বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

আইভি রহমানের ১৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশের সময়: ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ - বৃহস্পতিবার | আগস্ট ২৪, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:

রাজীবুল হাসান, ভৈরব প্রতিনিধি ॥  অকুতোভয় নারী নেত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের মদদে ইতিহাসের ঘৃণিত ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি, নারী মুক্তি আন্দোলনের অগ্রদূত, প্রয়াত মহামান্য রাষ্ট্রপতি আলহাজ্ব জিল্লুর রহমানের সহধর্মীনি বেগম আইভি রহমান রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে সন্ত্রাস বিরোধী জনসভায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। এরপর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ২৪ আগস্ট তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে ভৈরব উপজেলা আওয়ামী লীগ ও পৌর আওয়ামী লীগ তার পরিবারের লোকজন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দিনের কর্মসূচির মধ্যে সকাল ৭টায় শহরের দলীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন ও কালো ব্যাজ ধারণ, সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে কোরআন খতম, সকাল ১০টায় পৌর শহরের কমলপুর ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন শহীদ আইভি রহমান তোরণে পুস্পস্তবক অর্পণ, বিকাল ৪টায় দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।  তাছাড়া শহরের ভৈরব পেসক্লাবে সন্ধ্যা ৭টায় মরহুমার স্মরণে মিলাদ, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে এবং   ভৈরবপুর তার নিজ বাড়ি আইভি ভবনে সারাদিন ব্যাপী খতমে কোরআন খানি ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

আইভির পুরো নাম জেবুন নাহার আইভি। বিয়ের পর নামের সঙ্গে স্বামীর নামের শেষ অংশ যোগ হয়ে  আইভি রহমান। আইভি রহমান ১৯৪৪ সালের ৭ জুলাই ভৈরবের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সালে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আলহাজ্ব মো. জিল্লুর রহমানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার বাবা জালাল উদ্দিন আহমেদ ছিলেন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ প্রথিতযশা এবং শিক্ষাবিদ। মা হাসিনা বেগম একজন আদর্শ গৃহিনী। ৮ বোন, ৪ ভাইয়ের মধ্যে আইভি ছিলেন ৫ম। বিবাহিত জীবনে তিনি, এক ছেলে পাপন দুই মেয়ে তানিয়া ও ময়না এবং স্বামী জিল্লুর রহমানকে নিয়ে সংসারে সুখেই ছিলেন। স্বাধীনতার আগে আইভি রহমান ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকার মধ্য দিয়ে অসম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক  রাজনীতির বর্ণাঢ্য জীবন শুরু করেন। ছাত্রজীবনে তিনি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে শোষিত বাংলা ও বাঙ্গালী জাতির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি তখন ছাত্রলীগের ১ম সারির নেত্রী এবং নীতিনির্ধারক। তিনি ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত মহিলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালে বাঙ্গালীর স্বাধীকার আদায়ের লক্ষ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি ভারত গিয়ে সশ্রস্ত্র ট্রেনিং নেন। ১৯৭৮ সালে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮০ সালে কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। এর আগে আইভি রহমান মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। রাজনীতি ছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছিলেন। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত মহিলা সমিতির সভানেত্রী ও জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত মহিলা সংস্থা এবং জাতীয় মহিলা সমিতির চেয়ারম্যান ছিলেন। নারীর অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ও সমাজের অবহেলিত শিশু, প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে তার উজ্জল ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য আইভি রহমান তার নিজ বাড়ি ভৈরবে ছিলেন জনপ্রিয় এক ব্যক্তিত্ব, ভৈরবের যুব সমাজ তাকে আইভি আপা বা ভাবী বলে সম্বোধন করতেন। তার প্রিয় রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগ ছাড়াও ভৈরবের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে তিনি নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। ১৯৯৮ এবং ২০০৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় তিনি ভৈরবের বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে ত্রাণ নিয়ে হাজির হয়েছেন। বন্যার নোংরা পানিতে নেমে জলাবদ্ধ মানুষ দুয়ারে দুয়ারে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। অকুতোভয় আজন্ম সংগ্রামী এ মানুষটির আকস্মিক মৃত্যু বাঙ্গালী জাতি মেনে নিতে পারেনি। তেমনি পারেনি ভৈরবের সর্বস্তরের মানুষও। আন্দোলন, সংগ্রামে আইভি রহমানে অবদানের কথা বাঙ্গালী জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে