বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহি গুড়পুকুর মেলায় বোমা হামলা মামলার কার্যক্রম স্থবির

প্রকাশের সময়: ১২:৩৫ অপরাহ্ণ - শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:

শেখ আমিনুর হোসেন, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:  সাতক্ষীরা শহরে গুড়পুকুরের মেলা চলাকালিন রক্সি সিনেমা ও স্টেডিয়ামের সার্কাস প্যাণ্ডেলে জঙ্গীরা বোমা হামলা চালানোয় তিনজন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হওযার ঘটনার পর থেকে প্রাণ হারিয়েছে মেলা। তাছাড়া ১৫ বছর পার হলেও মামলার বিচার না হওয়ায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।
সাতক্ষীরা শহরের প্রবীণরা জানান, আনুমানিক ৩০০ বছর আগে জমিদার প্রাণনাথ রায় চৌধুরীর পূর্বপুরুষরা সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোলের গুড়পুকুরের পাশে বটগাছের নীচে প্রতি বাংলা সনের শেষ ভাদ্রে মনষা পুজা উপলক্ষে মেলা শুরু করেন। গুড়পুকুরের তীরে মেলা বসায় ওই মেলার নাম গুড়পুকুর মেলা বলে দেশে ও বিদেশে পরিচিতি লাভ করে। এ মেলায় শুধুমাত্র বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা নয় প্রতিবেশী ভারত থেকেও পশারী ও দর্শণার্থীরা আসতো। মেলার বিস্তৃতি ছিল সাতক্ষীরা শহর থেকে আলীপুর চেক পোষ্ট, খুলনা রোডের মোড় থেকে মিল বাজার। লাবণী মোড় থেকে খুলনা রোডের মোড়। শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক থেকে পুরাতন সাতক্ষীরা। এ ছাড়া শহরের সকল রাস্তার দু’ ধার জুড়ে বসতো নার্সারীসহ বিভিন্ন পশরা।  গুড়পুকুর মেলা চলাকালে ২০০২ সালে ২৮ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে সাতটার দিকে সার্কাস প্যান্ডেল ও রকসি সিনেমা হলে ১০ মিনিটের ব্যবধানে জঙ্গীরা কয়েকটি বোমা হামলা চালায়। এতে স্কুল ছাত্র কাজী মোত্তাউল আলম মুক্ত, একজন নারী চিকিৎসকসহ তিনজন নিহত হয়। আহত হয় অর্ধশতাধিক। আহতদের মধ্যে অনেকেই শরীরে বোমার ¯িপ্রন্টার নিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে কোন রকমে জীনে বেঁচে আছে।
এ ঘটনার পরদিন রক্সি সিনেমা হল মালিক ও সার্কাস প্যাণ্ডেলের পক্ষ থেকে সাতক্ষীরা সদর থানায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়। ২০০৫ সালে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সিআইডি’র পুলিশ পরিদর্শক দুর্গাপদ ঘোষ আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। বিএনপি’র চাঁদাবাজি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এ বোমা হামলা চালানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হলেও কোন আসামীকে সনাক্ত করতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। আদালত এ প্রতিবেদন আমলে না নিয়ে  পূণঃতদন্ত দেয়। ২০১৫ সালে সিআউডি’র  খুলনা জোনের সহকারি পুলিশ সুপার সুখরঞ্জন সমাদ্দার জেএমবি সদস্য জামালপুর জেলা সদরের বোমারু মিজান, সাতক্ষীরার দেবহাটার শিমুলবাড়িয়ার নজরুল ঘরামীসহ তিন জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আসামীরা ভিন্ন ভিন্ন মামলায় দেশের বিভিন্ন জেলে থাকায় ও জামালপুরের জিএমবি সদস্য বোমারু মিজান পলাতক থাকায় ধার্য দিনে সাতক্ষীরা আদালতে হাজির করাতে না পারায় বিচার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচার না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। এ ছাড়া শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় অস্তিত্ব হারাতে বসেছে গুড়পুকুরের মেলা।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, ২০০২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গুড়পুকুর মেলা চলাকালে রক্সি সিনেমা হল ও স্টেডিয়ামের সার্কাস প্যাণ্ডেলে বোমা হামলার ঘটনার বিচার না হওয়ায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। শুধু মেলা নয়, হারিয়ে যেতে বসেছে সার্কাস , সিনেমা ও বাংলা সংস্কৃতি। হামলাকারিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। বিচার কার্যক্রম বিলম্বিত হওয়ায় হতাশ তারা। জীবদ্দশায় বিচারের রায় দেখে যেতে চান। সাতক্ষীরার গুড়পুকুর মেলায় বোমা হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া গেলে জনমন থেকে আতঙ্ক দুর হবে এমনটি মনে করেন তারা। সেক্ষেত্রে বাঙালী সংস্কৃতি ও মেলা আবারো প্রাণ ফিরে পাবে।

সাতক্ষীরা জজ কোর্টের পিপি অ্যাড. ওসমান গণি জানান, ২৮ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার মানুষের জন্য একটি দুর্ভাগ্যের দিন। এই দিনেই সাতক্ষীরার গুড়পুকুরের মেলায় জঙ্গি হামলা হয়েছিল। হামলায় শিশুসহ চার জন নিহত হয়। এ ঘটনায় দু’টি মামলা হয়। মামলা দু’টি’র নন্ত যথাযথ হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। একটি হত্যা মামলা (সেশন-৬/১৭) ও বিষ্ফোরক দ্রব্য আইনে (এসটিসি-৯/১৭) মামলা জেলা ও দায়রা জজ কোর্টে বিচারাধীন। দু’টি মামলার অভিযোগ গঠণের জন্য আগামি ২৬ অক্টোবর দিন ধার্য আছে। মামলা খুব শীঘ্রই নিষ্পত্তি করার ব্যাপারে তিনি আশাবাদি।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে