সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

শিবগঞ্জে নিজেকে বাঁচার জন্য কিশোরকে ফাঁসালেন আত্মহত্যাকারীর বাবা

প্রকাশের সময়: ৮:১১ অপরাহ্ণ - বৃহস্পতিবার | জুন ২২, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:
রিপন আলি রকি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ: পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মিথ্যা মামলায় ১৪ বছরের এক কিশোর, তার ভাই ও পিতাকে চয়ম হয়রানী করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিকার চেয়ে মিডিয়ার মাধ্যমে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন হয়রানীর শিকার কিশোরের পিতা কামাল উদ্দিন। ঘটনাটি ঘটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের। হয়রানীর শিকার কামাল উদ্দিন ও তার দুই ছেলে সোহেল(১৪) ও সুমন সহ আরও ১০/১২জন।

কামাল উদ্দিনের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৬ জুন মনোহরপুর গ্রামের খাইরুল ইসলাম পারিবারিক কলহের জের ধরে তার মেয়ে শীমফুলকে মারধর করলে অভিমানে তার মেয়ে পরের দিন ১৭ জুন শনিবার দুপুরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে খাইরুল ও তার পরিবার গ্রামের মসজিদের মাইকে খবর দেয় তার মেয়ে বিদ্যুত শর্ট-সার্কিটে মারা গেছে এবং রাত ১০টায় জানাজা শেষে নামোজগন্নাথপুর গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে। কিন্ত ঘটনাটি পুলিশ জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ ময়না তদন্তের জন্য নিয়ে আসলে নিজের বাঁচার জন্য আত্মহত্যাকারী শীমফুলের পিতা খাইরুল এ মর্মে থানায় অভিযোগ দেয় যে, শীমফুলের  সাথে সোহেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এক পর্যায় শীমফুল অর্ন্তস্বত্ত্বা হলে সোহেলকে বিয়ের করার জন্য চাপ দিলে সোহেল ও তার পরিবার শীমফুলকে অপমান করে ফিরিয়ে দিলে অভিমানে শীমফুল অত্মহত্যা করে।

এ অভিযোগটি অস্বীকার করে সোহেল জানান, শীমফুলের সাথে তার কোন প্রেমের সম্পর্ক ছিল না এবং তার সাথে আমার দৈহিক সম্পর্ক প্রশ্নই উঠেনা। বিয়ের চাপ প্রয়োগের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন খাইরুল ও তার পরিবারের কেউ বিয়ের কোন প্রস্তাব নিয়ে যায়নি। ঘটনাস্থলে সরেজমিনে গেলে সাবেক ইউপি সদস্য তোজাম্মেল হক, রুহুল আমিন, আকবর আলিসহ অনেকে জনান, মসজিদের মাইকে তারা শুনেছে যে শীমফুলের মৃত্যু বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিটে হয়েছে এবং রাত ১০ টায় জানাজা হবে।

মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জেম মোশারফ হোসেন ও মোস্তফা জানান, তারা খাইরুলের পরিবারের নির্দেশে জানাজার সময় জানিয়ে মসজিদের মাইকে প্রচার করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান, বিদ্যুতে শীমফুলের মৃত্যু হয়েছে বলে মাইকে প্রচার হয়েছে এবং জানাজার সময় উল্লেখ করা হয়েছে। তারা আরো জানান সোহেল একজন নাবালক এবং তার সাথে শীমফুলের প্রেমের সম্পর্ক বা অর্ন্তস্বত্ত্বা হওয়ার ঘটনাটি কেউ কোন দিনই শুনেনি। খাইরুল ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সোহেল ও তার পরিবারকে ফাঁসাতে এ মামলা করেছে।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই কামরুজ্জামান জানান, লাশটির ময়না তদন্তে ফাঁসিতে ঝুলে মারা যাওয়া ও ৬ সপ্তাহের অর্ন্তস্বত্ত্বার রির্পোট এসেছে। তিনি আরো জানান লাশটি দাফনের জন্য তার পরিবার ব্যবস্থা নিয়েছিল।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে