কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি :

রাঁচীর দামাল তরুণ হিসেবে যখন ধোনি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতছেন, তখন তিনি ধারাভাষ্যকার। আবার ২ এপ্রিল, ২০১১-র ওয়াংখেড়েতে  বিশ্বকাপ ফাইনালে যখন ‘ক্যাপ্টেন কুল’ ছক্কা মেরে জেতাচ্ছেন, তখনও তাঁর হাতে ছিল মাইক। ইতিহাসে ঢুকে রয়েছে ধোনির ছক্কা। তেমনই মহাকাব্যিক হয়ে রয়েছে কমেন্ট্রি বক্সে তাঁর সেই আবেগপূর্ণ গলায় বলে যাওয়া লাইনগুলো— ‘ধোনি ফিনিশেস অফ ইন স্টাইল। ইন্ডিয়া উইন্‌স দ্য ওয়ার্ল্ড কাপ আফটার টোয়েন্টি এইট ইয়ার্স। পার্টি বিগিন্‌স অ্যাট দ্য মেরিন ড্রাইভ!’

সেই রবি শাস্ত্রী এ বার ভারতীয় ড্রেসিংরুমে থাকবেন যখন ধোনি তিনশোতম ওয়ান ডে খেলতে নামবেন। মাহিন্দ্রক্ষণের আগে সর্বোচ্চ স্তুতি শোনা গেল শাস্ত্রীর গলায়। তিনশোতম ওয়ান ডে খেলতে নামা ধোনিকে নিয়ে কী বলবেন? কলম্বোতে ফোন করে জানতে চাইলে শাস্ত্রী উচ্ছ্বসিত ভাবে বলে ওঠেন, ‘‘ধোনি যথার্থ এক কিংবদন্তি। ধোনি ক্রিকেটের অলঙ্কার।’’

২৩ ডিসেম্বর, ২০০৪-এ চট্টগ্রামে প্রথম এক দিনের ম্যাচে আবির্ভাবের পর থেকে ধোনিকে নিয়ে অনেকেই অনেক রকম বিশেষণ ব্যবহার করেছেন। সব চেয়ে বেশি বলা হয়েছে ‘ক্যাপ্টেন কুল’ এবং ‘ফিনিশার’। শাস্ত্রীর মতো ‘ক্রিকেটের অলঙ্কার’ বলেননি কেউ। কারও কারও মনে পড়ে যেতে পারে, একই ভাবে সুনীল গাওস্করের মহত্বকে বর্ণনা করেছিলেন ডন ব্র্যাডম্যান। ভারতের লিট্‌ল মাস্টারকে নিয়ে তাঁর মতামত জানতে চাওয়ায় ব্র্যাডম্যান এক বার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘‘সানি ক্রিকেটের অলঙ্কার।’’

পাকাপাকি ভাবে ভারতীয় দলের কোচ হিসেবে শাস্ত্রীর যাত্রা শুরু অধিনায়ক ধোনির আমলেই। অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডে একের পর এক হারে টিম তখন বিধ্বস্ত। ইংল্যান্ডে এক দিনের সিরিজ থেকে টিম ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব নেন শাস্ত্রী। তার পরেই সেই এক দিনের সিরিজ জেতে ভারতীয় দল। ধোনিকে সর্বকালের সেরা ম্যাচউইনারদের এক জন বলে মনে করেন তিনি। ভারতের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক বাছতে বলা হলেও ধোনির নামই বারবার করেছেন শাস্ত্রী। হালফিলে এর সঙ্গে যোগ করেছেন যে, বিরাট কোহালিরও সেই উচ্চতায় পৌঁছনোর যোগ্যতা রয়েছে।

কেন ধোনিই সর্বসেরা ভারত অধিনায়ক? জানতে চাওয়ায় শ্রীলঙ্কায় টেস্ট সিরিজের মধ্যেও শাস্ত্রী লম্বা ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘‘অধিনায়ক হিসেবে ছেলেটার দু’টো বিশ্বকাপ রয়েছে। একটা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, একটা পঞ্চাশ ওভারের বিশ্বকাপ। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছে। একটা পঞ্চাশ ওভারের বিশ্বকাপে সেমিফাইনালিস্ট, একটা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফাইনালিস্ট, একটাতে সেমিফাইনালিস্ট। টেস্টে প্রথম এক নম্বর র‌্যাঙ্কিং পাওয়া। এটা দেশের জার্সিতে। এর পর ক্লাবের হয়ে আইপিএল আছে দু’টো, রানার্স দু’বার। এ রকম রেকর্ড নিয়ে ধোনি যদি ভারতের সেরা অধিনায়ক না হয়, তা হলে কে সেরা অধিনায়ক?’’

বাকি ক্রিকেট দুনিয়ায় যতই সংশয় তৈরি হোক, ম্যাচ শেষ করায় নিপুণতার দিক থেকে এখনও ধোনির কোনও বিকল্প হয় না বলে মনে করে কোহালিদের টিম ম্যানেজমেন্ট। আর সেই ধারণার পিছনে শাস্ত্রীয় মতের অবদান অনেকটাই। টিম ইন্ডিয়ার অন্দরমহলে তাই ট্রিপল সেঞ্চুরির মুখে দাঁড়ানো ধোনিকে নিয়ে আসল ধ্বনি— ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত তোমাকে চাই।