বৃহস্পতিবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৮ | ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

চাচাতো ভাইকে দিয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করিয়ে ভিডিও ইন্টারনেটে

প্রকাশের সময়: ১২:১৯ অপরাহ্ণ - শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকমডটবিডি: প্রতিবেশী তিন ভাইয়ের সঙ্গে নৌকায় ঘুরতে গিয়েছিলো পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ুয়া স্কুলছাত্রী (১৪)। সেখানে স্থানীয় কতিপয় মাদক সেবী ওই চারজনকে বিলের মধ্যে একটি পরিত্যক্ত ভিটায় নিয়ে বেধম মারধর করে সম্পূর্ণ উলঙ্গ করে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে।

পরে তিন মাদকসেবী স্কুল ছাত্রীকে গণধর্ষণের পর ঘুরতে যাওয়া তিন বন্ধুর মধ্যে একজনকে দিয়ে জোরপূর্বক ছাত্রীকে ধর্ষণ করিয়ে পুনরায় তা ভিডিও ধারণ করেছে। ওই ভিডিও চিত্র ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে স্কুল ছাত্র তিন বন্ধুর পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা চাঁদা আদায় করেছে মাদক সেবীরা।

ভিডিও চিত্রটি বিভিন্ন মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে পরার পর খবর পেয়ে পুলিশ বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করেছে। ঘটনাটি জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের চেঙ্গুটিয়া কান্দিরপাড় গ্রামের।

সূত্রমতে, ওই গ্রামের এক প্রবাসীর কন্যা ও কান্দিরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ুয়া ছাত্রী তার প্রতিবেশী চাচাতো ভাই নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া স্কুলছাত্রের সঙ্গে গত ১৮ই সেপ্টেম্বর দুপুরে নৌকাযোগে রাজিহার চৌদ্দমেদা বিলে ঘুরতে যায়।

বিষয়টি দেখে চেঙ্গুটিয়া গ্রামের মৃত মজিদ তালুকদারের পুত্র মাদক সেবী মুন্না তালুকদার, তার সহযোগী মাইনউদ্দিন সরদার, মিজানুর রহমান সরদার, আকবর আলী সরদার ও মিলন হাওলাদার অন্য একটি নৌকা নিয়ে বিলে গিয়ে স্কুল ছাত্রীসহ তার সাথে ঘুরতে যাওয়া তিনবন্ধুকে জোরপূর্বক বিলের মধ্যে নির্জন সেলিমের ভিটায় নিয়ে যায়।

স্কুল ছাত্র লিমন সরদার জানায়, স্কুল ছাত্রীসহ তাদের চারজনকে সেলিমের ভিটায় নিয়ে মুন্না ও তার সহযোগীরা বেধম মারধর করে। এক পর্যায়ে উলঙ্গ করে মিলনের মোবাইল ফোনে মুন্না তালুকদার তা ভিডিও ধারণ করে।

স্কুল ছাত্রী জানায়, পরে মুন্না ও তার তিনসহযোগী জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ঘুরতে যাওয়া তিন বন্ধুর মধ্যে একজনকে দিয়ে তাকে ধর্ষণ করিয়ে পুনরায় তা ভিডিও ধারণ করে। ওই স্কুল ছাত্রী জানায়, তার সাথে ঘুরতে যাওয়া ওই চাচাতো ভাই ধর্ষণ করতে অস্বীকার করায় মুন্না ও তার সহযোগীরা ফের তাদের মারধর করে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মাদক সেবীদের পক্ষালম্বন করে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য স্থানীয় কতিপয় জনপ্রতিনিধিসহ জনৈক নুর মোহাম্মদ তালুকদার ওই স্কুল ছাত্রী ও তার সঙ্গে ঘুরতে যাওয়া তিনবন্ধুর পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতিসহ হুমকি দিয়ে আসছে।

এরইমধ্যে তিনপর্বের ওই আপত্তিকর ভিডিও চিত্র মোবাইল ফোনে ভাইরাল হওয়ায় পুরো উপজেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হলে লোকলজ্জায় স্কুল ছাত্রীসহ ওই তিন বন্ধু আত্মগোপন করে।

খবর পেয়ে পুলিশ বুধবার সকালে স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করার পর অভিযুক্ত মুন্না তালুকদারসহ তার সহযোগীরা নিজ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পালিয়েছে। হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করে নুর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ ঘটনায় ওই স্কুল ছাত্রী বাদী হয়ে বুধবার দুপুরে থানায় মামলা করেছে। অভিযুক্ত মুন্না তালুকদারসহ অন্যান্যদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে বলেও ওসি জানান। -মানবজমিন।

উপরে