বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

ফেনীর ফুলগাজীতে মা-মেয়ে হত্যাকান্ডে একজনের স্বীকারোক্তি

প্রকাশের সময়: ৩:৪০ অপরাহ্ণ - মঙ্গলবার | মে ৩০, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

শেখ আশিকুন্নবী সজীব,ফেনী প্রতিনিধি

ফেনীর ফুলগাজীতে মা ও মেয়েকে খুনের ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন ফারুক ভূঞা (৪০) নামে এক ব্যক্তি। গতকাল সোমবার বিকেলে ফেনীর বিচারিক হাকিম আদালতে এ জবানবন্দি দেন তিনি।
পুলিশ জানায়, ফারুক উপজেলার জিএম হাট ইউনিয়নের পূর্ব বসিকপুর গ্রামের বাসিন্দা। ফারুককে গত রোববার দুপুরে নিজ গ্রাম থেকে এলাকাবাসীর সহায়তায় গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর গতকাল তাঁকে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম দ্রুব জ্যোতি পালের আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে ফারুক ফাতেমা ও তাঁর মেয়ে ইসফাকে হত্যার দায় স্বীকার করে বক্তব্য দেন।
ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এম মুর্শেদ বলেন, ২৪ মে দুপুরে ফুলগাজী উপজেলার জিএম হাট ইউনিয়নের পূর্ব বসিকপুর গ্রামে বিবি ফাতেমা ও তাঁর ছয় বছর বয়সী মেয়ে ইসফাকে ঘরের মধ্যে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। আদালতে ফারুক ভূঞা বলেছেন, ফাতেমা ঘরে একা আছে জেনেই ফারুক সেদিন দুপুরে ওই বাড়িতে যান। তখন ঘরের মূল দরজা ও রান্নাঘরের দরজা খোলা ছিল। ফারুক রান্নাঘরের দরজা দিয়ে ভেতরে ঢোকেন। তিনি ফাতেমার কাছে জানতে চান, কেন তিনি (ফাতেমা) তাঁর মায়ের কাছে অভিযোগ করেছেন যে ফারুক তাঁকে বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে ফাতেমা তাঁর ঘরে থাকা একটি লাঠি ছুঁড়ে মারেন। পরে সেই লাঠি দিয়ে ফাতেমাকে পেটানো হয়। পরে ফাতেমা ফারুককে লক্ষ্য করে মরিচ বাটার পাথর ছুঁড়ে মারেন। ফারুক পাথরটি আবার ফাতেমার দিকে ছুঁড়ে মারেন। কিন্তু সেটি গিয়ে পড়ে ফাতেমার মেয়ের মাথায়। এ অবস্থায় ফাতেমা চিৎকার দিলে ফারুক ফেঁসে যাবেন এটা মনে করে, প্রথমে মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে ফাতেমাকেও গলা টিপে ও পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন। পুরো হত্যাকাণ্ড তিনি একাই ঘটিয়েছেন।
এ ঘটনায় ২৫ মে নিহত ফাতেমার মা হোসনে আরা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ফুলগাজী থানায় হত্যা মামলা করেন।
ওসি মুর্শেদ জানান, পুলিশ ঘটনার দিন রাতেই পূর্ব বসিকপুর গ্রাম থেকে ছায়েদুল হক ওরফে রনি ও আবদুল কাদের নামে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে