মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৮ | ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

সুনামগঞ্জে অনুমতি ছাড়াই জলমহাল দখল, জেলে ও কৃষকদের লিখিত অভিযোগ

প্রকাশের সময়: ৯:০৮ অপরাহ্ণ - শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় সরকারী কোন ধরনের অনুমতি ছাড়াই জলমহালকে দখল করে মাছ ধরতে বাধা দিচ্ছে সংঘবদ্ধ চক্র। যে কোন সময় সংঘষের রুপ নিতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। হাওরে মাছ ধরতে ভীমখালী ইউনিয়নের উন্মোক্ত জলাশয় বল হাওরের নদীতে ৫গ্রামের জেলে ও কৃষদের মাছ ধরতে বাঁধা দিয়ে নিষেধ করায় শ্রীপুর গ্রামের সিরাজ মিয়া,মৌলিনগর গ্রামের জাকির হোসেন,ফখরুল ইসলাম ও পুরান চান্দবাড়ী গ্রামের আকমল হোসেনসহ গ্রামের অসহায় জেলের ও কৃষকরা জীবন-জীবিকার জন্য বাঁচার তাগিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি প্রকাশ হলে উপজেলার সর্বত্রই শুনা যাচ্ছে “জুড় যার যার মুল্লুক তার” এমন কথা। উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের শ্রীপুর,মৌলীনগর বিলপাড়,পারান চান্দ বাড়ি ও মৌলীনগর গ্রামের ৪৫ জন জেলে ও কৃষকদের লিখিত অভিযোগে যানা যায়,তাদের গ্রামের পাশে বল হাওর নদীতে সরকারী কোন ধরনের অনুমতি ছাড়াই জলমহালকে দখল করে নিয়েছে বেশ কয়েকজন সংঘবদ্ধ লোক। আমরা মধ্যবিত্ত কৃষক ও অধিকাংশই জেলে সম্প্রদায়ের লোক। গত বন্যায় আমাদের ফসল হানির কারণে আমরা অনেক কষ্টে জাল দড়ি খরিদ করিয়া নি¤œ তপশীল বর্ণিত বল হাওর অবমুক্ত নদী জলমহালে জাল দিয়া মাছ আহরণ করিয়া নিজেরা খাই এবং যৎসামান্য বাজারে বিক্রয় করিয়া তাহা দ্বারা জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করিয়া থাকি। আমরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়া জানিতে পারিলাম ১৪২৪ বাংলা সনের ৩০ শে চৈত্র পর্যন্ত বর্ণিত জলাশয় সর্ব সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয় যে, বিবাদীগণ অন্যায় লাভের আশায় আমাদেরকে বিগত ২-৩ মাস যাবত নানা ভাবে নির্যাতন করিয়া আমাদের জাল দড়ি ছিনাইয়া নিয়া আমরা চার গ্রামের লোকজনের প্রায় ৫-৬ লক্ষ টাকার মারাত্মক ক্ষতিসাধন করিয়াছে। শ্রীপুর গ্রামের আমির উদ্দিনের পুত্র ফয়জুল হক,সোনাহর আলীর পুত্র সরল মিয়া,মনর উদ্দিনের পুত্র শফিক মিয়া,মতছির আলীর পুত্র পন্ডিত ও রাহুল মিয়া,ইসলামপুরের রেজাউল করিমের পুত্র আক্কাছ আলী,আ: জলিলের পুত্র আবুল হোসেন ভূয়া জলমহাল বন্দোবস্ত আনিয়াছে বলিয়া আমাদেরকে নানাভাবে নির্যাতন করিতেছে। এই ব্যাপারে আমরা এলাকা ভিত্তিক সালিশে বসিয়া বিবাদীগণকে কাগজপত্র দেখানোর ব্যাপারে আহ্বান করিলে বিবাদীগণ ইজারা কোন কাগজপত্র দেখাইতে পারে নাই। জেলেদের মাছ ধরতে বাধা প্রদানকারী অভিযুক্ত আরজ আলী বলেন,আমরা কাউকে মারধর করিনি, নোয়াগাঁও এর খোকন আর বাবুল মেম্বার আমাদেরকে পাহাড়াদার রেখেছেন আমরা মাসিক বেতনে থাকি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আল ইমরান বলেন, জেলেদের লিখিত অভিযোগের কপি পেয়েছি, এটি একটি জলমহালের সীমানা, যদিও কাউকে বন্দোবস্ত দেয়া হয়নি। সীমানার বাহিরে যে কেউ মাছ ধরতে পারে বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপরে