রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

নড়াইলে ‘ইতনা গণহত্যা দিবস’ আজ

প্রকাশের সময়: ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ - মঙ্গলবার | মে ২৩, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডিঃ
আসাদ রহমান ,নড়াইল প্রতিনিধি:
২৩ মে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ইতনা গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এইদিনে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাক হানাদারবাহিনী ইতনা গ্রামে ঢুকে ৩৯ জন স্বাধীনতাকামী মানুষকে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করে। পাক সেনারা ২৩ মে ভোরে মধুমতি নদী পার হয়ে  ইতনা গ্রামে প্রবেশ করে ৩ টি ভাগে বিভক্ত হয়ে বেশকিছু বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয় এবং নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করতে থাকে। এসময় তারা গুলি করে ৩৯ জন স্বাধীনতাকামী মানুষকে হত্যা করে। স্বাধীনতার ৪৬ বছর অতিবাহিত হলেও নিহতদের পরিবার শহীদের স্বীকৃতি পায়নি। এমনকি কবরগুলিও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়নি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই ৩৯ পরিবারকে একবার এককালীন দুই হাজার টাকা করে অনুদান দিয়েছিলেন। এলাকাবাসীর উদ্যোগে ১৯৯৪ সালে শহীদদের স্মরণে ইতনা বিদ্যালয়ের সামনে একটি স্মতি নাম ফলক স্থাপন করা হয়েছে মাত্র। ১৯৭১ সালে মু্িক্ত যুদ্ধকালীণ সময়ে ইতনাগ্রাম অগ্রনী ভুমিকা পালন করে। ইতনা হাইস্কুল মাঠে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হয় এবং এখান থেকেই যুদ্ধের কৌশল ও পরিকল্পনা গ্রহন করা হতো। এ গ্রামের উল্টোদিকে মধুমতি নদীর ওপারে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার চরভাটপাড়া গ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প গড়ে তোলা হয়। পাকবাহিনী বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ২২মে দুপুরে চরভাটপাড়া গ্রামে ঢুকে নিরীহ লোকজনের ওপর হামলা-নির্যাতন শুরু করলে মুক্তিবাহিনী প্রতিরোধ গড়ে তোলে। হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ হয়।

পাকসেনারা পিছু হটে  চরভাটপাড়া গ্রামের কৃষক অনিল কাপালীকে গুলি করতে গেলে গুলি শেষ হয়ে যায়। এসময় কৃষক অনিল কাপালী এক পাক সেনার কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নিয়ে মধুমতি নদীতে সাঁতার কেটে ইতনা গ্রামে আশ্রয় নেন। এই ঘটনার পরদিন ২৩ মে ভোরে পাক হানাদার বাহিনী ইতনা গ্রামে প্রবেশ করে ৩ ভাগে বিভক্ত হয়ে  নির্বিচারে গুলি করে ৩৯ জন স্বাধীনতাকামী মানুষকে হত্যা করে, আহত হয় ৮ জন। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধে অংশনিয়ে এই গ্রামের আরো ১১জন শহীদ হন।সেদিনের সেই ভয়াবহ স্মৃতি চারন করলেন আলী আহম্মেদ মিনা,  আব্দুর রউফ মোল্যাসহ কয়েকজন স্বজনহারা পরিবারের সদস্য। বলেন স্বাধীনতার ৪৬ বছর পার হলেও নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার ৩৯ জনের ভাগ্যে জোটেনি কোন স্বীকৃতি। তাদের কবর গুলো রয়েছে অযতœ অবহেলায়। ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে কবরের চিহ্ন, কোথাও হয়েছে সমতল ভুমি, পরিবারের পক্ষ থেকে বাশের খুটি পুতে নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার পরিবারের স্বজনের শেষস্মৃতি ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। সুফিয়া মিনা তাদেরই একজন ৪৬ বছর আগে হারিয়েছেন স্বামীকে, বয়সের ভারে এখন আর তেমন চলতে পারেননা, নিজের অজান্তেই খুজে ফিরেন সেদিনের হারিয়ে যাওয়া মানুষটিকে, জীবনের শেষপ্রান্তে এসে দাবী করেন তার স্বামীকে দেওয়া হোক মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই ৩৯ পরিবারকে একবার এককালীন দুই হাজার টাকা করে অনুদান দিয়েছিলেন। এই পরিবার সমুহের দাবী তাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক এবং কবরগুলো সংরক্ষন করা হোক। নড়াইল জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার গোলাম কবীর বলেন, তিনি বহুবার সরকারের কাছে ২৩ মে হত্যাকান্ডে নিহতদের স্মরনে স্মৃতিস্থম্ভ করা হোক, তাদের শহীদ হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক দাবী করেছেন। তিনি চেষ্টা করছেন যাতে এটা দ্রুত বাস্তবায়ন হয়। তবে তাদেও স্মরনে এবারও দোয়া ও স্মরন সভার আয়োজন করা হয়েছে।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে