বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

অগ্নিনির্বাপক উপকরণ আমদানিতে ৫% শুল্কের বদলে দিতে হচ্ছে ৮৯%

প্রকাশের সময়: ৪:২২ অপরাহ্ণ - বুধবার | আগস্ট ১৬, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:

শিল্প মূল্যায়নে নিয়োজিত ইউরোপভিত্তিক ক্রেতাজোটের পরামর্শে কারখানার অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য স্প্রিংকলার স্থাপনের উদ্যোগ নেয় পোশাক খাতের প্রতিষ্ঠান স্টিচড অ্যাপারেল (ছদ্মনাম)। এজন্য পাইপসহ সংশ্লিষ্ট কিছু উপকরণ আমদানি করতে হয় প্রতিষ্ঠানটিকে। আমদানি দলিলে এইচএস কোড দেয়া থাকলেও পণ্যের নাম ভুলভাবে উল্লেখ করেন প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক কর্মকর্তা। ফলে কারখানার অগ্নিনিরাপত্তা যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশনা অনুযায়ী ৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করার কথা থাকলেও হয়েছে ৮৯ শতাংশ। শুধু স্টিচড অ্যাপারেল নয়, বাণিজ্যিক কর্মকর্তাদের একই ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটছে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও, যার ফাঁদে জড়িয়ে বাড়তি শুল্ক পরিশোধ করতে হচ্ছে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে।

অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র আমদানিতে ঘোষিত ও পরিশোধিত শুল্কের মধ্যে অসামঞ্জস্যের কারণ যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে এ ভুলের বিষয়টি উঠে আসে। দেখা যায়, আমদানি নথিতে এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী পণ্যের এইচএস কোড উল্লেখ থাকলেও যন্ত্রাংশের নাম ভুলভাবে উপস্থাপন করছেন প্রতিষ্ঠানগুলোর বাণিজ্যিক কর্মকর্তারা। এ কারণেই বেশকিছু প্রতিষ্ঠানকে অগ্নিনিরাপত্তা উপকরণ আমদানিতে ঘোষিত শুল্কের অতিরিক্ত পরিশোধ করতে হয়েছে। গত এক মাসে এ ধরনের পাঁচ-সাতটি ঘটনা ঘটেছে বলে খাতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জুন একটি এসআরও জারি করে এনবিআর। এর মাধ্যমে ৫৫টি অগ্নিনিরাপত্তা উপকরণ আমদানিতে ৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে শুল্ক বিভাগের প্রতি আদেশ দেয়া হয়। শর্ত হিসেবে এসআরওতে উল্লেখ করা হয়, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার লে-আউট প্ল্যানবহির্ভূত কোনো পণ্য এ প্রজ্ঞাপনের অধীনে রেয়াতি সুবিধা পাবে না। এদিকে বাণিজ্যিক কর্মকর্তারা আমদানি দলিলে এইচএস কোড ঠিকভাবে লিখলেও ভুল করছেন পণ্যের বিবরণীতে। বিশেষ করে এসআরওবহির্ভূত পণ্য হিসেবে এসব অগ্নিনিরাপত্তা উপকরণ আমদানিতে ৫ শতাংশের স্থলে শুল্কারোপ হচ্ছে ৮৯ শতাংশ।

চট্টগ্রাম শুল্ক বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, এসআরও প্রকাশের পর অগ্নিনিরাপত্তা উপকরণের বেশকিছু আমদানি চালান এসেছে চট্টগ্রাম বন্দরে। এনবিআরের রেয়াত সুবিধাও পেতে শুরু করেছেন শিল্পমালিকরা। এর পরেও আমদানি নথিতে পণ্যের বিবরণ ভুলভাবে উপস্থাপনের কারণে বেশকিছু পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান রেয়াতি সুবিধার দাবিদার হলেও তা পায়নি। গত এক মাসে এ ধরনের পাঁচ-সাতটি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বাণিজ্যিক কর্মকর্তাদের ভুলে সরকার ঘোষিত শুল্ক সুবিধা নিতে ব্যর্থ হয়েছে সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষ।

এখন পর্যন্ত এ ধরনের পাঁচটি ভুলের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। সংগঠনটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘বাণিজ্যিক কর্মকর্তারা আমদানি দলিলে যথাযথভাবে তথ্য উল্লেখ করার ক্ষেত্রে ভুল করেছেন। আর এর মাশুল হিসেবে মালিকপক্ষকে উচ্চহারে শুল্ক পরিশোধ করতে হচ্ছে। এ ধরনের অসচেতনতামূলক আর্থিক ক্ষতি এড়াতে আমরা সদস্যদের আরো সতর্ক হতে বলেছি।’

জানা গেছে, সম্প্রতি সংগঠনের সদস্যদের জন্য একটি সতর্কতামূলক বার্তা দিয়েছে বিজিএমইএ। এতে স্প্রিংকলার বা হাইড্রেন্ট ব্যবস্থা স্থাপনের উপকরণ হিসেবে পাইপ আমদানি বিষয়ে বলা হয়, ‘এসআরও-১৫৮-এর ৫ শতাংশ রেয়াতি হারে সুবিধা পাওয়ার লক্ষ্যে আমদানি দলিলে এইচএস কোড বা হারমোনাইজড সিস্টেম কোড ৭৩০৭.৩৯.৯০ উল্লেখপূর্বক সিমলেস পাইপ লেখা থাকা আবশ্যক। অন্যথায় ওয়েল্ডেড পাইপ, স্টিল পাইপ, ব্ল্যাক পাইপ, কার্বন স্টিল পাইপ ইত্যাদি নাম উল্লেখ করে চালান তৈরি করলে তা শুল্কায়ন জটিলতা সৃষ্টি করে। এছাড়া এসআরও-১৫৮-এর আওতায় রেয়াতি সুবিধা পাওয়ার জন্য স্প্রিংকলার সিস্টেম, হাইড্রেন্ট, ফায়ার অ্যালার্ম সিস্টেম বা ফায়ার সেফটি ইত্যাদি যাবতীয় উপকরণ আমদানিতে এসআরওর বর্ণনা অনুসরণ করে ইনভয়েস বা চালান তৈরি করা আবশ্যক।’

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে