সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

রংপুরের হারিয়ে যাচ্ছে কাউনের চাষ

প্রকাশের সময়: ৯:২০ অপরাহ্ণ - শুক্রবার | জুলাই ৭, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:
নূর হাসান চান-রংপুর:  রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় এক সময়ে ব্যাপক ভাবে কাউনের চাষাবাদ হতো। কাউনের ব্যাপক চাষের কারনে এই উপজেলার নাম কাউনিয়া হয়েছে মর্মে প্রচলিত কথা রয়েছে। কাউন থেকে কাউনিয়া। সেই কাউনিয়ায় এখন আর কাউনের তেমন চাষাবাদ হয় না। ফলে কাউনিয়ার নাম করনের সার্থকতা ও কাউন চাষের ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে বয়স্ক মানুষের কাছ থেকে জানাগেছে এক সময়ে কাউনিয়া উপজেলার আনাচে কানাচে বিশেষ করে চরাঞ্চলে কাউনের চাষ হতো। রংপুর আঞ্চলের মানুষের আথিতিয়তার একটি বিশেষ স্থান করে নিয়েছিল কাউন। গ্রাম বাংলার জনপ্রিয় পায়েস, ক্ষীর, মলা, বিস্কুট তৈরীর উপাদানে কাউনের চাউলের কদর ছিল ব্যাপক, তাই ভোজন প্রিয়াসী গৃহস্থরা ধান চাষের পাশা পাশি কাউনের চাষ করতো। রাজা জমিদারদের এলাকা  হিসেবে পরিচিত রংপুর অঞ্চলের রাজা জমিদার বিত্তবানদের খাবার তালিকায় প্রসিদ্ধ কাউনের চালের পায়েস ও ক্ষীর সর্বাগে শীর্ষে ছিল। বর্তমানে কৃষি বিভাগের নজরদারীর অভাবে কালের আবর্তে কাউন চাষ হারিয়ে যাচ্ছে। সাধারন মানুষের রুটি রুজির পরিবর্তনের সাথে সাথে কাউনের চাষ কমে যাচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ঘুরে দেখাগেছে হাতে গোনা দু-একটি কাউনের ক্ষেত। কিছু কিছু সৌখিন চাষি অল্প কিছু চরের জমিতে কাউনের চাষ করেছে। চর নাজিরদহ গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হক জানান তিনি চলতি মৌসুমে ১৪শতক জমিতে কাউনের চাষ করে ২ মন কাউন পেয়েছেন। কাউন চাষে তেমন কোন খরচ নাই, কোন সেচ দিতে হয় না। দোন (২৫শতক) প্রতি ১০ কেজি ইউরিয়া চাষের এক মাসের মধ্যে দিলেই হয়। কিন্তু এর সঠিক বাজার ব্যাবস্থাপনা না থাকায় চাষিরা কাউন চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায় কাউনের তেমন চাষ না হওয়ায় এর চাষের সঠিক পরিসংখ্যান নাই। কৃষি অফিসার শামিমুর  রহমান জানান চরাঞ্চলের কৃষকদের ধান চাষের পাশা পাশি কাউন সহ ভিন্ন ভিন্ন ফসলের চাষের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়ে থাকে। এ ছারা কোন কৃষক যখনই কোন ফসল নিয়ে সমস্যায় পরে তাদের পরামর্শ দেওয়া হয়। এলাকা বাসীর দাবী কাউনিয়ার ঐতিহ্য কাউন,এ কাউন চাষ বৃদ্ধির জন্য সরকারের প্রনদনা দেওয়া প্রয়োজন।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে