বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ | ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ: প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত

প্রকাশের সময়: ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ - রবিবার | জুলাই ২, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:

ইয়ানুর রহমান-যশোর: অধীনস্ত এক শিক্ষিকার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের গুজবে মণিরামপুরের জয়পুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরিতোষ সরকারের অফিস রুমে তালা ঝুলিয়ে দেওয়াসহ তাকে লাঞ্ছিত করেছেন এলাকার লোকজন। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

পরে প্রধান শিক্ষকের পক্ষের লোকজনের সহায়তায় তালা ভেঙে অফিসে ঢোকেন তিনি। তবে প্রধান শিক্ষক পরিতোষ বলেন, নির্বাচনে হেরে এক অভিভাবক সদস্য তাকে হেয় করার ষড়যন্ত্রে নেমেছেন।

শনিবার ওই স্কুলে গেলে এলাকার ক্ষুব্ধ কিছু লোক জানান, বহুদিন ধরে নিজ প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষিকার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক চলছে প্রধান শিক্ষক পরিতোষের। তিনি প্রায়ই অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ওই শিক্ষিকার বাসায় যান। নিজ স্ত্রীর অনৈতিক কাজ ঠেকাতে না পেরে ওই শিক্ষিকার স্বামী স্ট্রোক করে এখন শয্যাশায়ী। যা নিয়ে কানাঘুষা চলে শিক্ষিকার বাড়ির আশপাশের লোকজনের মধ্যেও।

তারা জানান, একই ঘটনায় অশান্তি শিক্ষক পরিতোষের পরিবারেও। গত ২৯ মে অন্যান্য দিনের মতো ওই শিক্ষিকার শহরের বাসায় যান পরিতোষ। ওইসময় স্থানীয়রা তাকে ধরে লাঞ্ছিত করেন। তখন স্কুলে রোজার ছুটি চলছিল।

এদিকে এক কান দুই কান করে বিষয়টি ছড়িয়ে পরে জয়পুরসহ আশপাশের এলাকায়। দীর্ঘ ছুটি শেষে শনিবার স্কুল খুললে সকালে প্রধান শিক্ষক পরিতোষ কর্মস্থলে যান। তখন এলাকার কিছু লোক তাকে পেয়ে লাঞ্ছিত করেন। ক্ষুব্ধ লোকেরা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভও করেন। পরে অবশ্য বিদ্যালয়ের সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা মোন্তাজ মহলদারসহ প্রধান শিক্ষকের পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে এলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

জানতে চাইলে পরিতোষ সরকার বলেন, ‘ওই শিক্ষিকার স্বামী অসুস্থ, একমাত্র ছেলে বিদেশে থাকে। তাই ভালোমন্দ দেখতে আমাকে তার বাসায় যাওয়া লাগে। গত ২৯ মে দুপুরে আমি শিক্ষিকার বাসায় গিয়েছিলাম ঠিকই। ওনার ছেলে বিদেশ থেকে এসেছে। তাকে নিয়ে ব্যাংকে যাব বলেই ওই বাসায় যাওয়া। তখন স্থানীয় কয়েকজন এসে আমার সাথে উল্টাপাল্টা কথা বলতে থাকে। তাদের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার ভয়ে আমি গেটের ভেতরে চলে যাই।’

পরিতোষ দাবি করেন, ওই দিনের ঘটনাটি আস্তে আস্তে এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করতে থাকে। নির্বাচনে হেরে হামিদ নামের একব্যক্তি তাকে নিয়ে চক্রান্ত করছেন বলে দাবি পরিতোষের।

স্কুলেই দেখা হয় অভিযুক্ত শিক্ষিকার সঙ্গে। তিনি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘আমার বাসায় তো অনেকবার চুরি হয়েছে। তখনতো আপনাদের কাউকে দেখিনি। আর এখন একটা কথা শুনেই আপনারা ছুটে এসেছেন!’

বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোন্তাজ মহলদার বলেন, ‘অভিযোগ আসছে স্কুলের এক শিক্ষিকার সাথে প্রধান শিক্ষকের অনৈতিক সম্পর্কের। এটা নিয়ে কারা নাকি তাকে বাজারে লাঞ্ছিত করেছে। বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির এক সিনিয়র সদস্য আমাকে বলেছেন।’

‘শুনছি, হেড মাস্টারের কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে দিলে তিনি চেপে যাবেন। আমি তার কথায় রাজি হইনি বলেই সে লোকজন নিয়ে একাজ করেছে,’ যোগ করেন সভাপতি।

মণিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আকরাম হোসেন খান বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। রোববার অফিস আওয়ারে গিয়ে খোঁজ নেব।’

উপরে