বুধবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ | ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

সম্মতিতে সেক্স কিভাবে ধর্ষণ, প্রশ্ন ধর্ষক সাফাতের

প্রকাশের সময়: ৩:২৫ অপরাহ্ণ - মঙ্গলবার | মে ১৬, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকমডটবিডি: রুম পার্টি ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে রাতের পর রাত পছন্দের বান্ধবীদের সাথে অবাধ ও অবৈধ যৌনাচারের নানা তথ্য দিচ্ছেন বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের প্রধান অভিযুক্ত ‘সেক্স ম্যানিয়াক’ সাফাত আহমেদ। আর এই অবাধ যৌনাচারের খেলায় সে একা নয়, রয়েছে তার মতো আরও উচ্চবিত্ত-শ্রেণির সন্তানরা।

ধর্ষণের মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে থাকা সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সোমবার রিমান্ডের তৃতীয় দিন তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য জানিয়েছেন।

সূত্রটি জানায়, তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রশ্নের জবাবে সাফাত কিছুটা সাবধানী হলেও যৌনাচার নিয়ে তেমন রাখঢাক নেই। কোনো অপরাধবোধ বা অনুশোচনাও নেই। কারণ তার দাবি সে বা তারা কোনো জোর-জবরদস্তি করে যৌনাচার করেনি। এ ঘটনাও নতুন কিছু নয়। তারা বিভিন্ন অকেশনে প্রায় প্রতিরাতেই রাজধানীর কোনো না কোনো অভিজাত হোটেলে পার্টি করেন। সেখানে ছেলে বন্ধু, মেয়ে বন্ধুরা অংশ নেন। সবাই জানেন সেসব পার্টিতে কি কি হয় বা হবে। সবাই সব জেনে বুঝেই আসেন এবং একে অপরের সাথে সেক্স করেন। সেখানে কারও কোনো অভিযোগের সুযোগ নেই!

সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে সাফাত হোটেল রেইনট্রিতে ঘটনার রাতে দুই তরুণীর সঙ্গে দৈহিক সম্পর্কের বিষয় অস্বীকার করেননি। বরং স্বাভাবিক একটি বিষয়ের মতোই স্বীকার করেন। সাফাত তদন্ত কর্মকর্তাদের আরো জানিয়েছেন, দেশের প্রথম সারির উঠতি মডেল এবং তাদের বান্ধবীরা এসব পার্টিতে স্বেচ্ছায় অংশ নেয়। আর তাদের গ্রুপে অন্তত ২০ জনের মতো বন্ধু আছেন। যারা সমাজের বিত্তশালী ব্যবসায়ী, মন্ত্রী-এমপি, রাজনীতিবিদ ও সরকারি আমলার সন্তান।

সাফাত জানিয়েছেন, সন্ধ্যার পরে তাদের যোগাযোগ এবং একত্রিত হওয়ার পর্ব শুরু হয়। আর মধ্যরাতের আগে সবাই মিলে একেক রাতে একেক হোটেলে যান। মধ্যরাত থেকে শুরু হয় তাদের আসর। মদ ও নানা মাদক গ্রহণ করে দলবদ্ধভাবেই। আর রাত যখন গভীর থেকে গভীর হয়ে ওঠে পার্টির গুরুত্ব আরো বেড়ে যায়। এতে সবার সম্মতি থাকে। দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ তারা এমন পার্টি ও অবাধ যৌনাচার করে আসলেও কোনো অভিযোগ দেয়নি কেউ। কারো ভালো না লাগলে সে পার্টিতে আসে না।

তাহলে কেন তারা ধর্ষণের অভিযোগ আনল- এমন প্রশ্নে সাফাত অবাক হওয়ার ভঙ্গি প্রকাশ করেন। তিনিও উল্টো গোয়েন্দাদের প্রশ্ন করেন। নিজেদের মধ্যে সম্মতিতে যদি সেক্স হয় তাহলে কিভাবে তা ধর্ষণ হয়?

রেইনট্রি হোটেলে দুই তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় রিমান্ডে থাকা সাফাত আহমেদ যেভাবে তাদের অবাধ যৌনাচারের বিষয়ে তথ্য দিচ্ছেন এবং তাদের বন্ধুর তালিকায় যাদের সন্তানদের নাম বলছেন তা শুনে হতবাক গোয়েন্দারা। শুধু তাই নয় কয়েকজনের নাম শুনে গোয়েন্দারা কিছুটা বিব্রতবোধ করছেন বলেও জানা যায়।

সূত্রটি জানিয়েছেন, সাফাত গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদকালে বাবা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের অবৈধ সোনা ব্যবসা ও চোরাচালানের নানা চাঞ্চল্যকর তথ্যও দিচ্ছেন।

সাফাতের প্রতিদিন হাতখরচ দুই লাখ টাকার বরাদ্দ। এ টাকা তার বাবাই তাকে দেয়। কখনো দুই লাখ টাকায় না হলে আরো টাকা নেন। সে ক্ষেত্রে রাজধানীতে আপন জুয়েলার্সের আটটি শোরুমের যেকোনো একটি থেকে টাকা নিতেন। বাবা দিলদার কখনো সাফাতের খরচের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেননি।

গত ২৮ মার্চ বনানীর ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেলে বন্ধুর সঙ্গে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া দুই তরুণী। গত ৬ মে বনানী থানায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, ড্রাইভার বিল্লাল ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন তারা। বর্তমানে সাফাত আহমেদ ছয় ও সাদমান সাকিফ পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।

উপরে