শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও রাজশাহীতে সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস উদযাপিত

প্রকাশের সময়: ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ - শনিবার | জুলাই ১, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:

রিপন আলি রকি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও রাজশাহীর বিভিন্ন জায়গায় ১৬২তম মহান সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শুক্রবার দিনব্যাপী বরেন্দ্র অঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিস্বত্তার মানুষেরা শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় নাচোল আদিবাসী একাডেমীর উদ্যোগে বেলা ১১টায় উপজেলা চত্ত্বর থেকে শোভাযাত্রা বের হয়। এতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস, উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ নাজমুল হকসহ আদিবাসী নেতৃবৃন্দ ও দুর-দুরান্ত থেকে আসা সাঁওতাল, ওরাও, মুন্ডাসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিস্বত্তার নারী-পুরুষ ও শিশুরা অংশ নেয়। শোভাযাত্রাটি শহর প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
নাচোল আদিবাসী একাডেমীর সভাপতি যতিন হেমব্রমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে সাংসদ গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, ইউএনও মুহাম্মদ নাজমুল হক, উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি হিংগু মুরমু বক্তব্য দেন। অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন ওরাওদের নাচোল ও নিয়ামতপুর দিঘরী পরিষদের রাজা বাবুলাল টপপো, চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আনোয়ার হোসেন দিলু, আদিবাসী নেতা দিপক কিসকু, বিশ্বনাথ মাহাতো, মন্টু খালকো, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সভাপতি মনোরঞ্জন সরকার প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার জন্য বাঙ্গালিরা ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে রক্ত দিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় জাতিগত নিপীড়নের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে ক্ষুদ্র জাতিস্বত্তার মানুষেরাও রক্ত দিয়েছে। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এ দেশে ক্ষুদ্র জাতিস্বত্তার মানুষেরা নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি, সম্ভ্রম ও সম্পদ নিয়ে সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকতে পারবে না, এটা হতে পারে না। তাঁরা জাতিগত নিপীড়নের শিকার হলে বাঙালিরা মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গর্ব করতে পারবে না। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, যে শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ১৮৫৫ সালে সাঁওতাল বিদ্রোহ হয়েছিল, সেই শোষণ-নিপীড়ন আজো শেষ হয়নি। আজো আদিবাসী নারীরা ধর্ষিত হচ্ছে। তাঁদের জমিজমা, সমাধিস্থল গ্রাস করছে ভূমিদস্যুরা। নীরবে নিভৃতে দেশ ত্যাগ বন্ধ হয়নি তাঁদের।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংসদ গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস বলেন, সংঘবদ্ধ ভূমিদস্যুরা আজো নানাভাবে তৎপর। আমরা ভূমিদস্যুদের রুঁখবো। ক্ষুদ্র জাতিস্বত্তার মানুষদের ন্যায়সঙ্গত সমস্ত দাবি ও আন্দোলনের পাশে থাকবো।
এছাড়া অনুষ্ঠানে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক নিরাপত্তা, মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার অধিকার, সমতলের আদিবাসীদের জন্য বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধিসহ আট দফা দাবি উত্থাপিত হয়। শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিকেলে নাচোল উপজেলা মাঠে সিধু-কানু স্মৃতি ফুটবল প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে সদর উপজেলার টংপাড়ায় গ্রামবাসীর উদ্যোগে সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস উদযাপিত হয়। শোভাযাত্রা শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামের নেত্রী কুটিলা রাজোয়ারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন আদিবাসী নেতা এভারিষ্ট হেমব্রম, বিধান সিং, কর্ণেলিউস মুরমু, মদন হাসদা, রতিলাল মুন্ডা, টুনু পাহান, অনিতা রাজোয়ার, হিন্দু মহাজোটের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক বলরাম বসাক, জাতীয় যুব হিন্দু মহাজোটের প্রধান সমন্বয়ক সন্তোষ মাহাতো, স্থানীয় নেতা উত্তম বর্মণ, আওয়ামী লীগ নেতা শরিফ আহমেদ প্রমূখ।
অন্যদিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কাঁকনহাটে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার আঘোর বালাতৈরে সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস উদযাপন কমিটি, সাপাহারে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে