বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

ঈদের দিন বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ ! পড়ুন বাবা মার উপর রাগ করে ছেলের আত্মহত্যার কাহিনী

প্রকাশের সময়: ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ - সোমবার | সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

পৃথিবীতে সবচেয়ে গুরুভার, পিতার কাঁধে সন্তানের শবদেহ।

আর খণ্ডিত পরিবার এক সন্তানের কাছে তার চেয়েও দুর্বহ, দুঃসহ, দুর্লঙ্ঘ্য এক অচলায়তন। সমবয়সীদের পিতামাতার ভিড়ে শুধু বাবা বা মাকে নিয়ে সে ভীষণ ভাবে খঞ্জ।

তার আত্মীয় অনাত্মীয় কেউ খেয়াল করে না তার দুর্মোচনীয় দীনতা। জনারণ্যে তাই সে একান্তই নিঃসঙ্গ। তার হৃদয়ের গভীরে লুকিয়ে থাকে না-পাওয়ার বেদনার মগ্ন মৈনাক।সেথায় যদি কখনো অগ্ন্যুৎপাত হয়, সে বড়ই বিধ্বংসী।

সন্তান এমন এক মায়ার বাঁধন যার জন্য বাবা-মা নিজের জীবন উৎসর্গ করতেও দ্বিধাবোধ করেন না। আর সেই প্রিয় সন্তানের লাশ যে বাবার কাঁধে তুলতে হয়, একমাত্র তিনিই বোঝেন সে ভারটা কত যন্ত্রণার।

বুধবার (৫ জুলাই) সংগীততারকা আসিফ আকবরের এক ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে সেই যন্ত্রণার হালকা ছোঁয়া সকলের হৃদয় ভেদ করে।

পাঠকদের জন্য আসিফের স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো- ‘ঈদের আগের রাতে খবর এলো সামিন আত্মহত্যা করেছে। ঘাড় বেয়ে একটা হিমশীতল স্রোত বয়ে গেলো।

সঙ্গে সঙ্গে বউকে ফোন করে বললাম আমাদের সন্তান রণ-রুদ্র কি করে, ঠিক আছে কিনা, তাদের সাথে কোন রকম দূর্ব্যবহার করা চলবে না।

পরদিন সামিনের নামাজে জানাযা, ঈদের দিন বাবার কাঁধে সান্তানের লাশ, বাবার গগন বিদারী আর্তনাদে ভারাক্রান্ত এই অসহায় ধরণী, ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লায়, আমি ঢাকায় বসে অদ্ভূত শূন্যতায় ভূগে যাচ্ছি এখনো।

ফেসবুকে লেখাতো দূরের কথা, সামিনের নিষ্পাপ চোখে নিজের সন্তানকে ভেবে আতঙ্কিত হচ্ছি প্রতিনিয়ত।

সামিন ছিলো সাড়ে আঠারো বছরের যুবা হওয়ার পথে এক টগবগে কিশোর। আমি তাকে কখনো মিট করিনি। সামিনের বাবা প্রিয় রাজীব ভাই, তিনি আমার সেজো ভাইয়ের স্কুলমেট, আমাদের বড় ভাই, একজন সাবেক ক্রিকেটার।

ফেসবুকের মাধ্যমে উনার দুই ছেলে সামিন আর রিহামকে চিনতাম। চোখে মুখে স্পষ্ট ফুটে থাকতো কোন এক অপ্রাপ্তির থাবার চিহ্ন।

ব্রোকেন ফ্যামিলি বয়, ঢাকা রাজউক কলেজে পড়তো, বন্ধুবৎসল এই সামিন তার সমস্ত অতৃপ্তি আর আক্ষেপকে নিজের হাতে দাফন করেছে বিভীষিকাময় আত্মহননের পথ বেঁছে নিয়ে।

সারাদিন বন্ধুদের সাথে মনের আনন্দে কাটালেও রাতে মায়ের সাথে রাগ করে মায়ের বাড়ীতেই নিজের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সংসারে বিচ্ছেদ নতুন কোন ঘটনা নয়। সন্তানরা তার বাবার সঙ্গে খুবই হাসিখুশী ছিলো, অন্ততঃ এতোটুকু নিশ্চিত জানতাম। সামিন নেই- কেনো নেই ??? সামিন কি পেলো ?? কাকে বঞ্চিত করলো ??

আর আমাদের কি ম্যাসেজ দিয়ে গেলো ?? সামিন কি জানে তার বাবা উদভ্রান্তের মত তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে মুহুর্তে মুহুর্তে !! ছোট রিহাম কতটুকু অসহায় এখন তার বড় ভাইকে ছাড়া !!!

এসব প্রশ্নের উত্তর নেই। বাবা সামিন পৃথিবীর কথা জানিনা, সান্নিধ্য ছাড়াই তোমার অনুপস্থিতি আমাকে যন্ত্রনার আগুনে পুড়িয়ে মারছে, ভাল থেকো বাবা।’

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে