বুধবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ | ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

সাতক্ষীরায় ঘের মালিকের কাছে চাঁদা দাবি ও তার স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, আটক-১

প্রকাশের সময়: ৯:২২ অপরাহ্ণ - শনিবার | সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: দাবিকৃত চাঁদার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় দুর্বৃত্তরা এক ঘের মালিকের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। গৃহকর্তা ও তার ছেলে পালিয়ে গেলে দৌঁড়ে পালাতে যাওয়ার সময় ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ওই দুর্বত্তরা গৃহকত্রীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করেছে। শুক্রবার মাঝ রাতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝিটকা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মারাত্মক জখম ওই গৃহবধুকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করেছে।
আহত গৃহবধুর নাম জামিলা খাতুন (৩৫)। তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝিটকা গ্রামের নূর ইসলাম মালীর স্ত্রী।
আটককৃতের নাম আশরাফুল ইসলাম। তার বাড়ি সদরের ঝিটকা গ্রামে।
ঝিটকা গ্রামের নূর ইসলাম জানান, আইলাদুর্গত শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নের ৯নং সোরা গ্রামে তাদের বসবাস ছিল। আইলা পরবর্তী ঝিটকা গ্রামে এসে দিন মজুরের কাজ করতেন তিনি । তিন বছর আগে এ গ্রামে জমি কিনে বাড়ি তৈরি করে বিঘা প্রতি ১৪ হাজার টাকা ইজারা দিয়ে সাত বিঘা জমিতেমাছ ও ধান চাষ করে যাচ্ছেন তিনি। তিন বছর আগে মাছ চাষ শুরু করলেই একই এলাকার জামায়াত কর্মী সাজ্জাদুর রহমান তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে তাকে ঘের করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। একইভাবে গত বছর ও সাজ্জাদকে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দেওয়া হয়। এক সপ্তাহ আগে সাজ্জাত তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা চায়। এত টাকা দিতে পারবে না বলায় শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে তার বাড়িতে হামলা চালায় ফজর আলীর ছেলে সাজ্জাদ, তার ভাই ওজিয়ার রহমান, ফজলুর রহমান, শ্যামনগরের আব্দুল মালেকের ছেলে তৈয়বুর রহমানসহ কয়েকজন। পিছনের দরজা দিয়ে তিনি ও তার ছেলে মফিজুল পালিয়ে যেতে সমর্থ হলেও তার স্ত্রী জামিলা খাতুন পড়ে যায়। এ সময় হামলাকারিরা তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুঁটে আসার আগেই হামলাকারিরা তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে চলে যায়।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সার্জারী কনসালট্যান্ট ডাঃ শরিফুল ইসলাম জানান, জামিলার গলায় ধারালো অস্ত্রের কোপের কারণে কয়েকটি সেলাই দিতে হয়েছে। তবে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক জিয়ারুল ইসলাম জানান, জামিলার উপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আশরাফুল নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় নূর ইসলাম বাদি হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

উপরে