রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

মৌলভীবাজার কয়েক হাজার পরিবার এখনো পানি বন্দি

প্রকাশের সময়: ৬:৫৮ অপরাহ্ণ - বুধবার | সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:

এ.এস.কাঁকন, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কয়েকদফা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হন মৌলভীবাজারের পাঁচ উপজেলার মানুষ।এখন চলছে চতুর্থ দফা বন্যা। গত ঈদুল ফিতরে অনেক মানুষ না খেয়ে ছিলেন, এবারের ঈদুল আযহা এর ব্যতিক্রম ছিলো না। দীর্ঘ জলাবদ্ধতা ও দফায় দফায় বন্যায় ন্যুজু হয়ে যাওয়া এই মানুষগুলোর নেই ঈদ আনন্দ,পানি বন্দি রয়েছে কয়েক হাজার পরিবার।এই ঈদেও বঞ্চিত ছিলেন ঈদ আনন্দ থেকে।

মৌলভীবাজার সদর, রাজনগর, জুড়ী, কুলাউড়া, বড়লেখা উপজেলায় বন্যা স্থায়ী রুপ লাভ করেছে। এ বন্যা এখন শুধু হাওরাঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই, হাওর ছারিয়ে বিশাল এলাকা জুড়ে এখন জলের তান্ডব।দীর্ঘ এ বন্যার প্রভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। প্রকৃতির নিষ্ঠুর আচরণে তারা যেনো দাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন না। অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজার জেলার হাওরগুলোতে বোরো ফসল নষ্ট হয়েছিলো , বিষক্রিয়ায় মরেছিলো অনেক মাছও। পাঁচ মাস ধরে দফায় দফায় হয়েছে বন্যা। এখন বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষুধা আর ঝুকিকে সাথে নিয়ে জলের সাথে জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন পাচ উপজেলার বন্যাক্রান্ত মানুষগুলো। হাজারো মানুষ রয়েছেন যারা ক্ষুধা নিয়ে রাতে ঘুমাতে যান, সকালে উঠে পানি পান করেন। তারা ক্ষোভের সাথে জানালেন ঈদ আমাদের মতো দরিদ্রদের জন্য নয়, ঈদ হচ্ছে ধনীদের আনন্দ করার জন্য।বসতভিটা পানিতে নিমজ্জিত তাই অনেকেই বাধের উপর তাবু টাঙিয়ে কোন রকম পড়ে আছেন,বললেন চাইলেও কান্না করতে পারি না। এখন সর্বত্র পানি থৈ থৈ করছে, কোনরকম অনাহারে অর্ধাহারে বেচে আছেন বন্যাক্রান্ত মানুষগুলো। চরম দূর্ভোগে থাকা পরিবারগুলোর কাছে এই দুটি ঈদেই ছিলনা বাড়তি কোন আয়োজন আনন্দ-উচ্ছাস, আছে শুধু ক্ষুধা ও বোবা কান্না ।

সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে কিন্তু সেগুলো চাহিদার তুলনায় নগণ্য। এইসব মানুষগুলো জানালেন সন্তানসন্তুনি নিয়ে অনেক কষ্টে আছি, দুবেলা খাবার জুটে না সেখানে আমাদের ঈদের আনন্দ কিসের।বাড়ি বাড়ি ঘুড়ে দেখা যায় এই মানুষগুলোর মধ্যে নেই ঈদের কোন ছোয়া, কথা বললে তারা জানান পাঁচ মাস ধরে খেয়ে না খেয়ে পানির মধ্যে আছি ভালো থাকি কি করে। ঈদ কেমন কাটলো জানতে চাইলে জানান: রোজার ঈদেও পানিতে ছিলাম কুরবানীর ঈদেও পানিতে।বন্যার কারনে ঈদগাহ ,মসজিদ ও উচু স্থান সবকিছু পানিতে নিমজ্জিত থাকায় হাজারো মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেননি। সবাই দুশ্চিন্তায় সময় পার করছেন। কারণ অকাল বন্যায় কেউই ফসল তুলতে পারেননি। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই নতুন কাউকে কাগজ কলম হাতে দেখলেই ভাবেন, এই বুঝি কেউ রিলিফ নিয়ে এগিয়ে এলো। ছুটে আসেন নিজের ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে।

পানির অপর নাম জীবন, কিন্তু এই পানিই যেন এখন অভিশাপ হয়ে উঠেছে তাদের জীবনে। ঈদুল আযহায় বেশিরভাগ পরিবারের চুলায় জ্বলেনি আগুন। আর পানিবন্দী ঐ মানুষগুলোর পাশে যেভাবে এগিয়ে আসার কথা সেভাবে আসছেন না কেউই। তবে, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় আখাইলকুড়া ও একাটুনা ইউনিয়নে দুই হাজার বানভাসি পরিবারকে রান্না করা খাবার বিতরন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এক বেলার জন্য হলেও রান্না করা ভালো খাবার পেয়ে আনন্দিত বানভাসি মানুষ।

কুশিয়ারা নদীর পানি অব্যাহতভাবে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না বরং প্রতিদিনের অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। পাউবো কর্মকর্তা জানান কুশিয়ারা নদীর পানি না কমলে এই অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চতুর্থ দফা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন ০৫টি উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের ১লক্ষ ২হাজার৪শত২০ জন লোক, আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ২২১টি পরিবার। ত্রাণ বিতরন করা হয়েছে ১৪ লক্ষ টাকা ও ২শত৬০ মেট্রিক টন চাল।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে