বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

দত্তপাড়া সালিস নামে ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে মাটিকাটা শ্রমিককে প্রকাশ্যে নাকে খত ও লাঠিপেটা

প্রকাশের সময়: ৩:৫৬ অপরাহ্ণ - রবিবার | জুন ১৮, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:
মো: সোহাগ-লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের বড়ালিয়া গ্রামে মাটি কাটা নিয়ে বিরোধ কে কেন্দ্র করে এলাকায় সালিস বসিয়ে এলাকার নিরীহ  শ্রমিক নূরুল আমিনকে (৫০) নাকে খত দেওয়া ও প্রকাশ্যে লাঠিপেটা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আহসানুল কবির রিপনের নির্দেশে এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রোজা শুরুর আগে বড় আউলিয়া গ্রামের নুরুল আমিনের সঙ্গে একই গ্রামের মো. শহিদের মাটি কাটা নিয়ে বিরোধ  হাতাহাতি হয়। তাঁরা দুজনই মাটি কাটা শ্রমিক। এসময় শহিদ সামান্য আহত হয়, পরে অবশ্য নূরুল আমিন তাঁর চিকিৎসা করান।

এ ঘটনায় শহিদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। চেয়ারম্যান দ্বিতীয় রোজার দিন দুপুরে বড় আউলিয়া গ্রামের পল্লী চিকিৎসক শাহজাহানের দোকানের সামনে সালিস বসায়। গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে বাড়ি থেকে নূরুল আমিনকে ধরে আনা হয়।

ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের নির্দেশে স্ত্রী, সন্তান ও শতাধিক মানুষের সামনে গ্রাম পুলিশ তাঁকে লাঠিপেটা করে। এরপর তাঁকে নাকে খত দিতে বাধ্য করা হয়। সালিসের দুই দিন পর জরিমানার ১০ হাজার টাকা আদায় করা হয় তাঁর কাছ থেকে।
পরে ১০-১২টি লাঠি দিয়ে আঘাত করার পর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম জাহাঙ্গীরকে থামিয়ে নূরুল আমিনকে নাকে খত দিতে বাধ্য করেন। সবার সামনে নূরুল আমিন দোষ স্বীকার করে শহিদ ও তাঁর স্ত্রীর পা ধরে ক্ষমা চান।

নূরুল আমিন ও তাঁর পরিবারের অভিযোগ, দত্তপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহসানুল কবির রিপন বিচারের নামে অমানবিক এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। আহসানুল কবির জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক।

সালিসের ঘটনার পর লজ্জায় মুখ দেখাতে পারছেন না নূরুল আমিন। ঘর থেকে বেরোলেই লোকজন অপমানজনক কথাবার্তা বলে। ছেলে-মেয়েরাও ঘর থেকে বের হতে চায় না।
সালিস বৈঠকের এ দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করেন এক ব্যক্তি। ওই বৈঠকে ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) বুলবুল ইসলাম খান ও শতাধিক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিল। গত শুক্রবার গোপনে ধারণ করা ভিডিওটি ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

নির্যাতনের শিকার নূরুল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, স্ত্রী-সন্তান ও সমাজের লোকজনের সামনে আমাকে যে অপমান করা হয়েছে তা আমি ভুলতে পারছি না। এ কথা মনে হলে রাতে ঘুম আসে না। লজ্জায় সন্তানরা ঘর থেকে বের হচ্ছে না আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

এ ব্যাপারে দত্তপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহসানুল কবির রিপন সাংবাদিকদের জানান, ‘আমার একক সিদ্ধান্তে এই বিচার হয়নি। এলাকার পাঁচ সদস্যের একটি সালিসি বোর্ড এ রায় দিয়েছে। ওই সদস্যরা কারা জানতে চাইলে উত্তেজিত হয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি আমার বিরুদ্ধে পত্রিকায় লিখে দেন। ’

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নুরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটি কেউ আমাকে জানায়নি। তবে এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে