শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

ট্যালকম পাউডার ব্যবহারের কারণে ক্যান্সার এবং মৃত্যু!

প্রকাশের সময়: ২:৪৮ অপরাহ্ণ - বৃহস্পতিবার | আগস্ট ২৪, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকমডটবিডি:

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বছরের বেশির ভাগ সময়ই যা আবহাওয়া থাকে, তাতে পাউডার ব্যবহার ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু আজ যে তথ্য সামনে এসেছে, তা বাস্তবিকই ভয়ংকর। ২০১৫ সালে জ্যাকি ফক্স নামে এক মহিলা পাউডার ব্যবহারের কারণে মারা যান। আর সেই ঘটনাকে সামনে রেখে নামকরা বহুজাতিক পাউডার কম্পানি জনসন অ্যান্ড জনসনকে বিশাল অংকের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন মার্কিন আদালত। গত সোমবার (২১ আগস্ট, ২০১৭) ইভা ইচেভারিয়া (৬৩) নামে অপর এক নারীকে একই কারণে (জরুয়ুতে ক্যান্সার) ৪১৭ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেন আদালত।  নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন মতে এই কম্পানিটির বিরুদ্ধে এমন আরো বেশ কয়েকটি মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জ্যাকি ফক্স ওভারিয়ান ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তার চিকিৎসা চলাকালীন চিকিৎসকরা লক্ষ করেছিলেন জ্যাকির শরীরে এই মারণ রোগ বাসা বেঁধেছে পাউডার ব্যবহারের কারণে। দীর্ঘ দিন ধরে শরীরে অন্দরে পাউডার প্রবেশ করতে করতে কোষদের এমন ক্ষতি হয়েছে যে ক্যান্সার রোগের আক্রমণের পথ প্রশস্ত হয়েছে।

তবে এ কথা ভাববেন না যে পাউডারের ক্ষতিকর প্রভাবে জ্যাকিই একমাত্র, যিনি মৃত্যু মুখে পড়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে সারা বিশ্বে পাউডারের কারণে নানা মারণ রোগে আক্রান্তের সংখ্যাটা নেহাতই কম নয়, যার মধ্যে বেশিরভাগই ওভারিয়ান ক্যান্সারের শিকার।

এমন পরিস্থিতিতে সময় থাকতে থাকতে যদি প্রয়োজনীয় সাবধনতা না নেন, তাহলে যে কী ভয়ঙ্কর ধরনের বিপদ হতে পারে, তা নিশ্চয় আর বলে বোঝানোর প্রয়োজন নেই।

এখন প্রশ্ন হল কিভাবে বাঁচবেন এই মারণ ফাঁদ থেকে? এক্ষেত্রে পাউডারের ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়াই একমাত্র পথ। কারণ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করলে শরীরের অন্দরে মারাত্মক ক্ষতি হয়। যেমন…

১. সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে
সমীক্ষা রিপোর্ট অনুসারে বাজার চলতি বেশিরভাগ নামি ব্র্যান্ডের পাউডারে প্রচুর মাত্রায় স্টার্চ থাকে, যা শরীরে বিভিন্ন অংশ জমতে জমতে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। তাই যারা মনে করেন পাউডার ব্যবহার করলে সংক্রমণ থেকে দূরে থাকা যায়, তারা ভুল ধরণার শিকার। কারণ বাস্তবে কিন্তু একেবারে উল্টো ঘটনা ঘটে।

২. ত্বকের রোগের আশঙ্কা বাড়ায়
খেয়াল করে দেখবেন পাউডার লাগানোর পর তা জমতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই শরীরের সেই সব অংশে ত্বকের ছিদ্র বন্ধ হয়ে যায়। এমনটা হওয়া মাত্র ঘাম জমতে শুরু করে। ফলে চুলকানি এবং ফুসকুড়ির প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি আরও নানাবিধ ত্বকের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

৩. ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে
বেশ কিছু পরীক্ষার পর জানা গেছে বেশির ভাগ পাউডারেই অ্যাসবেস্টোস নামে একটি উপাদান থাকে, যা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করতে থাকলে লাং ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা চোখে পড়ার মতো বৃদ্ধি পায়। শুধু তাই নয়, সেই সঙ্গে অ্যাসবেস্টোসিস নামে এক ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

৪. ওভারিয়ান ক্যান্সার
এ কথা আজ পানির মতো পরিষ্কার যে পাউডারের সঙ্গে ওভারিয়ান ক্যান্সারের সরাসরি যোগ রয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে যদি কেউ শরীরের গোপন অংশে পাউডার লাগান, তাহলে একসময় গিয়ে ওভারিয়ান ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়, যেমনটা জ্যাকির ক্ষেত্রে হয়েছিল। তাই সাবধান!

৫. অ্যান্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারেও আক্রান্ত হতে পারেন
সম্প্রতি হওয়া বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে পাউডারের ছোট ছোট কণা দীর্ঘদিন ধরে ইউটেরাসে প্রবেশ করার সুযোগ পেলে এক সময়ে গিয়ে ইউটেরাইন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। তবে এমনটা এক-দু দিনে ঘটে না, দীর্ঘ সময় ধরে ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করলে এমন ধরনের মারণ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে