শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

মণ্ডপে মণ্ডপে বিএনপির নেতাদের শুভেচ্ছা

প্রকাশের সময়: ৯:২৬ অপরাহ্ণ - শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৭

কারেন্টনিউজ ডটকমডটবিডি: মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি হিন্দুধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপির নেতারা। দলের পক্ষ থেকে আলাদা কোনো কর্মসূচি না থাকলেও অন্যান্য বছরের মতো এবারও শীর্ষ নেতারা শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন মণ্ডপে গিয়ে।

দুর্গোৎসব উদযাপনে হিন্দুধর্মালম্বীদের পাশে থাকার জন্য দলীয় চেয়ারপারসনের নির্দেশনা রয়েছে বলে জানান বিএনপির নেতারা।

নির্দেশনার আলোকে দলের নেতারা নিজ নিজ জায়গা থেকে হিন্দুধর্মালম্বীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। পূজামণ্ডপে অনুদান দিচ্ছেন। কোথাও কোথাও উপহার সামগ্রী বিতরণ করছেন তারা।

মুসলামানদের বড় দুটি উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার মতো দুর্গাপূজার সময় তারা প্রতি বছর কুশল বিনিময় করেন। তবে সামনের বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচন বলে এবার মণ্ডপে যাতায়াত তুলনামূলক বেশি। শুধু বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারাও কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ঢুঁ মারছেন মণ্ডপে।

গত মঙ্গলবার ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে নুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় দূর্গাপূজা। কাল শনিবার মহাদশমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে দেবী বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় এ ধর্মীয় উৎসব।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের তথ্যমতে, দেশে এবার মোট ৩০ হাজার ৭৭টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব উদযাপন হচ্ছে। তার মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে রয়েছে ২৩১টি। গত বছর সারা দেশে ২৯ হাজার ৩০০টি মণ্ডপে হয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়।

প্রতিবছর দুর্গাপূজায় হিন্দুসম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু চিকিৎসার জন্য তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন বলে এবার সেটি হয়নি।

তবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কেন্দ্রীয়ভাবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন করেন এবং পূজারিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

সেদিনই স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বাসাবোর কদমতলা, কালীবাড়িসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় রামকৃষ্ণ মিশনে গিয়ে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও আয়োজকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।

বরাবরের মতো এবারও পূজার শুরু থেকেই তৎপর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও তার পুত্রবধূ দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায়।

নিপুণ রায় জানান, বিগত বছরগুলোর মতো এবারও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পক্ষ থেকে সাড়ে সাত হাজার শাড়ি, লুঙ্গি বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া আর্থিক অনুদান দেয়া হয়েছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ৫৭টি পূজামণ্ডপে।

দলের নির্দেশনার বিষয়ে নিপুণ বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দেশে না থাকলেও তিনি দুর্গাপূজায় হিন্দুধর্মালম্বীদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। যতটুকু জানতে পেরেছি, সারা দেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনে সহযোগিতা করছেন।’

তিনি অবশ্য বৃহস্পতিবার গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বাড়িতে পূজা পালন করতে আসা নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষকে চেকপোস্ট বসিয়ে পুলিশ হয়রানি করে বলে অভিযোগ করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা মণ্ডপে মণ্ডপে যাচ্ছেন। অনেকে নিজের নির্বাচনী এলাকায় গেছেন সেখানকার পূজামণ্ডপে গিয়ে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ও সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারসহ মহানগরের নেতারা বুধবার রামকৃষ্ণ মিশনের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

কাজী আবুল বাশার বলেন, ‘দলের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা মহানগরের সব পূজামণ্ডপে যাচ্ছি। হিন্দুধর্মালম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছি। অনেকে যার যার নির্বাচনী এলাকায় সময় দিচ্ছেন।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু বিভিন্ন মণ্ডপে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, ‘অন্যান্য বছরের মতো এবারও বরিশালে সব পর‌্যায়ের নেতাকর্মীরা পূজা উৎসবে যাচ্ছেন। হিন্দুধর্মালম্বীদের সুবিধা-অসুবিধায় পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি আমাদের সাধ্যমতো তাদের সাহায্য-সহযোগিতার চেষ্টা করছি।’

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে