বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

দাম কম তবুও জমে উঠেছে বাজার ভালুকায় কাঁঠালের বাম্পার ফলন

প্রকাশের সময়: ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ - শনিবার | জুন ১০, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডিঃ
আবুল বাশার শেখ, ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারগুলিতে প্রতিদিন চাষিরা কাঁঠাল বিক্রি করতে কাঁঠাল নিয়ে ভীড় করায় বাজার জমে উঠেছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর কাঁঠালের দাম কম হওয়ায় চাষীরা হতাশায় পড়েছেন। উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নের প্রায় সব গ্রামেই প্রাকৃতিক উপায়ে কমবেশী কাঁঠাল চাষ হয়ে থাকে। আর এসব কাঁঠালের বয়স পরিপূর্ণ হলে গাছে পাঁকা শুরু করে। চাষীরা কাঁচা কাঁঠাল গাছ থেকে পেরে ভ্যান গাড়ী করে বিভিন্ন হাট বাজারে নিয়ে যান বিক্রির জন্য। ভালুকা বাসষ্ট্যান্ড, সীডষ্টোর বাসষ্ট্যান্ড, ভরাডোবা বাসষ্ট্যান্ড, উথুরা বাজার, মল্লিকবাড়ী বাজার, বিরুনিয়া বাজার, কাচিনা বাজার, আঙ্গারগাড়া বাজার, কাতলামারী বাজার ও মাষ্টারবাড়ী বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় নিয়ে চাষীরা কাঁঠাল বিক্রি করেন। রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলা হতে পাইকার এসে স্থানীয় ফরিয়াদের সহায়তায় কাঁঠাল কিনে ট্রাক বোঝাই করে নিয়ে যায়। ভালুকার কাঁঠাল বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ বছর প্রতিটি কাঁঠাল ওজন ও আকৃতি অনুসারে ২০ টাকা হতে ১০০ টাকা পর্যন্ত পাইকারী দামে বিক্রি হচ্ছে।
চাষীরা জানায়, গত বছর যে কাঁঠালটি ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে তা এ বছর ৫০ টাকাতেও ক্রেতারা নিতে চাইছেননা। এর কারন হিসেবে চাষীরা মনে করেন যেহেতু জৈষ্ঠ মাস কাঁঠালের ভরা মৌসুম আর এ সময়ে চলছে পবিত্র রমজান মাস যে কারনে দিনের বেলায় পানাহার বন্ধ থাকায় কাঁঠালের চাহিদা অনেক কম হওয়ায় দাম কমে গেছে। অন্যান্য ফল ফ্রিজিং করে রাখা গেলেও কাঁঠাল রাখার কোন ব্যবস্থা না থাকায় গাছ থেকে কাটার পর কাঁঠাল পাকবেই আর তা হয় নিজেদের খেতে হয় নাহলে বাজারে বিক্রি করতে হয়। এজন্য দাম কম হলেও বাজারে নেয়া কাঁঠাল বিক্রি করতে চাষীরা বাধ্য। উপজেলার হবিরবাড়ী, মল্লিকবাড়ী, বাটাজোর, উথুরা, মেদুয়ারী, ভরাডোবা, ভালুকা, ধীতপুর, রাজৈ ও বিরুনিয়া ইউনিয়নে কাঁঠালের ফলন বেশী হয়ে থাকে। কাঁঠাল রসালো মিষ্টি ফল হওয়ায় এটি সব পরিবারেই প্রিয় খাবার। আর এ কাঠাল বিক্রি করে এ অঞ্চলের কৃষকরা লাখ লাখ টাকা উপার্জন করে থাকেন।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে উপজেলার ১১ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে এ বছর সারে ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার  ছোট বড় কাঁঠাল গাছ রয়েছে। প্রতি হেক্টরে ফলন প্রায় ১২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল আজম খান বলেন-বসতবাড়ীর আঙিণা ও জমিতে বাগান হওয়ায় সঠিক কত গাছ বা কাঁঠাল তা বলা না গেলেও ৫/৬লাখ গাছতো হবেই। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ফলবতি গাছ পরিস্কার রাখা ও পোকা দমনে কীটনাশক ব্যাবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
ভালুকায় কম খরচে কৃষকের অর্থকরী ফসলের মাঝে কাঁঠাল অন্যতম। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে কাঁঠাল বিক্রির টাকায় অনেকের সংসারে সচ্ছলতা ফিরেছে।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে