়েক বছরে মরন নেশা মদক দ্রব্য ফেনসিডিল, হেরোইন ও ইয়াবার কারবার করে ব্যাপক অর্থ বিত্বের মালিক বনে গেছে আন্তজেলা মাদক কারবারী আয়নাল-জয়নাল। যার মধ্যে ঢাকার এ্যলিফ্যান্ট রোডে কোটি টাকা মুল্যের ফ্লাট, নাভারন সাতক্ষিরা সড়কের দক্ষিন বুরুজ বাগান গ্রামের পূর্ব পাড়ায় ২বিঘা জমির গড়ে তুলছে বিরাস বহুল মার্কেট ও সিনেমা হল, শতাধিক বিঘা জমি, একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উল্লেখযোগ্য।

একাধিক সুত্রের দাবি, শার্শার দক্ষিন বুরুজ বাগান গ্রামের মাঝের পাড়া মৃত আব্দুল কাদেরের দুই পুত্র আয়নাল ও জয়নালকে লোকালয়ে দেখা যায় না। মাঝে মধ্যে রাতের আধারে কারো কারো চোখের সামনে পড়লেও সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে মিলিয়ে যায়। তাদের দুই ভাইকে না দেখা গেলেও তাদেরই ভগ্নিপতি মাষ্টারকে সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। মাদক থেকে স্থাপনা নির্মান সব কিছুই মাষ্টারের দায়িত্বে রয়েছে।

সুত্র আরো জানান, আয়নাল জয়নাল নেপথ্যে থেকে মাষ্টারকে দিয়ে মাদক সহ সমগ্র ব্যবসা পরিচালনা করানোর ফলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থ্যার সদস্যদের চোখ ফাকি দিতে তাদের সুবিধা হচ্ছে।

আয়নাল জয়নালের মাদক ব্যবসা পরিচালনার একাশেংর সদস্য রুবেল জানান, অতি কৌশলে তারা মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। পুলিশ ও র‌্যাবের ভয়ে প্রায় ১বছর আয়নাল জয়নাল লুকিয়ে থাকলেও তার মত ৫০জনেরও বেশি সদস্য তাদের মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। এর বিনিময়ে তারা অনেক বেশি পারিশ্রমিক পায় বলে জয়নালের সহযোগী রুবেল জানায়।

সে আরো জানায়, ভারত ও মায়ানমার হতে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ পিস ইয়াবা তাদের হাতে আসে। আর এ গুলো প্রতিদিনই যশোর সহ বিভিন্ন এলাকায় ঐ সকল সদস্যদের দিয়ে পাচার করা হয়। তবে পুলিশের ঝামেলার কারনে তাদের ব্যবসার কৌশল প্রতিদিনিই পাল্টাতে হচ্ছে। বিভিন্ন হাত হতে আমরা মাদের চালান পেয়ে থাকি। তবে আয়নাল ও জয়নালের দেখা আমার ২/৩ মাসে একবার দেখি।

সুত্রের দাবি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এক ব্যক্তির সহযোগীতায় তারা দুই ভাই আটক হচ্ছে না। উপজেলার চুনপুটি মাদক ব্যবসায়ী মাদক ব্যবসায়ীরা আটক হলেও শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা আটক হচ্ছে না কেন তা সচেতন মহলের ভাবিয়ে তুলেছে।

এ ব্যাপারে শার্শা থানা পুলিশের ইনচার্য মনিরুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আয়নাল ও জয়নালকে আটক করতে বিভিন্ন স্থানে বারবার অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা যায়নি। তবে তাদের সহযোগীদের অনেককে আটক করা সম্ভব হয়েছে। এলাকাবাসীর সহযোগীতা পেলেই আশা করছি তাদেরকেও খুব তাড়াতাড়ি আটক করা সম্ভব হবে।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক জানান, যুব সমাজকে রক্ষা করতে মাদক দ্রব্যের ব্যবহার নির্মূল করতে হবেই। স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইতিমধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মাদক নির্মূলে ব্যাপক ধড়পাকড় শুরু করেছে। আয়নাল ও জয়নালের মত মাদক ব্যবসায়ীদের সআব-মূলে নির্মূল করার সময় এসেছে।#

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে