শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

বেড়েছে হলুদের দাম, সরবরাহ সংকট

প্রকাশের সময়: ৮:৩৭ অপরাহ্ণ - বুধবার | সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:

ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে মসলাজাতীয় পণ্য শুকনা হলুদের দাম বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে পণ্যটির দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা। আমদানি কমে আসায় সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ায় পণ্যটির দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

খাতুনগঞ্জের মসলার আড়তে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাজারে প্রতি কেজি ভারতীয় হলুদ বিক্রি হয়েছে ১২৫-১২৮ টাকা। দুই সপ্তাহ আগে এ হলুদের দাম ছিল ১১৮-১২০ টাকা।

ভারতীয় হলুদের দাম সম্পর্কে মেসার্স রাব্বি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী দেলোয়ার জাহান জানান, মৌসুমের শেষ দিকে হলুদের বাজার নির্ভর করে ভারত থেকে আমদানিকৃত হলুদের ওপর। প্রায় এক মাস ধরে ভারতের বাজারে হলুদের দাম বাড়ছে। এতে দেশে হলুদের আমদানি কমেছে। তাই সরবরাহ সংকটে পণ্যটির দাম বেড়েছে।

এদিকে আমদানিকৃত হলুদের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশী হলুদের দামও বাড়ছে। বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি দেশী শুকনা হলুদ বিক্রি হচ্ছে ১২৬-১২৭ টাকা। দুই সপ্তাহ আগে বাজারে এ হলুদ বিক্রি হয়েছিল ১১২-১১৫ টাকায়। বাজারদর অনুযায়ী, ১৫ দিনে পাইকারিতে প্রতি কেজি হলুদের দাম ১০ টাকা বেড়েছে।

দাম বাড়ার কারণ সম্পর্কে খাতুনগঞ্জের মসলা ব্যবসায়ী নাঈম উদ্দিন বলেন, গত দু-তিন মাস থেকেই পাইকারি বাজারে দেশী হলুদের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এর মধ্যে গত দুই সপ্তাহেই পণ্যটির দাম কেজিতে ১৫ টাকা বেড়েছে। তিনি বলেন, গত মৌসুমে পার্বত্য অঞ্চলে হলুদের ফলন কম হয়েছে। এতে দু-তিন মাস থেকে বাজারে চাহিদার তুলনায় হলুদ সরবরাহ কম। মূলত সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশী হলুদের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। তাছাড়া মসলা প্রক্রিয়াজাত প্রতিষ্ঠানগুলো পাইকারি বাজার থেকে হলুদ কিনে সারা বছরের জন্য মজুদ করায় বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়েছে।

জানা যায়, দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় কমবেশি হলুদের চাষ হলেও সবচেয়ে উৎপাদন বেশি হয় পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায়। প্রতি বছর সংগ্রহ মৌসুম শেষ হওয়ার পর প্রথম কয়েক মাস হলুদের বাজার স্থির থাকে। এরপর আস্তে আস্তে দাম বাড়তে থাকে। কিন্তু দুই বছর ধরে সংগ্রহ মৌসুম শেষ হতে না হতেই হলুদের বাজার অস্থির হয়ে উঠছে। খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৩০ থেকে ৪০ টন দেশী হলুদ আসে দেশের তিন পার্বত্য অঞ্চল খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান থেকে। কিন্তু এবার উৎপাদন কম হওয়ায় ১৫ দিন থেকে প্রতি সপ্তাহে বাজারে হলুদ আসছে ২৫-৩০ টন করে।

ব্যবসায়ীরা জানান, সংগ্রহ মৌসুমের মাঝামাঝি সময় অর্থাত্ জানুয়ারির দিকে চাহিদার চেয়ে বেশি পণ্য বাজারে এলেও বড় বড় কোম্পানি কিনে নেয়ায় বাজারের মজুদের পরিমাণও কমে গেছে। এতে পণ্যটির বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে