শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

বকশীগঞ্জে বন্যায় ৫৫ হাজার কৃষকের ৬০ কোটি টাকার ফসল বিনষ্ট

প্রকাশের সময়: ২:৫১ অপরাহ্ণ - মঙ্গলবার | আগস্ট ২৯, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:
জিএম ফাতিউল হাফিজ বাবু , জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের বকশীগঞ্জে আগস্ট মাসে বয়ে যাওয়া ভয়াবহ বন্যায় ৫ হাজার ৬০০ হেক্টর জমির রোপা আমন ও অন্যান্য ফসল বিনষ্ট হয়েছে। এতে করে ৫৫ হাজার কৃষকের ৬০ কোটি ২৮ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
ভয়াবহ বন্যায় রোপা আমনের বীজতলা পচে নষ্ট হওয়ায় রোপা আমনের চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছে কৃষকরা। ফলে চলতি মওসুমের রোপা আমন চাষে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হওয়ায় রোপা আমনের চারা সংকট দেখা দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে ,চলতি মওসুমে উপজেলায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করার লক্ষ্যে কৃষকরা তাদের জমিতে রোপা আমন সহ বিভিন্ন ফসল চাষ করে । এরই মধ্যে জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে এবং আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে ভয়াবহ বন্যা শুরু হলে কৃষকের স্বপ্ন ভেঙে যেতে থাকে। ওই বন্যা শেষ পর্যন্ত কৃষকের সর্বনাশ ডেকে আনে। বন্যায় সাধুরপাড়া, মেরুরচর, বগারচর, নিলক্ষিয়া , বকশীগঞ্জ সদরের একাংশ প্লাবিত হয়। বন্যার পানি প্রায় ১৫ দিন অবস্থান করায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।
বন্যায় সরকারি হিসাব মতে ৫ হাজার ৬০০ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণরুপে বিনষ্ট হয়। এরমধ্যে রোপা আমন , আউশ ধান, সবজি, রোপা আমন বীজতলা নষ্ট হয়।
এতে করে ৫৫ হাজার কৃষক ৬০ কোটি ২৮ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ফসলের ক্ষতির সম্মুখিন হয়। বন্যার কারণে সাধুরপাড়া ১ হাজার ৫০০ হেক্টর, মেরুরচর ইউনিয়নে ১ হাজার ৪০০ হেক্টর, নিলক্ষিয়া ইউনিয়নে ১ হাজার হেক্টর , বগারচর ইউনিয়নে ১ হাজার ৩০০ হেক্টর, বকশীগঞ্জ সদর ইউনিয়নে ৪০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
এদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থের পর কিছু কিছু এলাকায় ফের বীজতলা রোপন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ২ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ করা হয়েছে। বন্যায় রোপা আমনের বীজতলা নষ্ট হওয়ায় কৃষকরা চিন্তিত রয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা নিয়েও। তাই এসব ক্ষতিগ্রস্থ কৃষককে অবিলম্বে পুর্নবাসনের আওতায় আনা উচিত ।
যেসব এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় কৃষকের ক্ষতি হয়েছে সেসব এলাকায় চারা সরবরাহের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল হামিদ জানান, মওসুমের শুরুতেই বন্যায় আক্রান্ত হওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষককে পুনর্বাসনের আওতায় আনতে কৃষি অধিদপ্তরে চাহিদা পাঠানো হবে।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে