বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ | ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

৬ লাখ মানুষ পানি বন্দি ॥ ত্রাণের জন্য হাহাকার

প্রকাশের সময়: ৪:৪৪ অপরাহ্ণ - শুক্রবার | আগস্ট ১৮, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:

জিএম ফাতিউল হাফিজ বাবু, জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরে কমতে শুরু করেছে বানের পানি। কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি। গত ২৪ ঘন্টায় যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে ১৩৪ সেন্টিমিটার থেকে কমে বিপদ সীমার ১২৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরপরও ৬লাখ মানুষ পানিবন্দি রয়েছে, ৮শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বন্যায় জেলার ৭টি উপজেলার ৫৫টি ইউনিয়ন ও ৫টি পৌরসভার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে অন্তত ৬ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়েছে। পানিবন্দি মানুষ বাড়ি-ঘর ছেড়ে নৌকা, আশ্রয় কেন্দ্র, বাঁধ, কলাগাছের ভেলায় ও উচু স্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অনেকস্থানে বানভাসী মানুষ ও গৃহপালিত পশু একসাথে বসবাস করছে। বন্যা কবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য ও গো-খাদ্যের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ভেঙ্গে পড়েছে স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা। সবমিলিয়ে বন্যা দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ পৌছেছে চরমে। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে জেলার ৬ হাজার পুকুরের মাছ।
এছাড়াও জেলার মেলান্দহের দুরমুঠ এলাকায় রেল লাইন বন্যার পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় জামালপুর থেকে দেওয়ানগঞ্জ পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। জেলার দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ ও সরিষাবাড়ী উপজেলা সমুহের সকল সড়ক যেযাগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়াও জেলার সরিষাবাড়ীতে বন্যার পানির চাপে তারাকান্দি-বঙ্গবন্ধু সেতুর সংযোগ সড়ক  হুমকির মুখে পড়েছে। ওই সড়ককটি রক্ষায় সেখানে সেনা সদস্যরা কাজ করছেন। যমুনার পানি বিপদসীমার উপরে থাকায় হুমকীর মুখে পড়েছে তারকান্দি-ভূয়াপুর সড়ক বাঁধ। জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এই সড়ক বাঁধটি পরিদর্শন করেছেন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বানভাসীদের জন্য ১২৮ মে. টন চাল ও নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। অপ্রতুল বরাদ্দের কারনে এখনো অনেক এলাকায় সরকারিভাবে ত্রাণ তৎপরতা শুরু হয়নি।
এছাড়াও মাদারগঞ্জ উপজেলার দুটি বাঁধ ও সরিষাবাড়ি উপজেলার ২টি বাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। বানবাসীদেও মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
তবে জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ তৎপরতা চালানো হচ্ছে। পানিবন্দি মানুষকে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।
ইসলামপুরে ইউএনও এবিএম এহছানুল মামুন জানান, বন্যায় ইলামপেেুরর ৪৮ হাজার পরিবারের ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যার্তদের মাঝে ইতিমধ্যেই ১০ মেট্রিক টন চাল ও ৬শ পেকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
জামালপুর রেলস্টেশন মাষ্টার জানান, মেলান্দহের দুরমুঠ এলাকায় রেল লাইন বন্যার পানির নিচে তলিয়ে গেছে। জামালপুর থেকে দেওয়ানগঞ্জ পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও জামালপুর সরিষাবাড়িতেও ট্রেনচলাচল বন্ধ রয়েছে। একথায় বলা যায় জামালপুর জেলা শহরের সাথে নৌকা ছাড়া চলাচলের আর কোন যোগাযোগ মাধ্যম নেই বললেই চলে।

উপরে