সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

গোয়ালন্দে ট্রাক ওয়েট স্কেলের ওজন কার্যক্রম বন্ধ কমে গেছে সরকারের রাজস্ব আয়

প্রকাশের সময়: ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ - সোমবার | জুলাই ১৭, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি
মো: মাহ্ফুজুর রহমান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা কোট চত্ত্বর এলাকায় স্থাপিত বিআইডব্লিউটিসি’র অধিনস্থ ডিজিটাল রোড ভেহিক্যালস্ ওয়ে ব্রীজ স্কেল (দৌলতদিয়া ওজন স্কেল) বর্তমান ওয়ে স্কেলটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ ৩দিন যাবৎ ওই স্কেলের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় হাতে লিখে দেওয়া হচ্ছে ট্রাক চালকদের ট্রাকের ওজন স্লিপ। এই স্কেল থেকে সরকারের প্রতিদিন প্রায় লক্ষাধিক টাকা রাজস্ব আয় হলেও সময় মতো কর্তৃপক্ষের সু-নজরদারী অভাবে ও পরিকল্পনাবিহীন মেরামতে প্রতিনিয়তই স্কেলের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। এতে করে দিন দিন কমে যাচ্ছে সরকারের রাজস্ব আয়। অপর দিকে ঢাকামুখী পণ্যবাহী ট্রাক চালকদের দূর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের দৌলতদিয়া ঘাট হয়ে ঢাকামুখী পণ্যবাহী ট্রাক গোয়ালন্দ উপজেলা কোর্ট চত্ত্বর দৌলতদিয়া ওজন স্কেল ট্রাক ওজন করেই পদ্মা নদী পারাপার হয়ে থাকে। এ রুটে চলাচলরত ঢাকামুখী পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার ভ্যান সহ মালবাহী ছোট-বড় পিকাপ ভ্যান নির্দিষ্ট ওজন নিয়ে ফেরীতে উঠার জন্যই স্থাপিত হয় ওজন স্কেলটি।

বিআইডব্লিউটিসি’র অধিনস্থ দৌলতদিয়া ওজন স্কেলের অফিস সুত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জুলাই দুপুর হতে স্কেলটি একেবারেই বিকল হয়ে পড়েছে। ওই দিন থেকেই হাতে লিখে ট্রাকের ওজন স্লিপ দেওয়া হচ্ছে। আরো জানা গেছে, পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির পূর্বে এই স্কেল দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫ শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাকের ওজন করা হতো। বর্তমান নদীতে পানি বৃদ্ধি ও প্রবল ¯্রােতের কারণে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় পণ্যবাহী ট্রাকের লম্বা লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যানবাহনের চাপ  আগের তুলনায় কম হয়েও যানজট দেখা দেয়। সোমবার সকালে স্কেল পরিদর্শনকালীন দেখা গেছে, ডিজিটাল রোড ভেহিক্যালস্ ওয়ে ব্রীজ স্কেল (দৌলতদিয়া ওজন স্কেল)’টি যেমন বেহাল অবস্থা, তেমনি স্কেলে ট্রাক উঠা-নামার এ্যাপ্রোজ সড়কের। স্কেলটির গাডার, চেকার প্লেটে মরিচা ধরে ও ভেঙ্গে নষ্ট হয়ে গেছে। যা পণ্যবাহী ট্রাকের ওজন নিতে সক্ষম নয়। গত জুন মাস থেকেই স্কেলটির চেকার প্লেট ভেঙ্গে যাওয়ায় ট্রাক চালকরা ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক ওজন করেছে। স্কেলটির দুই পাশের কালো কালো ধারালো ঝামা ইট ফেলা গর্ত ভরাট তৈরি করা হয়েছে এ্যাপ্রোজ সড়ক। এ্যাপ্রোজ সড়কে পিচ ঠালাই না দিয়ে ভাঙ্গা ইটের দৌলতে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দের ইট-মাটির মারাত্বক দূর্ঘটনা পূর্ণ এ্যাপ্রোজ সড়ক। ট্রাক চালকদের মনে ভয় যে জয় করে নিয়েছে, কখন যে স্কেলে মালভর্তি ট্রাক উঠার পর স্কেলের গাডার ও প্লেট ভেঙ্গে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। আবার স্কেলে উঠা ও নামার সময় কখন যেন ট্রাকের চাকা বাষ্ট হয়ে যায়। এতে করে ঢাকা অভিমুখী ট্রাক চালকরা অতিষ্ট হয়ে পরে। নানা ভোগান্তি ও স্কেলের বেহাল দশার দূর্দশার শেষ দেখতে চায়  ট্রাক চালকরা।

স্কেলটি স্থাপনে সরকারের যেভাবে রাজস্ব আয় হয় কিন্তু সে ভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নজরদারী নাই। স্কেলের উপরে চেকার প্লেট ভেঙ্গে যাওয়ায় ট্রাক চালকরা ঝুকি নিয়ে গাড়ী পার করেন। মাঝে মাঝে গাডার, চেকার প্লেট পাল্টানোর নামে লাখ লাখ টাকা খরচ করা হয়। অথচ দীর্ঘ মেয়াদী কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। স্কেল স্থাপনের পর থেকে আজও স্কেলের দুই পাশে এ্যাপ্রোজ সড়ক মেরামতের নামে সঠিক মেরামত হয়নি।

এ ব্যাপারে দৌলতদিয়া ঘাটের বিআইডব্লিউটিসি’র ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম জানান, বছরের বিভিন্ন সময় স্কেলটি বিকল হওয়ায় উদ্ধর্তণ কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা হয়েছে। আশা করি, স্কেলটি পূণরায় মেরামত বা পাশ্ববর্তি জেলা মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় স্থাপিত ট্রাক ওজন স্কেলের ন্যায় নতুন করে স্থাপন করার পরিকল্পনা চলছে। চলতি মাসের মধ্যে নতুন স্কেল স্থাপনের কাজ শুরু করা হবে।

জানা গেছে, প্রায় ৪ বছর আগে ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স বেলাল এন্ড ব্রাদার্স কোম্পানী স্কেলটি স্থাপন করে। ওই স্থাপনের সময়ই স্কেলটির দুই পাশে কাচা মাটির উপর নাম মাত্র কার্পেটিং করে। তৎকালীন সময় ৩মাস যেতে না যেতেই কার্পেটিং উঠে স্কেলের দুইপাশে কাদামাটির রাস্তায় পরিনত হয়। সে থেকেই ভাঙ্গা ইট বালু ফেলতে ফেলতে বর্তমানে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অভিজ্ঞ মহলের অনেকেই ধারনা করছে, নি¤œমানের মালামাল ব্যবহারের ফলেই বার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে